পেট্রোপন্যের মুল্যবৃদ্ধির জেরে চাষের খরচ দ্বিগুন, ধানের সরকারি সহায়ক মুল্য বাড়ানোর আবেদন চাষিদের  

পেট্রোপন্যের মুল্যবৃদ্ধির জেরে চাষের খরচ দ্বিগুন, ধানের সরকারি সহায়ক মুল্য বাড়ানোর আবেদন চাষিদের   
13 May 2022, 11:50 PM

পেট্রোপন্যের মুল্যবৃদ্ধির জেরে চাষের খরচ দ্বিগুন, ধানের সরকারি সহায়ক মুল্য বাড়ানোর আবেদন চাষিদের

 

 প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, গলসি

 

পেট্রোপন্নের মুল্যবৃদ্ধির জেরে চাষের খরচ দ্বিগুন হয়েছে। ধানের সরকারি সহায়ক মুল্য বাড়ানোর আবেদন গলসি এলাকার চাষিদের। এপ্রিল মাসে বছরের শুরু থেকেই প্রখর ছিল সূর্যের তেজ। শেষের দিকে কয়েক পশলা বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরে পায় মানুষ। তবে বৃষ্টির ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে গলসি সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার চাষিদের।  মে মাস শুরু হতেই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে তাপমাত্রা আরামদায়ক হলেও ক্ষতি হচ্ছে ধান চাষিদের। সপ্তাহ দুয়েক আগে শুরু হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি এলাকায় ধান কাটার কাজ। তবে তখন থেকে পাকা ধানে নিত্য বৃষ্টি হওয়ায় ধান কাটা ও মাড়াই খরচ দিগুন হচ্ছে চাষিদের এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।

বৃষ্টির জন্য মাঠে মেশিন ছাড়া ধান কাটা সম্ভব নয়। তাছাড়াও মেশিনে কাটা ধান মাঠের কাদা পেরিয়ে বাড়িতে আনার খরচ দ্বিগুণ হয়ছে। সব মিলিয়ে লাভের গুড় পিঁপড়ে খেয়ে নিচ্ছে বলে দাবি চাষিদের। এমন অবস্থায় ধানের সহায়ক মুল্য কুইন্টাল প্রতি দু’তিন শো টাকা বাড়ানোর আবেদন চাষিদের। স্থানীয় পুরসা গ্রামের চাষি সেখ গুলজার, আব্দুল আলিম মল্লিক ও সেখ মেহেবুব আলমরা জানান, বৃষ্টির জন্য তাদের এলাকার জমিতে জল জমে কাদা হয়ে গেছে। ফলে সাড়ে চার হাজার টাকা ঘন্টা হিসাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে। যাতে ধান কাটাই খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। তাছাড়াও মাঠ থেকে ধান তুলতে সাধারণ ট্রাক্টর নয়, ফোর হুইলার ট্রাক্টর আটশো থেকে এক হাজার টাকা ট্রলি ভাড়া দিয়ে ধান খামারে আনতে হচ্ছে। ফলে কাটাই মাড়াই এর খরচ দ্বিগুন হয়ে গেছে। আর এতেই কারও কারও দুইমুখ সমান হলেও বেশিরভাগ চাষির লোকসান হবে। সরকার যদি ধানের সহায়ক মুল্য কুইন্টাল প্রতি দু তিন শো টাকা বাড়ায় তাহলে তাদের উপকার হবে। না হলে এবারও তাদের ধান চাষে লোকসানের মুখ দেখতে হবে।

বনসুজাপুর গ্রামের চাষি রাজকুমার ঘোষ বলেন, ডিজেল পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। চাষের প্রয়োজনীয় সার চাপানের দাম বেড়েছে। ট্রাক্টরের ও ধান কাটা মেশিনের দাম বেড়েছে। চালেরও দাম আগের থেকে বেশ কিছু বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার সবসময় সবাইকে সাহায্য করে। তাই চাষিদের ধানের দাম কুইন্টাল প্রতি দু তিনশো টাকা বাড়ালে তারা উপকৃত হতো। চাষিদের ধানের দাম বৃদ্ধির জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। স্থানীয় লোয়া গ্রামের চাষি সেখ রজব আলি বলেন, নয় বিঘা জমি ধান চাষ করতে তিনি আট বস্তা ডিএপি, সাত বস্তা ইউরিয়া ও চার বস্তা পটাশ কিনেছিলেন। দুইবার দানা কীটনাশক ও একবার স্প্রে করেছিলেন। এবারে তার ধান ভালো হয়েছিল। তবে ধান কাটতে চার হাজার টাকা ঘন্টা চেন মেশিন ভাড়া নিতে হচ্ছে। আবার সাতশো টাকা টলি ফোর হুইলার ট্রাক্টর ধান বয়ে আনার জন্য ভাড়া নিতে হচ্ছে। তাই খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। তিনি যে লাভের আশা করেছিলেন সেটা হবে না। তার দাবী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সব সময় মানুষের পাশে থাকেন। তিনি যদি চাষিদের কথা মাথায় রেখে সরকারি সহায়ক মুল্য কুইন্টাল প্রতি তিনশো টাকা বাড়ান তাহলে তারা উপকৃত হবেন। স্থানীয় এক কম্বাইন্ড হারভেস্টার চালক বলেন, আগের বছর পঁয়ত্রিশ ছত্রিশশো টাকা ঘন্টায় চেন মেশিন ভাড়া চালিয়েছি। এবারে ডিজেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। ফলে তাদেরও কিছু করার নেই। পেট্রোপন্নের মুল্য বৃদ্ধির জন্যই চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা ঘন্টা মেশিনের ভাড়া নিতে হচ্ছে।

ads

Mailing List