ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: ভারতের ভূপ্রকৃতি, বৈচিত্র্য, ভূমিরূপ ও অবস্থান

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: ভারতের ভূপ্রকৃতি, বৈচিত্র্য, ভূমিরূপ ও অবস্থান
06 Nov 2022, 12:48 PM

ছোটদের ভূগোল শিক্ষা: ভারতের ভূপ্রকৃতি, বৈচিত্র্য, ভূমিরূপ ও অবস্থান

দীপান্বিতা ঘোষ

 

ভারত সুবিশাল দেশ এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে এর বিভিন্ন অংশ গঠিত হওয়ায় ভারতের ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময়। ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভারতকে 5 টি প্রধান ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়।

 

1.উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল।

2.উত্তরের সমভূমি অঞ্চল।

3.উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল।

4.উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল

5.দ্বীপপুঞ্জ।

 

 

1.উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল।

ভারতের উত্তরের এই পার্বত্য অঞ্চলকে চার ভাগে ভাগ করা যায়—

A) কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী

B) লাদাখ পর্বত শ্রেণী

C) হিমালয় পর্বতশ্রেণী

D) উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল ও মেঘালয় মালভূমি।

 

A.কারাকোরাম পর্বতশ্রেণী

অবস্থান: জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে হিমাদ্রি হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত।

দৈর্ঘ্য: প্রায় 400 কিমি।

উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ: গডউইন অস্টিন, হিডেক পিক। গডউইন অস্টিন বা K2 ভারতের উচ্চতম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ(8611 মিটার)।

হিমবাহ: কারাকোরামের সিয়াচেন ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ।

বসুধার ধবলশীর্ষ:

উচ্চতা খুব বেশি বলে কারাকোরাম পর্বতের শীর্ষ দেশ সারাবছর বরফে ঢাকা থাকে। সেজন্য কারাকোরাম পর্বতকে " বসুধার ধবল শীর্ষ " বলা হয়। সংস্কৃত ভাষায় একে" কৃষ্ণগিরি"ও বলে।

B.লাদাখ পর্বতশ্রেণী

অবস্থান: সিন্ধু নদ ও শিয়ক নদীর মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত।

দৈর্ঘ্য: 350 কিমি।

গড় উচ্চতা: 5300 মিটার।

 

ভারতের উচ্চতম মালভূমি: লাদাখ পর্বতশ্রেনীর উত্তর পূর্বে অবস্থিত লাদাখ মালভূমি ভারতের উচ্চতম মালভূমি।

গিরিপথ: খারদুঙলা এই পর্বতের প্রধান গিরিপথ।

হ্রদ: জম্মু কাশ্মীরের পূর্ব সীমানায় প্যাংগং হ্রদটি উল্লেখযোগ্য।

 

C.হিমালয় পর্বতশ্রেণী:

 

 অবস্থান: 'হিমালয়' শব্দের অর্থ "বরফের বাসস্থান" ভারতের একেবারে উত্তরে এই পার্বত্য অঞ্চল অবস্থিত।উত্তর-পশ্চিমে নাঙ্গা পর্বত থেকে শুরু করে উত্তর পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারোয়া পর্যন্ত ধনুক বা আধখানা চাঁদের মত অবস্থান করছে।

দৈর্ঘ্য: পশ্চিমে জম্মু কাশ্মীরের নাজ্ঞা পর্বত থেকে পূর্বে অরুণাচলপ্রদেশের নামচাবারোয়া পর্যন্ত প্রায় 2500 কিমি দীর্ঘ।

প্রস্থ: 300 থেকে 500 কিমি। গড়ে 250 কিমির মতো।

আকৃতি: কতকটা ধনুকের মতো।

ভূপ্রকৃতি:

হিমালয় পৃথিবীর নবীনতম ভঙ্গিল পর্বত। এর গঠন কাজ এখনো চলছে। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

i)উত্তর দক্ষিনে বা প্রস্থ বরাবর।

ii)পূর্ব-পশ্চিমে বা দৈর্ঘ্য বরাবর।

 

i) প্রস্থ বরাবর: উত্তর থেকে দক্ষিণে বা উপর-নিচে হিমালয়পর্বতমালাকে চার ভাগে ভাগ করা যায়—-

a) ট্রান্স বা টেথিস বা তিব্বতীয় হিমালয়।

b) হিমাদ্রি বা গ্রেট হিমালয়                                              

c) হিমাচল বা মধ্যহিমালয়

d) শিবালিক বা বহিঃহিমালয়

 

a) টেথিস বা ট্রান্স হিমালয়

 অবস্থান:

