রেহান কৌশিকের পাঁচটি কবিতা

রেহান কৌশিকের পাঁচটি কবিতা
24 Apr 2022, 10:15 AM

রেহান কৌশিকের পাঁচটি কবিতা

রেহান কৌশিক

 

সাপলুডো

 

সাপের অনতিদূরে রাখা আছে সিঁড়ি...

সাপ চেনো, সিঁড়ি চেনো। অত:পর যাকে চাও, ছুঁয়ে দাও তাকে।

 

এই তো সামান্য দিন, জল ও মাটির খুব নিবিড়ে এসেছ

যদি পারো অজটিল রং দিও অনাদি-আত্মাকে।

 

সাপ সত্য, সিঁড়ি সত্য। পতনের ঠিক পাশে জেগে থাকে চূড়ান্ত উত্থানও।

কাকে বলে প্রেম আর কাকে বলে শুধুমাত্র মোহ

তা কি আজও সুনিশ্চিত জানো?

 

সাপ আছে, সিঁড়ি আছে, দ্যাখো

কাকে তুমি টান দেবে, সে কেবল তোমার ব্যাপার।

সকলেরই এক হাতে আলো

                                  অন্য হাতে গাঢ় অন্ধকার...

                                      >>>>

 

ভালোবাসার কথা

 

পোড়ে কেউ ক্রমাগত, কথাহীন-কথার ভিতর

যেভাবে ইঁটের পাঁজা দিনে-দিনে মূল্যবান হয়।

 

কে তাকে প্রকৃত চেনে? কে কবে ডেকেছে তাকে, কাছে?

গাঢ়তর অভিমান ডেকে আনে সময়ের ক্ষয়।

 

প্রকৃত হৃদয় জেনো--- শব্দে নয়, মুগ্ধতায় হাঁটে।

যেন-বা আদিম অশ্ব আরণ্যক জ্যোৎস্নার ভিতর

 

খোঁজ করে শর্তহীন হ্রেষাধ্বনি,  লাবণ্যের ডাক

খোঁজ করে শব্দহীন আশ্রয়ের নুড়ি ও পাথর।

 

দুই

 

ভেঙে যাচ্ছে সান্ধ্যকাল। ভেঙে যাবে রাত্রিকালও আজ।

ডাকো ডাকো, তাকে ডাকো। ডাকো আজ অন্তর্গত স্রোতে।

 

দেওয়ার ভিতরে জেনো, জমা হয় নেওয়ার মোহর।

তুলে নাও দূরত্বের বিষ, যতখানি জমিয়েছ ঠোঁটে।

 >>>>

 

বিস্ফোরক

 

পাখি যখন ডাকে, আমি তলোয়ারে শান দিই। আজান যখন ভোরের আলোকে সুগন্ধী করে তোলে, আমি বোমা বানাই। আঙুলে লেগে থাকে তীব্র বিস্ফোরক।

 

আমার সামনে যে-রেললাইনটা পড়ে আছে, তার শেষ স্টেশানের নাম কী? এ খবর আমার জানা নেই। শুধু জানি সমস্ত বেঁচে থাকা এই পথ ধরে যাবে।

 

গরুমারার অরণ্যে বাইবেলের মতো বয়স্ক যে-টুনগাছ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, একদিন প্রার্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে তার কাছে চেয়েছিলাম দু-হাতে কাজ দাও। একহাতে দিয়েছে এ.কে ফোর্টিসেভেন, অন্যহাতে ধারাভি-বস্তিতে নামা সন্ধের হাহাকার!

 

শাসক জানে--- দেশদ্রোহী না-বানালে দেশপ্রেমের বক্তব্য পানসে হয়ে যাবে সংসদভবনে। ছায়াযুদ্ধের বাজেটে সংশয় জানাবে বিরোধীপক্ষও।

 

সুতরাং, পাখি যখন ডাকে, আমরা তলোয়ারে শান দিই। আজান যখন ভোরের আলোকে সুগন্ধী করে তোলে, আমরা বোমা বানাই। আঙুলে লেগে থাকে তীব্র বিস্ফোরক।

>>>> 

 

দেশ

 

সহস্র গাধার ডাকে কেঁপে ওঠে ভোর

ভোরের চোয়াল থেকে ঝরে পড়ে রক্তমাখা লোভ!

 

      পাখি আছে, শব্দহীন। অবিন্যস্ত ওড়ে।

      তাদের ডানায় আজ কে দিল আগুন?

      পালকের পোড়া গন্ধে ঢেকে যায় আকাশের মুখ...

 

সকালের ফণা হয়, জানো?

জানা ছিল কারও কোনোদিন?

দ্যাখো, ওই বিষ নামে মাঠে ও নদীতে

            প্রান্তরে-প্রান্তরে নীল হয় ধুলো

            জলে ভাসে মৃত-ডিঙি হাজার-হাজার...

 

চিতা হয়ে দুপুরের দেহ

দুলে ওঠে জমিনে-আশমানে...

        ছাই আর আগুনের জিভ খুলে নেয় সবার বসত

        কারও কোনো প্রতিরোধ নেই

        বিকার জাগে না কারও স্মৃতি সব ভষ্মময় দেখে!

 

আহ! রাত্রি... আহ! রাত্রি...

ভল্ল-বেঁধা শূকরের ডাক যেন

        ক্রমশ স্তিমিত হয় সময় গড়ালে

        মুছে যায় সমস্ত প্রমাণ

        হত্যাকাজে ব্যবহৃত সমস্ত আয়ূধ!

 

তারও পরে কিছু থাকে আর?

কিছু থাকে তারও পরে আর?

 

থাকে বন্ধু? থাকে দেশ? থাকে মাটি, জল?

হয় না কি চিহ্নহীন--- এই বেঁচে-থাকা?

           হয় না কি অন্ধকার, সমস্ত অতল?

 

মানুষ ছিল না শুধু মানুষের পাশে

মানুষের পাশে কোনো মানুষ ছিল না বলে

 

           সময় গিয়েছে ভেসে বিষময় জলে

           সময় চলেছে ভেসে বিষময় জলে!

           জেগে নেই বন্ধু কোনো আর

           জেগে নেই দেশ

           জেগে আছে মৃত পাখি, জেগে আছে দ্বেষ...

                    >>>>

 

Mailing List