ময়নাগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখানে থেকে গিয়েছে অতৃপ্ত আত্মারা! ভূতের হাত থেকে বাঁচতে হরিণাম সঙ্কীর্তনের আয়োজন করলেন গ্রামের মানুষ  

ময়নাগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখানে থেকে গিয়েছে অতৃপ্ত আত্মারা! ভূতের হাত থেকে বাঁচতে হরিণাম সঙ্কীর্তনের আয়োজন করলেন গ্রামের মানুষ   
28 Jan 2022, 06:15 PM

ময়নাগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখানে থেকে গিয়েছে অতৃপ্ত আত্মারা! ভূতের হাত থেকে বাঁচতে হরিণাম সঙ্কীর্তনের আয়োজন করলেন গ্রামের মানুষ

 

বাবলা বল, ময়নাগুড়ি  

 

ময়নাগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনার পর সরিয়ে ফেলা হয়েছে ভাঙাচোরা বগি। সারানো হয়ে গিয়েছে রেল লাইন। নতুন করে ট্রেন চলাচলও শুরু হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু থেকে গিয়েছে নাকি ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের অতৃপ্ত আত্মা! তারা নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে! আধুনিকতার চুড়ান্ত পর্বে এসেও মানুষ এই সমস্ত অন্ধ বিশ্বাস থেকে সরে আসতে পারছেন না। তার জন্য সন্ধের ওই পথ দিয়ে যাতায়াত ছেড়েছেন এলাকাবাসী। এবার সেই সমস্ত অতৃপ্ত আত্মাকে শান্ত করতে শুরু হল হরিণাম সঙ্কীর্তন। রীতিমতো দুর্ঘটনাস্থলে ধূপ জ্বেলে চললো হরিণাম। সকলে প্রণাম করলেন। এবার নাকি সরে যাবে দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আত্মা। এমনই বিশ্বাস গ্রামের মানুষের।

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির কাছে দোমহনিতে দক্ষিন মৌয়ামারী এলাকায় চলতি মাসের ১৩ তারিখ গুয়াহাটি গামী গুয়াহাটি-বিকানের এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কয়েকটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় বেশ কয়েক জনের মৃত্যুও হয়। এরপর থেকেই স্থানীয় লোকজনের মধ্যে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, দুর্ঘটনার পর বেশ কয়েকটি দিন কেটে গেলেও এখনও কানে বাজে সেই চিৎকার। মনে হয় কেউ যেন বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাকছে। নিশ্চয় এখানে আত্মারা রয়েছে, নাহলে কে ডাকবে? এমনই দাবি এলাকার বাসিন্দাদের। আর তাতেই ভয় পাচ্ছেন সকলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যা হলেই নাকি ওই এলাকাটি থমথমে হয়ে যায়। ওই পথ দিয়ে মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু সে সবই করে ফেলেন দিনের আলোয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে হলেই আর কেউ ওই পথ মাড়ান না। সে কারণে দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তির কামনায় এবার দক্ষিণ মৌয়ামারী এলাকার লোকজন কীর্তন করল দুর্ঘটনাস্থলে। তাঁদের দাবি, এই কীর্তনের ফলেই অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পাবে। তারা ফিরে যাবে অন্যত্র। আর এখানে থাকবে না। তাহলেই গ্রামের মানুষের ক্ষতিও করতে পারবে না।  

এলাকার বাসিন্দা সুবল ভৌমিক বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্থানে সন্ধ্যার পর অশরীরী কিছুর উপস্থিতি টের পাই। ফলে ওদিকে যেতে পারি না। ষাটোর্ধ্ব শোভারানী মোহন্ত বলেন, এতজন মারা গেল। কিছু একটা তো থাকবেই। আমরা বুঝতে পারি, কিছু অঘটন ঘটছে। তাই সন্ধে হলে ওপথে যায় না। যদি কিছু ক্ষতি হয়, তাই সন্ধের পরেই ঘরে ঢুকে যায়। অতৃপ্ত আম্তারা যাতে এখান থেকে চলে যায় সে জন্য কীর্তনও করা হচ্ছে।

 

আর কীর্তন শিল্পী কেশব বর্মন বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকেই এখানে ভূত প্রেত থেকে গিয়েছে। সে জন্যই কীর্তন করে তাঁদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে এলাকার মানুষ। আমরা সেই কাজটি করার জন্য কীর্তন ও হরিণাম করতে এসেছি।

ads

Mailing List