হিমালয়ের 4 টি পর্বত শ্রেণীর মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত। ভারতের জম্মু- কাশ্মীর ও হিমাচলপ্রদেশে কিছু অংশ থাকলেও এর অধিকাংশই তিব্বতে অবস্থিত ,তাই এর নাম তিব্বতীয় হিমালয়।

উৎপত্তি:

টেথিস নামক মহীখাতে 12 কোটি বছর আগে প্রথম ভূ- আলোড়নে হিমালয়ের এই অংশ সৃষ্টি হয় বলে একে টেথিস হিমালয় বলে।

বৈশিষ্ট্য: 

i) টেথিস হিমালয় ধীরে ধীরে তিব্বত মালভূমিতে মিশেছে।

ii) এখানকার গড় উচ্চতা 3000 – 4000 মিটার।

iii)  হিমালয়ের এই অংশে জাস্কর পর্বত অবস্থিত।এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ লিওপারগেল(7420 মিটার)

iv) এই অংশের প্রধান পর্বত কারাকোরাম, লাদাখ,জাস্কর।

v) গডউইনঅস্টিন বা K2, গাসেরব্রুম i, ii, লিওপারগেল,ব্রডবিক প্রভৃতি এখানকার উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ।

সৃষ্টির সময় কাল:  12 কোটি বছর আগে

দৈর্ঘ্য:  ভারতে দৈর্ঘ্য 1000 কিমি।

প্রস্থ: 40 থেকে 225 কিমি ।

গড় উচ্চতা: 3000 থেকে 4000মিটার।

 

b)হিমাদ্রি বা গ্রেট বা বৃহৎ হিমালয় বা  প্রধান বা অন্তর্হিমালয়:

 

অবস্থান: টেথিস ও হিমাচল হিমালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

সৃষ্টি: টেথিস হিমালয়ের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে (প্রায় 7 থেকে 12 কোটি বছর আগে )প্রথমবার ভূ-আলোড়নের সময় এই অঞ্চলেরও উত্থান ঘটে।

   ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

i) হিমাদ্রির গড় উচ্চতা 6000 মিটারের বেশি।

ii) এই অংশে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট ,পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এছাড়াও অন্নপূর্ণা, নন্দাদেবী, কেদারনাথ, মাকালু, ধবলগিরি প্রভৃতি শৃঙ্গ অবস্থিত।

iii) শৃঙ্গগুলিতে সারা বছর বরফ জমে।

iv) হিমাদ্রির দৈর্ঘ্য 2500 কিমি, প্রস্থ 25 কিমি।

v) নাথুলা, জোজিলা, বুর্জিলা, জেলেপলা, সিপকিলা প্রভৃতি গিরিপথ রয়েছে।

vi) প্রধান হিমবাহ গঙ্গোত্রী যমুনোত্রী

সৃষ্টি:  7 থেকে 12 কোটি বছর আগে

দৈর্ঘ্য: নাঙ্গা পর্বত থেকে নামচাবারোয়া পর্যন্ত।

গড় বিস্তার: 25 কিমি।

গড় উচ্চতা: 6000 মিটরের বেশি।

 

c) হিমাচল হিমালয় বা মধ্য হিমালয়

 

অবস্থান: হিমাদ্রি হিমালয়ের দক্ষিণে যে সুউচ্চ পর্বতশ্রেনী পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত তাকে হিমাচল হিমালয় বা অবহিমালয় বলে।

উৎপত্তি: আজ থেকে প্রায় 2.5 থেকে 3 কোটি বছর আগে দ্বিতীয়বার প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে হিমাচল বা মধ্য হিমালয়ের উৎপত্তি ঘটে।

 

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:

i) গড় উচ্চতা 3500 থেকে 4500 মিটার।

ii) পীর পাঞ্জাল, ধওলাধর, মুসৌরি, নাগটিব্বা প্রভৃতি পর্বতশ্রেণী এখানে অবস্থিত।

iii)   এখানকার প্রধান গিরিপথ বানিহাল, পীর পাঞ্জাল, সোলারগড়, বুন্দিলগীর।হিমাচল হিমালয়ে রয়েছে এশিয়ার দীর্ঘতম জওহর টানেল বা সুড়ঙ্গ।এর অপর নাম বানিহাল।

iv) কাশ্মীর উপত্যকা, দার্জিলিং, সিমলা, নৈনিতাল,মানালি, মুসৌরি সৌন্দর্যময়স্থান গুলি এখানে অবস্থিত।

