বিশ্বে আতঙ্কের পাঁচ ট্রেন যাত্রা, প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর হাতছানি, কোথায় রয়েছে সেই রেলপথ

বিশ্বে আতঙ্কের পাঁচ ট্রেন যাত্রা, প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর হাতছানি, কোথায় রয়েছে সেই রেলপথ
22 Aug 2021, 12:27 PM

বিশ্বে আতঙ্কের পাঁচ ট্রেন যাত্রা, প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর হাতছানি, কোথায় রয়েছে সেই রেলপথ

 

কল্পনায় স্বর্গের একটা রূপ রয়েছে প্রত্যেকের মনেই। তাই তো মনের গোপনে কোথাও লুকিয়ে থাকে স্বর্গে পৌঁছনোর বাসনা। কিন্তু সে স্বর্গের অস্তিত্ব কেবলই কল্পনায়। কারণ, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ ততক্ষণ সেখানে পৌঁছনোর কথা ভাবারও উপায় নেই। অথচ, এ বিশ্বেই এমন বহু স্বর্গীয় দৃশ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির সেই উজাড় করা সৌন্দর্য হয়তো কল্পনার স্বর্গকে হার মানাতে পারে। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, কৃষি, অর্থনীতি, ভূপ্রকৃতি- সত্যিই অন্য অনুভূতি জাগায়। তারই পাশাপাশি মিলতে পারে অনেক অজানা তথ্য। বিশ্বজুড়ে এমন কত ছোটখাটো দেশ, ভাস্কর্য, রেলপথ ছড়িয়ে রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী লিখছেন-

দীপান্বিতা ঘোষ

 

          

আধুনিক গণপরিবহনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল রেল। কারণ, রেলপথ মাধ্যমেই আমরা অতি সহজে এবং দ্রুত অনেক মানুষজন একসাথে অন্যত্র যেতে পারে। এছাড়া পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তবে বিশ্বে এমন কিছু রেলপথ আছে যেগুলির উপর রেল চলাচলের দৃশ্য দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠার মতো। ওই রেলপথে ভ্রমণে যে প্রতি মূহুর্তে রয়েছে মৃত্যুর হাতছানি।

 ১. চেন্নাইয়ের রামেশ্বরম রেলপথ (Rameswaram rail line, Chennai, India)

     

এই রেলপথটি সমুদ্রের উপর দিয়ে গেছে। ২ কিমি লম্বা এই ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯১১ সালে। শেষ হয় ১৯১৪ সালে। অন্যান্য ব্রিজের সঙ্গে তফাৎ হল, এই ব্রিজটি অনেক নিচু এবং জলের খুব কাছাকাছি।

 

ট্রেন যখন ব্রিজের উপর দিয়ে যায়, ভয়ে গা শিউরে ওঠে। হঠাৎ জলোচ্ছাসে ট্রেন ডুবে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ১৯৬৪ সালে এমনই এক জলোচ্ছাসে ১৫০ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন।

 ২.  আলাস্কার হোয়াইট পাস এবং য়ুকন রেলওয়ে (White pass &Yukon Railway Route, Alaska)

 

    

১৭৫ কিমি দীর্ঘ এই রেলপথ আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে সংযোগ হিসেবে কাজ করে। এই রেলপথ আলাস্কার ভয়ঙ্কর জায়গার মধ্য দিয়ে গেছে।

 

১৮৭৯ সালে সোনা অনুসন্ধানের সময় এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়।

এই রেলপথের কিছু অংশ আজও কাঠের তৈরি। ভয়ঙ্কর জায়গা ছাড়াও ট্রেনটি ছোট ছোট সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যায়।

          

ট্রেন যখন উঁচু ব্রিজের উপর দিয়ে যায় তখন ভয়ে যাত্রীদের শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। কারণ, কখনও কখনও ব্রিজের উচ্চতা ৩ হাজার ফুটের বেশি থাকে।

