জীতা অষ্টমীর পরদিন থেকেই মানাবাজার রাজপরিবারে শুরু দুর্গাপুজো, ১৭ দিন ধরে চলা পুরোর শেষ দশমীতে

জীতা অষ্টমীর পরদিন থেকেই মানাবাজার রাজপরিবারে শুরু দুর্গাপুজো, ১৭ দিন ধরে চলা পুরোর শেষ দশমীতে
30 Sep 2021, 01:22 PM

জীতা অষ্টমীর পরদিন থেকেই মানাবাজার রাজপরিবারে শুরু দুর্গাপুজো, ১৭ দিন ধরে চলা পুরোর শেষ দশমীতে

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

পুরুলিয়া জেলার মানবাজার থানার মানবাজার গড় পাথর মহড়া রাজপরিবারের দুর্গাপূজা শুরু হয়ে গেল। এখানে জীতা অষ্টমীর পরের দিন থেকে দশমী পর্যন্ত টানা ১৭ দিন ধরে হয়ে থাকে মায়ের আরাধনা। রাজ্য সরকার থেকে তৎকালীন দূর্গা পূজার জন্য খরচ বাবদ টাকা ধার্য করা হয়। রাজবাড়ির সম্পত্তি অধিগ্রহণ করার জন্য এই অর্থ সরকার থেকে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো রাজপরিবারের এই দুর্গাপূজা। তৎকালীন রাজা মুকুন্দ নারায়ণ সিংহ দেব মানবাজার পাথরমোড়া তে সূচনা করেছিল মাতৃ আরাধনা। এখানে দেবী পূজিত হয় নবপত্রিকার রুপে। রাজপরিবারের বংশধর দেবাশীষ নারায়ন দেব জানালেন, রাজপরিবারের পূজা শুরু হয়েছিল মানবাজারে। প্রথম রাজা পঞ্চ নারায়ন দেব প্রথম মানবাজারের দুর্গাপূজা শুরু করেন। মানবাজারে আর একটি পুজো হত। সেটি রায় পরিবারে। তারপর রাজা চলে আসেন মানবাজারের সামনে অবস্থিত মানবাজার পাথরমহড়া গ্রামে। সেখানে মাতৃপূজা শুরু করেন রাজপরিবারের মুকুন্দ নারায়ণ দেব। এখানে আছে বলিপ্রথা। এখানে মা তিন বার আসেন নবপত্রিকা রূপে। প্রথমবার জীতাঅষ্টমী, পরের দিন বড় ঠাকুরানী রূপে। চতুর্থীতে মেজো ঠাকুরানী রূপে এবং সপ্তমীতে ছোট  ঠাকুরানী রুপে।

 

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্যসরকার রাজ পরিবারের অনেক জমি অধিগ্রহণ করে। সেই সময় থেকে রাজপরিবারের দূর্গাপুজো সহ বিভিন্ন পূজার জন্য খরচ বাবদ অনুদান প্রথা চালু করে। দূর্গা পূজার জন্য বর্তমানে ধার্য করা হয় ১০৮৪ টাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০২০ সালে সেই অনুদানের টাকা এখনো পাননি বলে পরিবারের দাবি। আবার ২০২১ সালের দূর্গা পূজার জন্য আবেদন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই টাকা দিয়ে তো আর পূজার খরচ মেটানো যায় না। তবে এটা একটা রাজপরিবারের সম্মানের বিষয়। তাই আমরা প্রতি বছর পুজোর আগের থেকে এই টাকা পাওয়ার জন্য আবেদন নিবেদন করে থাকি জেলা প্রশাসনের কাছে। দেখা যাক, এবছর কি হয়। এখনও তো আর কয়েকটা দিন পুজোর বাকি। জানালেন রাজপরিবারের এক বংশধর।

বর্তমানে পূজার খরচ চলে রাজপরিবারের মায়ের নামে একটি পুকুর আছে সেই পুকুরে মাছ চাষ করে যে অর্থ উপার্জন হয় সেই অর্থে মায়ের পূজার খরচ করা হয়ে থাকে। পাথরমোড়া রাজপরিবারের মাতৃ আরাধনায় আধুনিকতার আরম্বনার না থাকলেও এখনও প্রাচীন রীতি মেনে পূজা হয়ে থাকে। আজও বহু দূর দূরান্ত থেকে ভক্তের সমাগম হয় পাথরমহড়া রাজবাড়ীতে দুর্গাপূজা দেখতে।

ads

Mailing List