সৃষ্টির সময় কাল: 2.5 থেকে 3 কোটি বছর আগে

দৈর্ঘ্য: 3500 কিমি

চওড়া: 60 থেকে 80 কিমি

উচ্চতা: 35 থেকে 4 হাজার 500 মিটার।

 

d) শিবালিক বা বহিঃহিমালয়

অবস্থান:  হিমালয়ের একেবারে দক্ষিণতম অংশ।

উৎপত্তি:  হিমাদ্রি ও হিমাচল থেকে আগত নদীসমূহের নুড়ি,বালি,পলি সঞ্চয়ের ফলেএবং 20 লক্ষ থেকে 2 কোটি বছর আগে তৃতীয়বার প্রবল ভূ আলোড়ন এর ফলে এর সৃষ্টি হয়েছে।

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

i) শিবালিকের গড় উচ্চতা 600 থেকে 15000 মিটার ।

ii) দৈর্ঘ্য 2500 কিমি এবং প্রস্থ 15 থেকে 50 কিমি।

iii)শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝে সংকীর্ণ উপত্যকাকে দুন বলা হয়। যেমন দেরাদুন, কোটা,পাটলি।

সৃষ্টি: কুড়িপক্ষ থেকে 2 কোটি বছর আগে

দৈর্ঘ্য: 24 কিমি

চওড়া: 15 থেকে 50 কিমি

উচ্চতা: 600 থেকে 15 মিটার

 

দৈর্ঘ্য বরাবর আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারেহিমালয়ের শ্রেণীবিভাগ

 

আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পশ্চিম থেকে পূর্বে হিমালয় পর্বতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—

1.পশ্চিম হিমালয়

2.মধ্য হিমালয়

3.পূর্ব হিমালয়

1. পশ্চিম হিমালয়

নাঙ্গা পর্বত থেকে নেপালের কালী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত জম্মু কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্যের মধ্যে অবস্থিত হিমালয়ের অংশকে পশ্চিম হিমালয় বলে।

অবস্থান  ও ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে পশ্চিম হিমালয় কে 3 ভাগে ভাগ করা যায়।

 যথা—---

a.কাশ্মীর হিমালয়

b.হিমাচল হিমালয়

c.কুমায়ুন হিমালয়

 a. কাশ্মীর হিমালয়

 অবস্থান ও আয়তন:  জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের3.5 লক্ষ বর্গ কিমি অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত l

পর্বতশ্রেণী:

শিবালিক, পিরপাঞ্জাল , জাস্কার ও লাদাখ প্রভৃতি এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণী । কাশ্মীর হিমালয়ের উত্তরে রয়েছে কারাকোরাম পর্বত শ্রেণী। এই পর্বতশ্রেণীর গডউইন অস্টিন বা K2  8611 মিটার পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।

উপত্যকা:

এখানে পিরপাঞ্জাল ও জাস্কার এর মধ্যে রয়েছে ভূস্বর্গ কাশ্মীর উপত্যকা।

গিরিপথ: প্রধান গিরিপথ গুলি হল বানিহাল(জওহর টানেল), জোজিলা, পিরপাঞ্জাল, বুন্দেলপীর। জোজিলার দক্ষিনে রয়েছে হিন্দু-তীর্থস্থান অমরনাথ গুহা।  

হ্রদ: কাশ্মীর হিমালয়ের মধ্যে বেশ কিছু হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ দেখা যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডাল, উলার ,নাগিন ,আনজার প্রভৃতি।

b. হিমাচল হিমালয় ও পাঞ্জাব হিমালয়:

অবস্থান ও আয়তন: হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবের কিছু অংশ নিয়ে প্রায় 64,000 বর্গকিমি অঞ্চলজুড়ে হিমাচল হিমালয় বিস্তৃত।

গড় উচ্চতা: পশ্চিম হিমালয়ের এই অংশের গড় উচ্চতা 3500 থেকে 4500 মিটার।

পর্বত শ্রেণী: ধওলাধর, পিরপাঞ্জাল, মুসৌরি, নাগটিব্বা প্রভৃতি এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণী।

উপত্যকা: এখানকার বিখ্যাত উপত্যকাগুলি হল কুলু, কাংড়া লাহুল, স্পিটি।

গিরিপথ: রোটাং, রওলাচলা প্রভৃতি গিরিপথ উল্লেখযোগ্য। বিখ্যাত রোটাং গিরিপথের মধ্য দিয়ে মানালি থেকে লাহুল উপত্যকা যাওয়া যায়।

c. কুমায়ুন হিমালয়

অবস্থান ও আয়তন: উত্তরাখণ্ড রাজ্যের প্রায় 46 হাজার বর্গ কিমি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত।

গড় উচ্চতা: 6000 মিটারের বেশি

পর্বত শ্রেণী: শিবালিক ও মুসৌরি এখানকার প্রধান পর্বতশ্রেণী। এই অংশে বেশকিছু তুষারাবৃত উঁচু উঁচু শৃঙ্গ রয়েছে যেমন নন্দাদেবী (7816 মিটার), কেদারনাথ (71 88 মিটার) কামেট, গঙ্গোত্রী ত্রিশূল প্রভৃতি।

