একবিংশ শতাব্দীতেও ধোঁয়াহীন, রোমান্টিক শহরের নাম ভেনিস, ইটালির আশ্চর্য শহরে রয়েছে ১১৮ দ্বীপ, ১৭৭ খাল, আর ৪০৯ সেতু!

একবিংশ শতাব্দীতেও ধোঁয়াহীন, রোমান্টিক শহরের নাম ভেনিস, ইটালির আশ্চর্য শহরে রয়েছে ১১৮ দ্বীপ, ১৭৭ খাল, আর ৪০৯ সেতু!
18 Jul 2021, 12:30 PM

একবিংশ শতাব্দীতেও ধোঁয়াহীন, রোমান্টিক শহরের নাম ভেনিস, ইটালির আশ্চর্য শহরে রয়েছে ১১৮ দ্বীপ, ১৭৭ খাল, আর ৪০৯ সেতু!

 

কল্পনায় স্বর্গের একটা রূপ রয়েছে প্রত্যেকের মনেই। তাই তো মনের গোপনে কোথাও লুকিয়ে থাকে স্বর্গে পৌঁছনোর বাসনা। কিন্তু সে স্বর্গের অস্তিত্ব কেবলই কল্পনায়। কারণ, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ ততক্ষণ সেখানে পৌঁছনোর কথা ভাবারও উপায় নেই। অথচ, এ বিশ্বেই এমন বহু স্বর্গীয় দৃশ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির সেই উজাড় করা সৌন্দর্য হয়তো কল্পনার স্বর্গকে হার মানাতে পারে। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, কৃষি, অর্থনীতি, ভূপ্রকৃতি- সত্যিই অন্য অনুভূতি জাগায়। তারই পাশাপাশি মিলতে পারে অনেক অজানা তথ্য। বিশ্বজুড়ে এমন কত ছোটখাটো দেশ রয়েছে, দেশের মধ্যে রয়েছে শহর, তা আমরা কতটুকু জানি। বিশ্বের তেমনই একটি বিখ্যাত শহরের জন্মবৃত্তান্ত থেকে বর্তমান সময় নিয়ে লিখছেন-

 

দীপান্বিতা ঘোষ

 

সমুদ্রের নীল জলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আস্ত একটা শহর! এক লহমায় মনে হবে, জলের উপর শহরটি যেন ভেসে বেড়াচ্ছে হওয়ায় হাওয়ায়। যে কোনও মূহূর্তে ঢেউ এর আঘাতে হয়তো চলে যাবে অন্য কোনও প্রান্তে। দৃষ্টিনন্দন এই ভাসমান শহরটির নামই হল ভেনিস।

 

আজ শহরটি যতটাই দৃষ্টিনন্দন, তার জ‌ন্মবৃত্তান্ত কিন্তু ততটাই বেদনাময়। এক সময় বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে পড়ে কিছু মানুষ নিজেদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বহু কষ্টে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে প্রথমে তিনটি দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন তা ১১৮ দ্বীপের শহর।

 

ভ্রমনপ্রিয় যে কোনও মানুষেরই অবশ্য গন্তব্য হওয়া উচিত এই ভাসমান শহর, রোমান্টিক শহর, ঐতিহাসিক শহর, ভালোবাসার শহর (city of love), সর্বোপরি মানুষের দ্বারা, মানুষের হাতে তৈরি ইতালি তথা ইউরোপের অন্যতম সেরা আকর্ষণীয় শহর।

 

শহর নির্মাণের গল্প:

        

এই শহরের নির্মাণ শুরু পঞ্চম শতক। পশ্চিম রোম সাম্রাজ্যের পতনের শুরুর দিকে, উত্তরের দিক থেকে নিষ্ঠুর ও অসভ্য জাতি রোমের পুরনো অঞ্চলগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উঠে পড়ে লাগে। নিরীহ বাসিন্দাদের উপর বর্বর হামলা চালানো এবং লুঠপাট খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।