শীতকালে এই পথ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। কারণ শীতল বাতাস আর অন্ধকার সুড়ঙ্গে যাত্রীদের রক্ত ভয়ে হিমশীতল হয়ে যায়।

৩. সুইজারল্যান্ডের আলবুলা রেলওয়ে (Albula Railway, Switzerland)

 

       

পাহাড়ের উপর অবস্থিত এই ট্রেন লাইন দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই রোমাঞ্চকর। আর রোমাঞ্চ সব সময় বিপদ কে সাথে নিয়ে চলে।

সুইজারল্যান্ডের এই রেলপথ এতোই সুন্দর যে UNESCO এটিকে World Heritage হিসেবে ঘোষণা করেছে।

  

৫৫ টি ব্রিজ ও ৩৯ টি সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই রেলপথকে দেখলে মনে হবে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম জায়গা।

আর এই সুন্দরতম রেলপথের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা হল Landwsher Bridge. মাটি থেকে ২১৩ ফুট উঁচু, চারদিকে সাজানো সুন্দর গাছের মধ্য দিয়ে ট্রেন যখন এঁকেবেঁকে উঠবে তখন ঐ ট্রেনে ভ্রমণ স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেবে।

জায়গাটি শুধু চোখ জুড়ানো নয়, সাহসেরও এক কঠিন পরীক্ষা নেবে এই রেলপথ।

৪. মায়ানমারের গোকটেক ভায়াডাক্ট (Gokteik Viaduct, Myanmar)

 

যাঁরা সব সময় রোমাঞ্চের সন্ধান করে থাকেন তাঁরা মায়ানমারে এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন।

মান্দালয় থেকে ১০০ কিমি উত্তর পূর্বে অবস্থিত এই রেলপথ Pyin Oo Lwin এবং Lashio এই দুই শহরকে যুক্ত করেছে।

এই পথের ভয়ঙ্কর ব্রিজটি কোরটিক ব্রিজ নামে পরিচিত। ভূমি থেকে ৩৩৫ ফুট উঁচু ব্রিজটি ১৯০০ সালে বানানো হয়েছিল।

   

প্রায় ১১৮ বছরের পুরানো এই ব্রিজটির উপর দিয়ে ট্রেন যখন খুব আস্তে আস্তে চলে তখন ভ্রমণকারীদেরও শ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হয়। তার পরেও পর্যটকরা এই রোমাঞ্চকর দৃশ্যটি তাদের ক্যামেরাবন্দি করতে ভোলেন না।

 

মৃত্যুর ভয় এবং বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ এক ভয়ংকর অনুভূতি এনে দিলেও এই অ্যাডভেঞ্চার উপভোগের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন।

৫. ইকুয়েডরের ডেভিলস নোজ ট্রেন (Devil's Nose Train, Ecuador)

 

 ইকুয়েডরে অবস্থিত পাহাড়ের এই অংশের আকৃতি মানুষের নাকের মতো। পাহাড়ের উপর দিয়ে ঘুরে ঘুরে গেছে ভয়ঙ্কর এই রেলপথটি।

     

এখানে জিগজ্যাগ রোডের কারণে ভ্রমণকারীদের কাছে প্রতি মূহূর্তেই মনে হবে ট্রেনটি উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছে।

পাহাড় কেটে কেটে এই রাস্তা বানানো, তাই এর একপাশে রয়েছে পাহাড় তো অন্যপাশে রয়েছে সুগভীর খাদ।

      

এখানে ট্রেন খুব ধীর গতিতে সামনের দিকে এগোতে থাকে। পাহাড়ের গা বেয়ে রাস্তা তৈরি হওয়ায় রেলপথটিও বারেবারে বাঁক নিয়েছে। আর প্রতিটা বাঁকেই মনে হবে এই বুঝি ট্রেন উপর থেকে নিচে পড়ে গেলো। সব মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর অনুভূতি এনে দেবে এই রেলপথ।

ads

Mailing List