ফল-ফুলের চারার জগতে গৌরীশঙ্কর মন্ডল যেন রামধনু, ঝুলিতে পুরষ্কার দেখলে অবাক না হয়ে উপায় নেই

ফল-ফুলের চারার জগতে গৌরীশঙ্কর মন্ডল যেন রামধনু, ঝুলিতে পুরষ্কার দেখলে অবাক না হয়ে উপায় নেই
19 Feb 2022, 05:59 PM

ফল-ফুলের চারার জগতে গৌরীশঙ্কর মন্ডল যেন রামধনু, ঝুলিতে পুরষ্কার দেখলে অবাক না হয়ে উপায় নেই

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: গোলাপ প্রেমের প্রতীক। প্রেম-ভালোবাসা আছে অথচ গোলাপ নেই, এটা হতেই পারে না। সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় ফুল ছিল গোলাপ। তাঁর বাগানেও নাকি গোলাপ ফুলের আতিশয্য ছিল নজর কাড়া। পরবর্তীকালেও গোলাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা চর্চা হয়েছে শুধু নয়, এখনও হয়ে চলেছে। ফলে জন্ম নিয়েছে রকমারি গোলাপ। একই ফুলে একাধিক রঙ থেকে শুরু করে একই গাছে নানা রঙের ফুল। সুগন্ধ নিয়েও অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে।

সকলেই বিশ্বজুড়ে এই পরীক্ষা নিরীক্ষা চলার কথা জানেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত মেদিনীপুরের এক ব্যক্তি যে গোলাপকে এক অনন্য রূপ দিয়েছেন, তা হয়তো এখনও অনেকের অজানা। শুধু গোলাপ কেন, বিভিন্ন প্রজাতির ফল, ফুল থেকে শুরু করে ঘরের অন্দর সজ্জার উপকরণ – সব কিছুতেই অসাধারণ দখল তাঁর। তিনি হলেন গৌরীশঙ্কর মন্ডল।

গৌরীশঙ্কর মন্ডলকে নিয়ে বেশি কিছু বলার প্রয়োজন হয় না। কারণ, তাঁর দখলে থাকা পুরষ্কারগুলিই বলে দেয়, ফুলের জগতে বা বাগান তৈরিতে তাঁর স্থান ঠিক কোন জায়গায়।

এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক তাঁর পুরষ্কারের ঝুলিটি –

অল ইন্ডিয়া রোজ কম্পিটিশনে ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে -দু’বার কলকাতায় ‘প্রিন্সেস অব রোসেস’।

২০০৬ সালে ভূবনেশ্বরে ৪ গ্রুপস চ্যাম্পিয়ান।

২০১০ সালে মুম্বইতে ‘প্রিন্সেস অব রোসেস’

২০১২ সালে টাটাতে ‘বেস্ট অব দ্য শো’।

 

না, এখানেই শেষ নয়। এ তো গেল সর্বভারতীয় স্তরের পুরষ্কার। এর বাইরেও রয়েছে অন্যান্য পুরষ্কার। সেগুলি হল -

অল বেঙ্গল রোজ কম্পিটিশনে ৯ বার চ্যাম্পিয়ান।

এগ্রি হর্টিকালচার সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার বিচারে ৬ বারের চ্যাম্পিয়ান

১৯৮৯ সালে অল রোজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান।

 

এখন আর তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন না। একটা সময় ছিল যখন তিনি অংশ নিচ্ছেন জানলে অনেক প্রতিযোগী দুশ্চিন্তায় থাকতেন। কারণ, সকলেই বুঝে নিতেন গৌরীশঙ্কর মন্ডল মানেই যে পুরষ্কার ছিনিয়ে নেবে।

একটি সাধারণ গোলাপ যেখানে দেড় দু’মাস গাছে থাকে সেখানে গৌরীশঙ্কর মন্ডলের তৈরি গোলাপ গাছে ফুল থাকে প্রায় ৯ মাস! শীতের দেশের ফুলকেও অবলীলায় এ দেশে ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর অর্কিড যেন মিষ্টি হাসি দেয়। আর ছোট্ট গাছেও ঝুলে থাকে একাধিক মোসাম্বি! গৌরীশঙ্কর মন্ডলের কথায়, ‘‘মানুষ অনেক সময়েই ভালো ফল-ফুলের চারা পান না। অনেকেই ঠকতে হয়। কিন্তু আমি যে গাছের চারা বানায়, তা সব দিক দিয়েই খাঁটি। ফুল-ফলের চারা নিয়ে মানুষকে ঠকাতে চাই না। কারণ, এসব যে মানুষের ভালোবাসা। তাই তো বাগান তৈরি করেন, বাড়িতে রাখেন।’’

তাঁর নার্সারিতে শুধু সমস্ত ধরণের চারা গাছ মেলে তা নয়, গাছের পরিচর্যারও তো দরকার। কিন্তু তার জন্য প্রকৃত সার, ওষুধ পাবেন কোথায়? সে জন্য নিজেই সার, ওষুধও রাখেন। সার, ওষুধ কিনলেই তো হবে না, তার প্রয়োগও জানা জরুরি। সে ব্যাপারেও কিন্তু পরামর্শ দেন তিনিই। আর এভাবেই গাছের চারার জগতে নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন গৌরীশঙ্কর মন্ডল।  

Mailing List