পার্থপ্রতীম মিশ্রের পাঁচটি কবিতা

পার্থপ্রতীম মিশ্রের পাঁচটি কবিতা
19 Jul 2020, 10:59 AM

পার্থপ্রতীম মিশ্রের পাঁচটি কবিতা

 

পোস্টমর্টেম

দুপুর বয়স রেখে ভাঙা সাইকেলে বেল না বাজিয়ে চলে গ্যাছো দুপুরের অন্দরে...

 

আসন্ন সন্ধ্যায় পোস্টমর্টেম ঘিরে মৌসুমি বিস্ফোরণ।

 

কেউ কি সাক্ষী ছিল হলুদ পাতা ঝরা কিংবা ঘুণপোকার ডাকে!

অথবা তপ্ত দুপুরেই ঝিঁঝিঁ পোকার প্ররোচনা ছিল।

 

এই চলে যাওয়ায় ছিল তালসারি দিঘির অশ্রু কাজল নাকি ভাস্কর্যের সারাৎসার হলুদ আঁচল।

 

অন্ধকারে ভুঁই চাঁপার গান না শুনিয়ে তাকে ডেকে নিল গাজন পবন!

               …………………..

 

তর্পণ

অদৃশ্য ছায়া মেখে হাত উল্টে আছি।

পাতা ছুঁয়ে জলের ভাষায় ভাসেনি গা।

দু'বেলা রং মেখে সং সেজে দিব্যি কুড়োই সিংহাসন...

 

করতলেই বাঁচে তবু বিশ্বস্ত গান। এক আঁজলা জলেই ভাসে পূর্ণ কলস...

 

তর্পিত মুদ্রায় সেই পূর্ণতার নিচে প্রসারিত কত চাতক করতল...

              ………………..

 

পঁচিশে বৈশাখ

বৈশাখী পঁচিশ এসে ধূপের ধোঁয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে তাঁর কথার নূপুর...

 

নূপুর তালে কৃষ্ণচূড়া লজ্জায় লাল। রাধাচূড়া আরও উজ্জ্বল হল ক্রমশই...

যাবতীয় দহন শুষে সুরভিত কনকচাঁপা!

 

উলঙ্গ দুপুর পায়ে একাকী সন্তর্পনে হেঁটে যায় ডাহুক...

 

সূর্যাস্ত আলোর ডানা ফসলশুন্য মাঠের কাছে পালক ছড়িয়ে ফিরে গেল অন্ধকার নীড়ে, আরো এক আলো জ্বালবে বলে...

এদিকে বুদ্ধ পূর্ণিমার চাঁদ আরো রহস্যময়ী, আলো ছড়িয়ে ছড়িয়ে সাঁতরে যাচ্ছে কোথায়...

 

জানি, সবই জানি তাকেও সাজিয়েছো তুমি।

        …………….

 

অক্টোপাস

জ্বলন্ত আঁচের ভিতর

পোড়া কাঠ কয়লার ধিকি ধিকি আগুন

উপরে মৃতের রুপালী আঁশের পাহাড়

ঘুমিয়ে আছে ঝরা পালকের বিছানায়।

 

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এখনও ঘুমায়

জ্বালামুখে জমে থাকা ম্যাগমা

অন্ধকারে মাথা ঠুকে ঠুকে পাথর হয়।

শামুকের প্যাচানো খোলসের কুণ্ডলী পাকানো দিন

 হেঁটে চলে মাংসল পায়ে...

 

উদ্ভ্রান্ত চোখের তারা থমকে দাঁড়ায়,

সরষেফুল চোখে মুখে পরাগ  জড়ায়।

মিলন কি তবে নিশ্চিত?

না, কেন্নোর মতো স্পর্শ এড়িয়ে তোমরাও চলে যাও...

কসাইখানা আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়।

তোমরা তো প্রেমিক নও, অক্টোপাস।

       ………………………

 

শূন্যতত্ত্ব

শূন্যতা শূন্য নয়। শূন্যতায় ছুটে আসে প্রতিবেশী ঝড়। শুরু হয় তাণ্ডব। তান্ডবের ভেতরে গুপ্ত থাকে উলট পুরাণ।

 

ঠিক শূন্য এ বুকে শুয়ে থাকে নদী; গোধূলির বেলাভূমি জুড়ে। নদী সোহাগী সেও সেজে ওঠে বালুচরি শাড়ি গায়ে ষোড়শী রাগে...

 

ভালোবাসার এইসব স্থাপত্যের শারীরিক ভাষায় তটভূমির তাল- তমালের বন পেরিয়ে রহস্যময়ী সন্ধ্যা ও অবগুন্ঠন টেনে সন্ধারতি করে।তার সান্ধ্য ভাষায় গড়ে ওঠে শাব্দিক নোঙর।

                  …………..

 

Mailing List