 

এসব হামলা থেকে বাঁচার জন্য বাসিন্দারা অন্য কোথাও ঘরবাড়ি তৈরির প্রয়োজন অনুভব করে। ভূমি ছেড়ে জলাভূমির উপর বাসস্থান নির্মাণই তাদের কাছে উপযুক্ত বলে মনে হয়। বালুময় ৩ টি দ্বীপ- টরসেলো (Torrcello), জেসোলো (Jesolo) এবং মালামোক্ক-র (malamocco) কাছেই শুরু হয় ভেনিস শহরের নির্মাণ।

 

বাসস্থানের ভিতকে মজবুত ও টেকসই করতে এখানকার বাসিন্দারা ব্যবহার করতো কাঠ। কাঠের খুঁটি, কাঠের পাটাতন একের পর এক জোড়া লাগিয়ে শুরু হয় ভেনিস নির্মাণের কাজ।

          

কোনও ভবন বা সেতু নির্মাণে লোহা ও কংক্রিটের বদলে কাঠের ভিত্তির উপর নির্মাণ কাজ দেখে অবাক হতেই হয়। জলের নীচে কাঠের খুঁটি! তা সত্ত্বেও তা পচে যাচ্ছে না। এটাই রীতিমতো ভাবার বিষয়।

      

ভেনিস শহর নির্মাণে ব্যবহৃত হয় ওক ও লার্চ গাছের কাঠ। শত শত বছর ধরে জলের নীচে থাকা এসব গাছের ভিত্তিই ভবন গুলোকে নিজের জায়গায় ধরে রেখেছে। এইসব গাছগুলি জল-প্রতিরোধী। তাই জলের গভীরে থাকলেও তাতে পচন ধরে না।

         

এছাড়া জলাভূমির গভীরে থাকা খুঁটির নিচের অংশে প্রতিনিয়ত নুড়ি, পাথর, মাটি এসে জমা হয়। যা খুঁটি গুলোর সাথে মাটির সংযোগ আরও মজবুত করে।

অবস্থান, আয়তন, জনসংখ্যা:

               

আড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলবর্তী ব্রেন্টা ও সিলে নদীর মোহনায় অবস্থিত এই ভেনিস শহরটি মূলত ১১৮ টি ছোট-বড় দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। এই দ্বীপগুলির আবার অনেক গুলিই আবার মানুষের তৈরি। ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে শক্তিশালী নৌবাহিনীর কল্যানে এই ভেনিস অন্যতম বিত্তশালী জনপদে পরিণত হয়েছিল। অবশ্য ২০০ বছরের মাথায় ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দাপটে ভেনিস তার প্রভাব হারিয়ে ফেলতেও সময় নেয়নি।

 

বর্তমানে প্রায় ৪১৭.৫৭ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ভেনিস এর জনসংখ্যা ২ লক্ষ ৬২ হাজার (২০১৭ সালের জনগণনা অনুযায়ী)।

       

১১৮ টি দ্বীপ, ১৭৭ টি খাল, আর এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য রয়েছে ৪০৯ টি সেতু। বাড়িগুলোর সামনে স্বচ্ছ জলের থৈ থৈ রাস্তা।

বর্তমান অবস্থা:

            

ভেনিসের মতো নান্দনিক শহর পৃথিবীতে খুব কমই আছে। ভেনিসে নেই কোনও কোলাহল। নেই যান্ত্রিক ব্যস্ততা। প্রশান্তির চাদর বিছিয়ে রাখা পুরো শহরময়। শুধুমাত্র পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে শহরটি। এখানে স্থলপথ নেই বললেই চলে। ইউরোপের একমাত্র মোটরগাড়িহীন ও একবিংশ শতাব্দীতেও গাড়ির ধোঁয়াহীন শহরের উদাহরণ হল ভেনিস।

     