হিমবাহ: কুমায়ুন হিমালয় এর উল্লেখযোগ্য হিমবাহ গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, মানা, মিলাম।

উপত্যকা: এই অংশের দক্ষিনে বেশকিছু উপত্যকা বা  দুন আছে ।যথা —দেরাদুন, চৌখাম্বা, কোটাপাতিয়া।

হ্রদ: এখানে কিছু হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ আছে  যা তাল নামে পরিচিত ।যেমন নৈনিতাল, সাততাল ,ভীমতাল,পুনতাল।

2. মধ্য হিমালয়

এটি নেপাল রাষ্ট্রের অন্তর্গত। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট( 8848 মিটার) এই হিমালয়ের মধ্যে অবস্থিত।

3. পূর্ব হিমালয়

নেপালের পূর্ব সীমার সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণী থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারোয়া শৃঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয়ের অংশকে পূর্ব হিমালয় বলে।

বিভাগ:

পূর্ব হিমালয়কে 3 ভাগে ভাগ করা যায়—--

  1. দার্জিলিং সিকিম হিমালয়
  2. ভুটান হিমালয়
  3. অরুণাচল হিমালয়

1.দার্জিলিং- সিকিম হিমালয়

অবস্থান:

পূর্বে সিঙ্গালিলা থেকে পশ্চিমে ডঙ্গকিয়ালা পর্যন্ত এই অংশ বিস্তৃত।এখানে শিবালিকের অস্তিত্ব প্রায় নেই।পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম/ হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম/ ভারতে অবস্থিত হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা এখানে অবস্থিত ।

পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকাফু এখানে অবস্থিত।

উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ:

    কাঞ্চনজঙ্ঘা (8586মিটার), সান্দাকাফু (3636 মিটার), ফালুট (3596 মিটার), সবরগ্রাম (3543 মিটার) এখানকার উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গ।

হিমবাহ: জেমু, তালুং এখানকার উল্লেখযোগ্য হিমবাহ।

গিরিপথ: নাথুলা, জেলেপলা।

হ্রদ: মিরিক, ছাঙ্গু।

2. ভুটান হিমালয়

                     ভুটান রাষ্ট্রের অন্তর্গত।

3.অরুণাচল হিমালয়

অবস্থান :

 ভুটানের পূর্বসীমা থেকে নামচাবারোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এবং আসম ও অরুণাচল প্রদেশে অবস্থিত।

পর্বত শ্রেণী: শিবালিক, হিমাচল ও হিমাদ্রি এই 3 টি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী দক্ষিণ থেকে উত্তরে পর পরপর অবস্থিত।

শৃঙ্গ: পূর্ব হিমালয়ের এই অংশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নামচাবারোয়া(775 6 মিটার)।

পাহাড়: ডাফলা, কৃষ্ণ, মিরি প্রভৃতি হলো এই অংশের বিচ্ছিন্ন পাহাড়।

গিরিপথ: উল্লেখযোগ্য গিরিপথ ডোমলা, তুলুঙলা, ঠগলা, বুমলা। (লা অর্থ গিরিপথ)।

 

D. উত্তর-পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি বা পূর্বাচল

এর দুটি উপবিভাগ—-

a)উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চল, b)মেঘালয় মালভূমি

a)উত্তর পূর্বের পাহাড়ি  অঞ্চল

অবস্থান:

উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয়, মনিপুর ,মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা পূর্বাচলের অন্তর্গত।এই অঞ্চলের উত্তর থেকে দক্ষিনে বিস্তৃত পাহাড় গুলি হল— পাটকোইবুম, নাগা পাহাড় কোহিমা পাহাড়, নাগা পাহাড়ের সরামতী (3862 মিটার) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, কোহিমা পাহাড়ের জাপভো (2295 মিটার) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

 

b) মেঘালয় মালভূমি

মেঘালয় মালভূমিটি মূলত ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ। প্রাচীনকালে এই মালভূমির মাঝের অংশ বসে গিয়ে মূল মালভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করছে। এখানকার গারো, খাসি, জয়ন্তিয়া ক্ষয়জাত পাহাড়।

 শিলং পাহাড়ের শিলং (1961 মিটার) এখানকার সর্বোচ্চ অংশ তাছাড়া গারো পাহাড়ের নকরেক (1412 মিটার) ও মিকির পাহাড়ের ডাম বুকচো (1363 মিটার) বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

লেখক: ভূগোলের শিক্ষিকা, নান্দারিয়া হাইস্কুল, শালবনি, পশ্চিম মেদিনীপুর।

Mailing List