শান্তিনিকেতনের পরিবেশে অভিনব রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন গোদাপিয়াশাল‌ এমজিএম হাইস্কুলে

শান্তিনিকেতনের পরিবেশে অভিনব রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন গোদাপিয়াশাল‌ এমজিএম হাইস্কুলে
09 May 2022, 04:00 PM

শান্তিনিকেতনের পরিবেশে অভিনব রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন গোদাপিয়াশাল‌ এমজিএম হাইস্কুলে

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে গোদাপিয়াশাল এমজিএম হাইস্কুলের বটবৃক্ষ তলের খোলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হলো রবীন্দ্র জয়ন্তী। শুরু থেকে শেষ, সব কিছুতে ছিলেন রবি ঠাকুর। অতিথি বরণ করা হয় শান্তিনিকেতন থেকে আনা রবীন্দ্র প্রতিকৃতি দিয়ে। সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় অমলতাস চারা গাছ দেওয়া হয়। পুষ্পার্ঘ নিবেদন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করার ক্ষেত্রটি ছিলো আম্র কুঞ্জের তলায় রবীন্দ্র প্রতিকৃতিতে।

এখানেই শেষ নয়, চেতনে রবীন্দ্রনাথ আনতে রাখা হয় একটি ডাইরি। যেখানে অতিথি থেকে শুরু করে দর্শক পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের পর দু চার কথা লিপিবদ্ধ করবেন। এহেন ভাবনা সত্যি অভিনিব। সেই সাথে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ এর চেতনাকে জাগ্রত করতে অঙ্কন প্রতিযোগিতাও রাখা হয়। সেখানেও রবীন্দ্রনাথ। আঁকার বিষয় ছিলো রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি। এভাবে এই অভিনব আয়জনের খামতি রাখেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয়ের কচিকাঁচাদের সাথে সাথে মেদিনীপুর থেকে সংগীত শিল্পী আলোকবরণ মাইতি, নৃত্যশিল্পী ঈশিতা চট্টোপাধ্যায় যেমন ছিলেন তেমনই ছিলো বাঁশির সুর, আর খোলের তালে বাউলের সুরে রবীন্দ্র বন্দনা। তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক বরুন মন্ডলের উদ্যোগে এই রবীন্দ্র জয়ন্তী গোদাপিয়াশাল স্কুলের শান্ত পরিবেশ যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতন রচনা করে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকার সাথে সাথে পাশের বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পিয়ালী সামন্ত ও সহ শিক্ষিকাগন সহযোগিতা করেন। সেই সাথে ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহের সাথে আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এটা আমাদের অভিভূত করেছে।

তথ্য সংকৃতির আধিকারিক বরুন মন্ডল বলেন, গোদাপিয়াশাল স্কুলের পরিবেশ একটি মিনি শান্তি নিকেতন আর মনিকাঞ্চন বাবুর এহেন ভাবনায় রবীন্দ্র জয়ন্তী এক অন্যমাত্রা এনে দিয়েছে। শুরু থেকে শেষ ছত্রে ছত্রে রবীন্দ্রনাথ কে স্মরণ করে রাখার ত্রুটি উনি করেননি। মুখ্য আলোচক কবি সাহিত্যিক নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, এই স্কুলের ছাত্র হয়ে আজকে আবার এই স্কুলে এমন একটা পরিবেশে রবীন্দ্রনাথ কে স্মরণ করতে পেরে ভালো লাগছে। সকল শিক্ষক শিক্ষিকার আন্তরিকতা ও আয়োজন মন ছুঁয়ে গেছে। আলোক বরণ মাইতি বলেন, এমন সুন্দর পরিবেশে যে ইচ্ছে করেছিল সারাদিন গান করে যেতে। উপায় নেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলেছি যদি কখনো সুযোগ পাই এই পরিবেশে আবার গান শোনাতে আসবো।

আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও সমাজসেবী সুদীপ খাঁড়া, শিক্ষক ও শিল্পী নরসিংহ দাস, সহ বহু গুনীজন। সকলকে সম্মানিত করা হয় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। বিদ্যালয়ের সংকৃতিক সম্পাদক সুকুমার দাস ও শিবপ্রসাদ কুন্ডু বলেন, এমন প্রোগ্রাম তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর আমাদের স্কুল কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আমরা চেষ্টা করেছি সফল করার। আগামীদিনে এমন প্রোগ্রাম হলে পূর্ণাঙ্গ সাহায্য করবো আমরা।

বিদ্যালয়ের ভূগোল শিক্ষক তথা আজকের অনুষ্ঠান ও ভাবনার মুল কান্ডারি মনিকাঞ্চন রায় বলেন, আমরা খুব কমসময়ে যতটা সম্ভব চেষ্টা করলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কে প্রতিটি মানুষের মননে নিবেশ করাতে। আগামীদিনে আরো ভালো করে অনুষ্ঠান করার ভাবনা থাকলো। আজকের সঞ্চালক তথা বাচিক শিল্পী শুভদীপ বসুর সুচারু সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান এক অন্য মাত্রা পায়। সব শেষে শিল্পী নরসিংহ দাস এক অভিনব সৃষ্টি (স্ক্রু দিয়ে রবীন্দ্রনাথ প্রতিকৃতি) নিজ হাতে তুলে দেন জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক বরুন মন্ডলের হাতে।

ads

Mailing List