ভেনিস শহরের পৌরসভার বিধান অনুযায়ী, ৪৫ জন কাউন্সিলর আছেন। তাঁরা প্রতি ৫ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হন। ভেনিস শহরটি মূলত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

রোমান্টিক শহর:

               

ভেনিসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোহনীয় সৌন্দর্য। ভেনিসের মতো নান্দনিক শহর পৃথিবীতে খুবই কম আছে। পুরো শহরের বুক জুড়ে থাকা জলে প্রাসাদের প্রতিচ্ছবির সঙ্গে আকাশের মেঘেরাও জলে লুটোপুটি খায়। অপূর্ব সুন্দর এই শহরটি তাই সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয়। ভেনিস সারা বছর পর্যটকে মুখরিত। প্রতিদিন গড়ে ৬০,০০০ পর্যটক এই শহরের রহস্য জট খুলতে, ভেনিসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

  

শহরটির শিল্প স্থাপত্য যে কারও মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি বাড়িই যেন এক একটি নান্দনিক স্থাপত্য, রঙ-বেরঙয়ের কারুকার্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জলের মধ্যে।

 

ইতিমধ্যে পর্যটকদের চাপে পরিবেশ গত নানা যে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর দেওয়া সিদ্ধান্ত মতে ভেনিস বর্তমানে বিপদাপন্ন অবস্থায় আছে। সমাধান পর্যটক সংখ্যা কমাতে হবে।

ঐতিহ্যবাহী 'গন্ডোলা' (Gondola):

 

ঐতিহ্য অনুযায়ী ভেনিসে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যেতে সঙ্গী একমাত্র ছোট ডিঙি নৌকা। বাড়ির ঘাটেই বাঁধা থাকে নিজস্ব নৌকা অথবা স্পিড বোট।ভেনিসের জলযানের একটি আকর্ষণীয় রোমান্টিক জলযান হোলো "গন্ডোলা"। চমৎকার কারুকার্যে খচিত, শিল্পীর শৈল্পিক ছোঁয়ায় ফুটে ওঠা গন্ডোলায় চড়ে নদীর জলে ভাসতে ভাসতে দেখে নিতে পারবেন ভেনিসের পর্যটন কেন্দ্রের প্রধান আকর্ষণ গুলো। অথবা খালের পাশ ঘেঁষে যাওয়া রাস্তা দিয়ে ঘুরতে পারবেন অনায়াসে। মজার বিষয় হচ্ছে.... আপনি যতই হাঁটুন....চারপাশ জলবেষ্টিত হওয়ায় ভেনিসের প্রধান দ্বীপের বাইরে চলে যাওয়ার ভয় নেই। তাছাড়া একটু পর পরই কিছু না কিছু চোখে পড়বে... কোনও প্রাচীন চার্চ, কোনও মিউজিয়াম বা প্রদর্শনী, মুখোশ/ হ্যাট/ নানা রঙের কাঁচের জিনিসের দোকান তো আছেই।

গন্ডোলার মাঝি হতে গেলে মানতে হয় বেশ কিছু নিয়ম কানুন। নিতে হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ। পর্যটকদের সাথে কথা বলতে শিখতে হয় বিদেশী ভাষাও। কেউ কেউ তো গান গেয়ে মুগ্ধ করেন গন্ডোলার যাত্রীদের। গন্ডোলিয়া অনেকটা সৌখিন পেশা। শুনতে অদ্ভূত মনে হলেও, এই কারণেই অনেক যুবক মাঝি হওয়ারও স্বপ্ন দেখেন।

 

 

City of love:

 

ভেনিসের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মোহনীয় সৌন্দর্য। রোমান্টিক শহরটি নবদম্পতিদের হানিমুনের জন্য দারুন জনপ্রিয় একটা জায়গা। তাই এই শহরকে " city of love" বলেও ডাকা হয়।

স্বর্গীয় ভালোবাসা প্রাপ্তি:

 

