পুরুলিয়ার আনাড়া থেকে টলি-বলিপাড়া, লম্বা সফরের ইতি টানলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

পুরুলিয়ার আনাড়া থেকে টলি-বলিপাড়া, লম্বা সফরের ইতি টানলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত
10 Jun 2021, 09:30 PM

পুরুলিয়ার আনাড়া থেকে টলি-বলিপাড়া, লম্বা সফরের ইতি টানলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: একের পর এক নক্ষত্র পতনে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন বর্ষীয়ান চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (Buddhadeb Dasgupta)। তিনি শুধু পরিচালক ছিলেন না, তাঁর মধ্যে  ছিল একধারে কবিসত্ত্বা এবং অপরদিকে বিরাজ করতো সাহিত্য স্বত্ত্বাও। সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পকে নিজের ছবির গল্পে তুলে আনতেন বুদ্ধদেব। সত্যজিৎ রায় (Satyajit Roy), ঋত্বিক ঘটক (Rittik Ghatak), মৃণাল সেন (Mrinal Sen) কিংবা তপন সিনহার (Tapan Sinha) পর বাংলা ছবির পরিচালকদের মধ্যে যাঁর নাম প্রথমে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। কিংবদন্তি পরিচালকের প্রয়াণে একটি যুগের অবসান ঘটলো।

 

১৯৪৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পুরুলিয়ার আনাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। নয় জন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তাঁর বাবা তারাকান্ত দাশগুপ্ত পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। রেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাই একাধিক জায়গায় ঘুরে ফিরে বড় হয়েছেন পরিচালক। মাত্র ১২ বছর বয়সে কলকাতায় চলে এসে ছিলেন। হাওড়ার দীনবন্ধু স্কুলে শুরু হয় তাঁর পড়াশুনো। স্বাধীনতার পর তাঁর বাবার খড়গপুর এবং ঝাড়খণ্ডে বদলি হয়ে যায়। অর্থনীতি নিয়ে স্কটিশ চার্চ কলেজেও পড়াশোনা করেছেন বুদ্ধদেব। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্যামসুন্দর কলেজে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। এরপর ছবি তৈরির ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। কলকাতা ফিল্ম সোসাইটির সদস্যপদ গ্রহণ করেন তিনি।

 

১৯৬৮ সালে ১০ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র তৈরির মধ্য দিয়ে পরিচালনায় হাতে খড়ি হয় তাঁর।এরপর ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর প্রথম ফিচার ছবি 'দূরত্ব'।এরপর তিনি তৈরি করেছেন 'নিম অন্নপূর্ণা', 'গৃহযুদ্ধ', 'ফেরা', 'বাঘ বাহাদুর', 'তাহাদের কথা', 'চরাচর', 'উত্তরা', 'মন্দ মেয়ের উপাখ্যান', 'স্বপ্নের দিন','কালপুরুষ' এর মতো অসংখ্য কালজয়ী ছবি। তাঁর নয়টি ছবি জিতে নিয়েছে জাতীয় পুরস্কার। 'উত্তরা' এবং 'স্বপ্নের দিন' ছবির জন্য তিনি পেয়েছেন সেরা পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের পাশাপাশি সাহিত্যের জগতেও সঙ্গে ছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। একাধিক কবিতার বইও রয়েছে তাঁর।

শুধু টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood) নয়, বলিউডে ও ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। ১৯৮৪ সালে দীপ্তি নাভাল এবং মহেশ ভাটকে নিয়ে বুদ্ধদেব তৈরি করেছিলেন তাঁর ডেবিউ হিন্দি ছবি 'আঁধি গলি'। এরপর বি-টাউনে দীর্ঘ বিরতি। ২৯বছর পর ২০১৩ সালে তৈরি করেছেন তাঁর দ্বিতীয় হিন্দি ছবি 'আনোয়ার কা আজব কিস্সা'। সেই ছবিতে অভিনয় করেছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি, পঙ্কজ ত্রিপাঠির মতো নামী অভিনেতারা। এরপর ২০১৯ সালে মুক্তি পেয়েছে পরিচালকের (Film Director) শেষ ছবি ‘উড়োজাহাজ’।

 

একাধিক পুরষ্কারও পেয়েছেন তিনি। পরিচালক হিসেবে যেমন একাধিক জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন, তেমনই ফিচার ফিল্ম তৈরি থেকে স্ক্রিন প্লে, বায়োগ্রাফিক্যাল ফিল্ম প্রভৃতি বিষয়েও জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি।

 

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর মত এত বড় মাপের পরিচালকের প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

Mailing List