তৃণমূলের বুথ সহ-সভাপতিকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল চার বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে 

তৃণমূলের বুথ সহ-সভাপতিকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল চার বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে 
24 Feb 2021, 09:15 PM

তৃণমূলের বুথ সহ-সভাপতিকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল চার বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে 

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

তৃণমূলের বুথ সহ-সভাপতিকে ‘খুন’ করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। মৃত ব্যক্তির নাম গৌতম ঘোষ(৪৮)। এই ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার বসন্তবাটি  গ্রামে।

ঘটনার খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ বসন্তবাটির মসজিদ পাড়ায় পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে বাধার মুখে পড়তে হয়। তৃণমূল সমর্থক গ্রামবাসী ও কর্মীরা পুলিশের সামনে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্বোচ্চায় হয়। তারা মেমারি-তারকেশ্বর রোডে মণিরামবাটি এলাকায় রাস্তার উপরে খড় ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে পথ অবরোধ করে রেখেও বিক্ষোভ দেখায়। পুলিশ কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মৃতর ছেলে সুরজ ঘোষ এদিনই এলাকার চার বিজেপিকর্মীর নামে জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত গৌতম ঘোষের ফাঁড়ি জামালপুরের চকদিঘি পঞ্চায়েতের বিষ্ণুবাটি গ্রামের ঘোষ পাড়ায়। তৃণমূল কংগ্রেস দলের সক্রিয় কর্মী গৌতম গ্রামের ১৮৩ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি ছিলেন। এদিন ভোরে  বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে স্থানীয় জাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের বসন্তবাটি গ্রামের মসজিদ পাড়ায় একটি আমগাছে গলায় গামছার ফাঁস লাগানো অবস্থায় গৌতমের মৃতদেহ ঝুলতে দেখেন সেখানকার বাসিন্দারা। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। 

মৃতের ছেলে সুরজ ঘোষ পুলিশকে জানিয়েছেন, “এলাকার বাড়ি বাড়ি ‘সজল ধারা’ পানীয় জল প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া নিয়ে  মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ স্থানীয় পার্থ ঘোষ, অর্ঘ্য ঘোষ, তাপস দাস ও নিরাপদ রায় নামে চার  বিজেপি কর্মীর  সঙ্গে তাঁর বাবার বচসা হয়। তখন ওই বিজেপি কর্মীরা তাঁর বাবাকে খুনের ‘হুমকি’ দেয়। এরপর ওই দিন রাতে পরিকল্পনা করে বিজেপি কর্মীরা অপরিচিত কাউকে দিয়ে ফোন করিয়ে তাঁর বাবাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে।’’ এমনটাই অভিযোগ মৃতর ছেলের।

মৃতের স্ত্রী অপর্ণাদেবী বলেন, তাঁদের সংসারে কোনও আশান্তি ছিল না। স্বামীর একমাত্র শত্রু ছিল বিজেপির লোকজন। তাই তিনিও মনে করছেন বিজেপির লোকেরাই তাঁর স্বামীকে খুন করেছে।

চকদিঘি পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল বলেন, “১১ মাস আগে গৌতম ঘোষ যখন দুধ বিক্রি করে মোটর বাইকে চেপে  বাড়ি ফিরছিল। তখন  বিজেপির লোকেরা হাঁসুয়া নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছিল। মাথায় হেলমেট থাকায় সেই বার গৌতম  রক্ষা পেয়ে যায়। এবার ভোটের আগে পরিকল্পনা করে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল কর্মী গৌতম ঘোষকে খুন করে দিল।” বসন্তবাটি এলাকা নিবাসী শেখ আয়ুব, শেখ হাসমত আলিদের দাবি, “যেভাবে দেহটি ঝুলছিল, তা দেখে তাঁদের মনে হয়েছে অন্য  কোথাও গৌতমকে প্রাণে মেরে দিয়ে এলাকার আমগাছে তার দেহ ঝুলিয়ে  দেওয়া হয়েছে।’’

জামালপুর ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি  ভূতনাথ মালিক অভিযোগে বলেন, তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী গৌতম দক্ষ সংগঠক ছিল। সেই কারণে ১১ মাস আগে গৌতমকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বিজেপি কর্মীরা। সেবার গৌতম রক্ষা পেয়ে গিয়েছিল। বিধানসভা ভোটের আগে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পনা করে  গৌতম ঘোষকে খুন করেদিল। পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভূতনাথ মালিক। জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শ্রীমন্ত রায়ের দাবি, অন্য কোথাও খুন করে গৌতম ঘোষকে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেই তাঁর মনে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শ্রীমন্তবাবু বলেন, গৌতমের পরণে থাকা পোশাক ও শারীরিক অবস্থা দেখে এটুকু বোঝা গিয়েছে খুনের  আগে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়েছিল।

যদিও মৃতের পরিবার ও তৃণমূল নেতৃত্বের  আনা এইসব অভিযোগ মানতে চাননি, জামালপুর বিধানসভার বিজেপির আহ্বায়ক জিতেন ডকাল। তিনি  বলেন, খুনের রাজনীতি বিজেপি করে না। গত এক বছরে এই রাজ্যে  শতাধিক বিজেপি কর্মীকেই খুন হতে হয়েছে। ভোটের আগে বিজেপি কর্মীদের ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। জিতেনবাবু আরও বলেন, আমরা চাই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক, ফরেন্সিক রিপোর্টও করা হোক। তাহলেই বোঝা যাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা, না খুনের ঘটনা। গৌতম ঘোষের মৃত্যুর পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও প্রভাব রয়েছে কি না তার তদন্তেরও দাবি করেছেন  জামালপুরের বিজেপি নেতৃত্ব।

এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) শেখ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “বিষ্ণবাটি গ্রামের গৌতম ঘোষের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের পরিবার অভিযোগ জানিয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর কারণ কী হতে পারে সেই বিষয়ে এসডিপিও এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Mailing List