বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা হাঁটা পথ কোনটি জানেন? দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৌঁছে যাবেন রাশিয়ায়, রয়েছে রেকর্ড গড়ার হাতছানি  

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা হাঁটা পথ কোনটি জানেন? দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৌঁছে যাবেন রাশিয়ায়, রয়েছে রেকর্ড গড়ার হাতছানি   
20 Sep 2022, 01:30 PM

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা হাঁটা পথ কোনটি জানেন? দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৌঁছে যাবেন রাশিয়ায়, রয়েছে রেকর্ড গড়ার হাতছানি

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: এটাই বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা হেঁটে যাওয়ার রাস্তা। বিমান, ট্রেন, বাস বা জাহাজ কিছুতেই চড়তে হবে না আপনাকে। এই পথ ধরে, হেঁটে সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন (Cape Town) থেকে পৌঁছে যাওয়া যাবে রাশিয়ার মাগাদানে (Magadan)।

ইউরোপ, আফ্রিকা আর এশিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি আর মানুষের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় একটি রাস্তা। এই রাস্তা ধরে কেপটাউন থেকে মাগাদানে পুরোটাই হেঁটে আসা সম্ভব। কোনও যানবাহনেই উঠতে হবে না এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথে।

এই রাস্তা ২২ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার লম্বা। প্রতিদিন যদি ৮ ঘণ্টা করে হাঁটেন তবে সময় লাগবে মাত্র ৫৮৭ দিন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রাশিয়া পৌঁছাতে ১৯৪ দিন লাগবে যদি কোনও বিরতি ছাড়া হেঁটে চলেন।

অবাক হচ্ছেন? এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হেঁটে যাওয়ার রাস্তা। যেখানে কোনও বাঁধা ছাড়াই পায়ে হেঁটে রাশিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রাশিয়া যাওয়া সম্ভব।

যাত্রাপথে পড়বে অন্তত ১৭টি দেশ। ছটি টাইম জোন। যে এই রাস্তা ধরে হাঁটবেন, তিনি কয়েকটি ঋতু পরিবর্তনও দেখতে পাবেন। যাত্রাপথে পাবেন অনেক আবহাওয়া। এই যাত্রাপথ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হেঁটে চলার রাস্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মাউন্ট এভারেস্টে ১৩ বার উঠানামা করলে এই রাস্তার হেঁটে চলা পথের সমান হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন থেকে হেঁটে হেঁটে যেতে হবে রাশিয়ার মাগাদানে। মাঝে পড়বে বোস্তাওয়ানা, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান, সুদান, জর্জিয়া, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, তুরস্ক, রোমানিয়া আর বেলারুস।

দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রাম লা আগুলাস থেকে শুরু হবে হাঁটা। হাঁটতে হবে কয়েকটি বিপজ্জনক স্থান দিয়েও। এরপর যেতে হবে জিম্বাবুয়ে, যে দেশ বন্যপ্রাণীর জন্য বিখ্যাত। এই যাত্রা একই সঙ্গে চমকপ্রদ আর চ্যালেঞ্জিং।

এরপর পড়বে মোজাম্বিক আর জাম্বিয়া। হেঁটে যাবেন উগান্ডার ন্যাশনাল পার্কের সামনে দিয়ে। দক্ষিণ সুদানে প্রবেশের পর ভয়ই লাগবে। কারণ এই দেশটি  চুরি ডাকাতির জন্য বিখ্যাত। এরপর সুদানে এসে পাড়ি দিতে হবে সাহারা মরুভূমির কিছু অংশ।

সুদান থেকে মিশরে যাওয়ার ভালো রাস্তা নেই। মিল থেকে জর্ডানে ঢুকতে হবে। এরপর ইসরায়েল, এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া। সিরিয়া থেকে হেঁটে যেতে হবে তুরস্কে। এরপর জর্জিয়া, অবশেষে রাশিয়া।

রাশিয়ায় এসে দেখতে হবে সাইবেরিয়ার শীত। যা সব চেয়ে শীতলতম এলাকা। এই পথ ধরে হেঁটে পৌঁছে যাবেন রাশিয়ার শহর মাগাদানে। এখন পর্যন্ত অনেকেই অনেক লম্বা রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়ার রেকর্ড করেছেন। কিন্তু এই রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়ার রেকর্ড এখনও কেউ করেননি।

কারণ অনেক দেশের সরকার ব্যবস্থা স্থিতিশীল না, অনেক দেশে ভিসা নিয়ে জটিলতা আছে, অনেক দেশে আবার বৈরি আবহাওয়া। অনেকেই আবহাওয়া আর খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না।

চেষ্টা করে দেখবেন না কি? আর উপভোগ করবেন ‘যাত্রাপথের আনন্দগান’!

Mailing List