শুভজিৎ মুখার্জীর চারটি কবিতা

শুভজিৎ মুখার্জীর চারটি কবিতা
26 Jul 2020, 10:43 AM

শুভজিৎ মুখার্জী চারটি কবিতা

 

সাধ

আমি যদি হতেম জাদুকর !

চতুর্দিকে বদলে দিতেম,

বিশ্ব মাঝে গড়ে নিতেম

আপন খেলাঘর।

 

যেথা নাইকো ব্যথা, দু:খ রাশিরাশি---

শুধু কল্পনা আর ভালোবাসার হাসি,

এদিক-ওদিক ছড়িয়ে থাকে।

জাদুর খেলা কাজের ফাঁকে,

চলছে নিরন্তর।

ওগো,  আমি যদি হতেম জাদুকর !

 

অনেক কিছুই সাধ ছিল, তাই

চোখ বুজিয়ে স্বপ্নে মেটাই---

জীবন বড় কঠিন, ভয়ঙ্কর।

আহা, আমি যদি হতেম জাদুকর !

...............

 

 

 

 প্রকৃতির সন্তান

 

শখ হল মম, গেলাম পাহাড়ে ;

পেঁজা তুলো সম মেঘের ভেলারে,

করিতে আলিঙ্গন

কখনো বা ছুটি সাগর কিনারে,

বালু পরে লুটি স্নান করিবারে---

প্রকৃতির অঙ্গন ।

 

যদি নাহি যাই কোথাও সুদূরে,

চোখ মেলে চাই ঘরের অদূরে,

প্রকৃতির লীলাভূমি ---

একা গান গাই প্রকৃতি সুরে,

উদাস হয়ে যাই, চেয়ে থাকি দূরে

কখনো তাহারে চুমি ।

 

প্রচন্ড জ্বালা প্রাণ বাহিরায়,

রৌদ্রের মালা জগত শুকায় ;

চারিদিকে হাহাকার ---

জলাশয় পানে সবে ছোটে হায় ;

আমি আম-বনে, গন্ধে মাতায়

কচি মুকুলের ঝাড় !

 

বাদলা দুপুরে নিদ নাহি আসে,

কাজলা পুকুরে কত ফুল ভাসে ;

নিরব নিরীক্ষণ।

কত ঘনঘটা, মেঘ করে আসে

ঘর পানে ছোটা --- বিদ্যুৎ হাসে,

প্লাবনের লক্ষণ ।

 

আসে ধীরে, ধীরে, শরতের কাল

কাশফুল ঘিরে ফড়িং-এর পাল,

অস্থির চঞ্চল ---

শহরে ও গ্রামে দেখি একই হাল,

তোড়জোড় জমে, বোধন অকাল ;

ব্যস্ত সব অঞ্চল ।

 

মাঠে ঘাটে দোলে পাকা ধান-শীষ,

প্রকৃতির কোলে লক্ষ্মীর আশীষ,

নবান্নের ঘ্রাণ ---

বুক ভরে নেই, মনে ভাবি ইস !

প্রতিবছরেই হেমন্ত আনিস,

কার্তিক অঘ্রাণ ।

 

শীত আসে ক্রমে, উত্তুরে হাওয়া ;

চেয়ে থাকি ভ্রমে, পাতা ঝরে যাওয়া

হয়েছে কি শুরু ?

হৃদয়ের ফাঁকে করে আসা যাওয়া,

অচিন পাখির মিঠে গান গাওয়া ----

বুক কাঁপে দুরু দুরু ।

 

ফাগুনের দিন নামে চারিপাশে,

জীবন রঙিন করে দিতে আসে

প্রকৃতির শ্যামলিমা ----

আমি দেখি চেয়ে, লোকে গায়-হাসে,

প্রেমার্ত হয়ে কভু ভালোবাসে ---

বেঁচে থাকার এই গরিমা ।

 

দিন চলে যায়, 'জীবনের ফাঁকি'

ধরা নাহি যায়, বুকে ব্যথা ঢাকি ---

তবু কেঁদে ওঠে প্রাণ ।

রয়ে গেল দেখা, কত কিছু বাকি

আমি আজি একা ধ্যানে বসে থাকি,

প্রকৃতির সন্তান ।

.................

 

 

 কৈশোরানুরাগ, অতীতে

 

কিশোর :

" এইযে, বইয়ের ভাঁজেতে ঢুকিয়ে,

লুকিয়ে এ ঢিঠিখানি দিচ্ছি ।

পেনটাকে কাগজে বুলিয়ে,

বুক ভরা আশা তুলে নিচ্ছি ।

 

জানতে চাইলে, কিসের এত আশা !

বলবো তোমায়, আমার ভালবাসা----

আছে, তোমায় ঘিরে আমার স্বপ্ন রাঙিয়ে ।

 

এইযে, বইটি আমার পায়রা হয়ে উড়ে,

আশায় ভরা আমার চিঠিখানি---

নিয়ে গেল, ওরই হাতে করে

পাঠিয়ে দিও তোমার জবাবখানি "।

 

কিশোরী :

এইযে, আশা-ভালোবাসার ব্যাপারে

বলতে পারে ক'জন ?

আপনি সে বেগ উপচে পড়ে,

মিললে আপনজন ।

 

চতুর্দিকে নানান সাজে

রং-বেরং - এর মজা !

সুপ্ত ছিল, মনের মাঝে

তুললো খুশীর ধ্বজা ।

 

ধন্য তোমার স্বপ্ন-গলি,

যা আমাকেও ছুঁয়ে গেল ।

বাধ্য হয়েই বই-কে বলি,

আবার পাখনা মেলো ।

 

এইযে, গল্প পড়া হোলো না আর

দারুন একটা সুখে,

জানতে পেরে জানাই, তোমার

আসন আমার বুকে ।

............

 

 

 

তালা-তলানি নির্যাস

 

মানব-জনম পেয়ে

ছিনু সুখী, হেসে-গেয়ে,

ছয়খানি ঋতু-রিপু জড়িয়ে ---

সকাল-দুপুর-সাঁঝে,

চেনা-অচেনার মাঝে,

আপনারে কাজে-অকাজে ভরিয়ে ।

 

সহসা সে মহামারী---

এ বিশ্বে করে জারি

সম্ভাব্য মৃত্যু-পরোয়ানা ।

গরীব বা বড়লোক,

খ্যাত-অখ্যাত হোক,

ভবিতব্য সবারই অজানা ।

 

দিন আসে, দিন যায়,

জীবনটা অসহায় ----

চাওয়া-পাওয়া, ঘরে বা বাইরে !

কি বা লেখা কপালেতে,

কবে ছেড়ে হবে যেতে,

কোন জ্যেতিষীরই জানা নাইরে ।

 

তবুও যে কটা দিন

এ ধরা চির-রঙ্গীন,

প্রশান্তি লভি অনুভবে ---

শুধু ভালবেসে যাওয়া,

"মানুষ"-কে কাছে পাওয়া

পরিশেষে স্মৃতিটুকু রবে ।

Mailing List