ইকবাল রাশেদীন এর চারটি কবিতা

ইকবাল রাশেদীন এর চারটি কবিতা
27 Feb 2022, 11:15 AM

ইকবাল রাশেদীন এর চারটি কবিতা

ইকবাল রাশেদীন

 

▪️হিম অরণ্যে▪️

 

আত্মনির্ভরশীল হতে চেয়েছিলাম কিংবা জানি না কী!

বনের যতোটা গভীরে যাওয়া যায় – তাঁবু ফেললাম

লেক ও শটি বনের কোল ঘেঁষে। আমাদের সাথে ছিল

ছুরি স্বপ্ন এবং কিছু কফিবীন। জল গরম করবার

পুরনো একটি পাত্রও রয়েছে সাথে।

 

উচুন্টি ঝোপের নীচে জমে আছে গভীর কুয়াশা। পাতার

ফাঁকে অন্ধকার, সুখের মতো নেমে আসছে, ধীরে। ডানা

ঝাপটানো শব্দ, পাখির, জোনাকি আলোয়। জুতোয়

আওয়াজ তুলে বনের আলপথে হাঁটছি। গাড়ির বুটে

শুকনো কিছু খাবার ফেলে এসেছি।

 

কোনো পুস্তক বা মিউজিক প্লেয়ার সাথে নেই। নারীদের

আমরা বিদায় জানিয়ে এসেছি, শুরুতে। আমাদের

চলাফেরা কিছুটা বুনো জানোয়ারের মতো।

 

 

▪️আবার অরণ্য▪️

 

আমাদের এইদিকে তেমন কোনো অরণ্য ছিল না

একদিন মধ্যাহ্নে আমরা বাস থেকে নেমে পড়লাম

পথের শেষে। এরপর ভিটেবাড়ির পতিত জঙ্গল

ছায়াচ্ছন্ন পথে-পথে নানা রঙের কাঁটামুকুট

বুনো তুলসী, কুঞ্জলতা, আর গন্ধ মাদুলির সৌরভ

নাগপল্লির ঝোপ পেরিয়ে যেতেই আমি তোমাকে

সাপের মতো হিসহিস করে জড়িয়ে ধরলাম

 

নগরে এমন সুযোগ আমাদের কতবার এসেছে

প্রথম আলিঙ্গনের জন্যে তবু অরণ্যের কাছেই

আমরা শান্ত ছুটে গিয়েছিলাম

 

 

 ▪️বৃষ্টির রঙ▪️

 

যে বৃষ্টির ফোঁটাগুলি এখন ঝরে পড়ছে

সেগুলি সোনা রঙের, রোদ ঝলমলে দিন

 

গভীর রাত্রিতে

কালোসবুজ হাতের মতো শ্যামল বৃষ্টি নামবে

বিকেলে মেঘ করে এলে দেখেছি রূপালী বৃষ্টির রঙ

মধুপুর অরণ্যে সবুজ বৃষ্টি একদিন কথা বলেছিল

বেতুয়া পাহাড়ে দাঁতরাঙা বৃষ্টি কুয়াশার মতো

 

এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন আমি সত্যি কোনোদিন শুনিনি

 

তুমি জানতে চাইলে—

তোমার মতন বৃষ্টির রঙ কোনোদিন দেখেছি কি–না?

 

 

▪️যেভাবে প্রতিবিম্ব তৈরি হয়▪️

 

মধ্যরাতের পর লোকটির মনে হয় সে একা

 

পুরানো খড়খড়ি তুলে

তখন সে বাইরে তাকায়

সেখানে আটান্নর অন্ধকারে ছাইরঙা বাতাস

খেলা করে

 

বাকিটা সময়

ঝিলমিল তুলে তাকিয়ে থাকলে

মনে পড়ে –

ঘাসফুল ছোটোনুখা তিতপাখি

 

একটি তিতপাখি ছিল তার, হারিয়ে গেছে

 

লেখক: কবি ও নাট্যকার, ঢাকা, বাংলাদেশ

 

Mailing List