ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চল

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চল
17 Nov 2022, 09:15 AM

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চল

দীপান্বিতা ঘোষ

 

অবস্থান: মূলত রাজস্থান এবং গুজরাট, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সামান্য অংশ জুড়ে অবস্থিত ভারতের এই মরু অঞ্চলের নাম থর।

আয়তন: মরুভূমির ¾  অংশ ভারতে এবং ¼  অংশ পাকিস্তানের অন্তর্গত।

ভারতের মরু অঞ্চল

উত্তর-দক্ষিণে 680  কিমি দীর্ঘ

পূর্ব-পশ্চিমে 300 কিমি প্রশস্ত

সমগ্র থর মরুভূমির আয়তন 2 লক্ষ 69 হাজার বর্গ কিমি।

 

থর মরুভূমি সৃষ্টির কারণ:

রাজস্থানের ভৌগলিক অবস্থানই এই রাজ্যের পশ্চিমাংশে মরুভূমি সৃষ্টি করতে সাহায্য করেছে ।

a) অত্যধিক উষ্ণতা: রাজস্থানের পশ্চিমাংশে মরু অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা( ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর বেশী) এত বেশি যে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হতেই পারেনা বরং অত্যধিক উষ্ণতার কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায় ।

b) বৃষ্টিপাতের অভাব: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আরব-সাগরীয় শাখা পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিমে বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর যখন সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ উপকূলে পৌঁছায় তাতে জলীয় বাষ্প থাকে না।

c)পর্বতের অবস্থান: আরাবল্লী পর্বত মৌসুমী বায়ুর গতির সমান্তরালে অবস্থিত ফলে মৌসুমী বায়ু পর্বত দ্বারা বাধা না পেয়ে মহাদেশের আরও অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ থাকে না, ফলে বৃষ্টিও  হয় না ।

দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাও  উত্তর পূর্ব ভারতে অত্যাধিক বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর হিমালয়ের কোল ঘেঁষে যতই পশ্চিমে এগোতে থাকে তাতে জলীয় বাষ্প কমে ও বৃষ্টিপাত কমে। মূলতঃ মৌসুমী বায়ুর 2 টো শাখাই বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে না। যার পরিণতিতে থর মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য: ভূপ্রকৃতি তারতম্য অনুসারে ভারতের মরু অঞ্চল কে 5  ভাগে ভাগ করা যায় —--

 

বাগার:

মরু অঞ্চলের পূর্ব দিকে আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে সামান্য তৃণ্য আচ্ছাদিত বালুকাময় অংশ।

বৈশিষ্ট্য:

i)এখানকার অধিকাংশ স্থান ঘাসে ঢাকা।

ii) অঞ্চলটি মরুভূমি ও সমভূমির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় একে অর্ধ-মরু অঞ্চল বলে।

iii) এর কোন কোন অংশে কৃষিকাজ হয়।

 

রোহি:

 আরাবল্লীর পশ্চিম অংশের সংকীর্ণ প্লাবনভূমি অঞ্চলকে রোহি বলে।

বৈশিষ্ট্য:

i) আরাবল্লী থেকে বয়ে আসা নদী গুলির পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত।

ii) মাঝে মাঝে প্লাবন সৃষ্টি হয় 

iii) অঞ্চলটি বেশ উর্বর।

 

ক্ষুদ্র মরু: রোহির পশ্চিমের সংকীর্ণ বালুকাময় অংশকে ক্ষুদ্র মরু বলে।

বৈশিষ্ট্য:

i) বালি দ্বারা গঠিত এই অংশে ছোট ছোট বালির ঢিবি দেখা যায়।

ii) এই অংশের পর থেকে প্রকৃত মরু শুরু হয়।

হামাদা:

ক্ষুদ্র মরুর পশ্চিমে বালি ও শিলাখণ্ড দ্বারা গঠিত অঞ্চল হল হামাদা।

বৈশিষ্ট্য:

i) এই অংশে বালি ছাড়াও পাথর খণ্ড থাকে।

ii) দু একটি গাছপালা দেখা যায়।

মরুস্থলী: হামাদার পশ্চিমে কেবল বালি দ্বারা গঠিত রুক্ষ শুষ্ক উদ্ভিদহীন হল মরুস্থলী।

বৈশিষ্ট্য:

১। বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে এই অংশে শুধু বালি দেখা যায়।

২ এর অধিকাংশই পাকিস্তানের অন্তর্গত।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্য:

ধ্রিয়ান: থর মরুভূমির চলমান বালিয়াড়িকে ধ্রিয়ান বলে।

প্লায়া: মরু অঞ্চলের লবনাক্ত জলের হ্রদ গুলিকে বলে প্লায়া।

ধান্দ: এখানকার শুষ্ক হ্রদগুলিকে বলে ধান্দ। যেমন, সম্বর (বৃহত্তম), দিদওয়ানা, দেগানা

রাণ: মরু অঞ্চলের নীচু অংশে জল জমে যে হ্রদ সৃষ্টি হয় তাকে রাণ বলে।

লুনি: রাজস্থানের মরু অঞ্চলের প্রধান নদী লুনি।

লেখক: ভূগোলের শিক্ষক, নান্দারিয়া হাইস্কুল, শালবনি, পশ্চিম মেদিনীপুর।

Mailing List