সান মারকো ও সান পলো জেলা দুটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত "গ্র্যান্ড ফ্যানাল"এর উপর রয়েছে প্রাচীনতম সেতু "রিয়ালটো ব্রিজ।

ব্রিজ থেকে ক্যানাল বা খালের দৃশ্যটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। প্রচলিত আছে প্রেমিক প্রেমিকারা সূর্যাস্তের সময় ব্রিজের নিচে উপস্থিত হন। ক্যাম্পানাইল গির্জায় ঘন্টা গুলো বাজার সঙ্গে সঙ্গে পরস্পরকে চুম্বন করলে তারা স্বর্গীয় ভালোবাসা লাভ করে। প্রচলিত এই মিথ আর খালের দুই পাশে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রূপ নকশায় সাজানো বাড়িগুলো পর্যটকদের টানে অন্যরকম মাদকতায়।

মুখোশের শহর (city of masks -venice):

 

ভেনিসের রঙ বেরঙের মুখোশ গুলি জগৎ বিখ্যাত। বিশেষ থিমে বানানো মুখোশ পরে পালিত হয় প্রধান দুই উৎসব। সারা বছরই চলে তার বিকিকিনি। যারা মুখোশ তৈরি করে তাদেরও একটা বিশেষ সম্মান আছে সমাজে। এই মুখোশের কোনটা পাখির ঠোঁট, কোনটা বিশালাকৃতির, কোনটা পালকময় আবার কোনটা মুখের অবয়বে তৈরি।

 

গ্র্যান্ড ক্যানাল (Grand Canal) ও রিয়ালটো ব্রিজ (Realto Bridge):

 

মাকড়সার জালের মতো পুরো ভেনিস জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য খাল। এরই মাঝে শহরকে দ্বি-খণ্ডিত করেছে গ্র্যান্ড ক্যানাল।

      

খালের দুই পাশকে সংযুক্ত করেছে চমৎকার সব সেতু। সবচেয়ে সুন্দর ও জমকালো সেতু হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে রিয়ালটো ব্রিজ। যা গ্র্যান্ড ক্যানেলের উপর স্থাপিত। খালের মধ্যে থেকে এই সেতুর অপূর্ব কারুকার্য দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যায়। ভেনিসে এসে গন্ডোলায় চড়ে এই সেতুর নিচ দিয়ে পার না হলে পুরো ভ্রমণই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

 লিডো দ্বীপ (Lido Island) বা সোনালী দ্বীপ:

 

ভেনিসের লিডো দ্বীপ পর্যটকদের জন্য আর একটি চমৎকার স্থান। এটিকে বলা হয় ভেনিসের সোনালী দ্বীপ। এ দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে গোধূলি লগ্নের সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে।

ভাসমান শহর ভেনিস....সামুদ্রিক খাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দ্বীপটি তে ভূমধ্যসাগরের নানা সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি পাওয়া যায় সূদুর আটলান্টিক থেকে ধরে আনা অক্টোপাস, স্কুইডও।

অর্থনীতি:

 

বর্তমানে ভেনিসের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র বিন্দু পর্যটন ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বুটিক ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, কাঁচ শিল্প, সৌখিন দ্রব্য উৎপাদন শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। যদিও শুরুতে সমুদ্রপথে ব্যবসা বাণিজ্য দিয়েই এর পথ চলা শুরু।

পড়াশুনা:

 

উচ্চশিক্ষার জন্য ভেনিস বৃহৎ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র। ১৮৬৮ সালে এই শহরে গড়ে উঠেছে  "কা ফোসকারি ইউনিভার্সিটি অফ ভেনিস" নামে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭৫০ সালে স্থাপিত হয়েছে একাডেমি অফ ফাইন আর্টস।বর্তমানে ভেনিসের শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ হয়েছে অসংখ্য গৌরবময় বৈশিষ্ট্য।

 

 

যানবাহন:

 

ভেনিসের যানবাহন মানেই জলে ভাসমান কিছু যান। প্রধান ভূমিকা নেয় ভাপোরেত্তি নামের মোটর চালিত ওয়াটারবাস।

 

ভেনিসের লিডো ও পেলেস্ট্রিনা নামের দুটি দ্বীপের বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি। আর তাই এর মধ্যে দিয়ে বাস সার্ভিস চালু আছে। তবে অন্য দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় আছে ওয়াটারবাস।

      

ভেনিসের সবচেয়ে জনসংখ্যার শহর ম্যাস্ট্রিতে বাস ও ট্রেন উভয় যানের চলাচল ব্যবস্থা আছে। ভেনিসে মারকো পলো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নামের একটি বিশাল বিমান বন্দর আছে।

আবহাওয়া:

          

শহরটি শরৎ ও বসন্তের আগে প্রায়ই বন্যার আতঙ্কে থাকে। কিন্তু তারা নানা রকম কৌশল অবলম্বন করে বন্যার জল বের করে দেয়, যাতে তা জনবসতিতে প্রভাব ফেলতে না পারে।

প্রধানত আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করে। জানুয়ারি তে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জুলাই তে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করে। পুরো বছরে গড়ে ২৯.৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়।

 

বর্তমান সমস্যা

          

অনন্য সৌন্দর্যে ঘেরা শহরটির পরিস্থিতি এখন অবনতির পথে। কাঠের ভিত্তির উপর তৈরি ভাসমান নগরী ভেনিস ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে জলের নীচে। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে এক হিসেবে দেখা গিয়েছে যে, প্রতি বছর গড়ে ০.০৪ থেকে ০.০৮ ইঞ্চি ভূমি চলে যাচ্ছে সাগরের নীচে। এর একটি কারণ অবশ্যই বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তার ফলে বরফের গলন ও সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি।

 

আর একটি কারণ মাটির গভীর থেকে প্রতিনিয়ত ভৌম জল উত্তোলন। ফলে সমুদ্রের তলদেশে খনিজ স্তর আরো নীচে চলে যাচ্ছে। ফলে শহরটির ভিত্তি হয়ে যাচ্ছে দুর্বল।

এছাড়া লাগামহীন পর্যকদের ভিড় ও অতিরিক্ত জলযান ব্যবহারে একদিকে যেমন খালের জল ঘোলা হয়ে পড়ছে তেমনই বায়ুদূষনও ঘটছে।

 গতবছর (২০২০) ইতালিতে মৃত্যুমিছিল দেখেছে বিশ্ববাসী। ভেনিসের খালে নৌকা বিহারের চেনা ছবি উধাও। পরিবেশপ্রেমীরা দেখেছেন খালগুলির জল শান্ত ও পরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে সেখানে ঢুকে পড়েছে ডলফিনের দল। নৌকা চলাচল কম বলে কাদামাটি থিতিয়ে পড়ছে। তবে জলের গুণগত মানের বিশেষ উন্নতি ঘটেনি। তাই সমস্যা কিছু রয়েছে। সমাধানের পথ নিয়ে চলছে গবেষণাও। পরিবেশপ্রেমীরাও নজরে রেখেছেন সব।

আমরা শুধু বর্ষায় কোনও কোনও এলাকা জলবন্দি হওয়ার কথা শুনেছি বা দেখেছি। সেই সময়টুকুর জন্যই নৌকা বা ডিঙি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় মানুষকে। কিন্তু যার জন্মই জলবন্দি অবস্থায়? তার রূপ তো আলাদা হবেই। রহস্যও তো কম নয়। তাই সেই রূপ আর রহস্যের খোঁজেই বিশ্ববাসীও ফি বছর পাড়ি দেয় ভেনিসে। গন্ডোলায় চড়ে জলপথে খুঁজে ফেরে জলজীবনের রহস্য।

 

লেখক- ভূগোলের শিক্ষিকা

ads

Mailing List