গরুপাচার মামলায় এবার তৎপর হল সিআইডি! প্রথমেই নজর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে!

গরুপাচার মামলায় এবার তৎপর হল সিআইডি! প্রথমেই নজর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে!
11 Sep 2022, 01:45 PM

গরুপাচার মামলায় এবার তৎপর হল সিআইডি! প্রথমেই নজর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে!

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে সংঘাত বেধেছে এ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের। সেই সংঘাতের সুর জিইয়ে রেখেই গরুপাচার মামলায় ইডি, সিবিআইয়ের পাশাপাশি তদন্ত চালাচ্ছে এ রাজ্যের সিআইডিও। সেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় এবার আরও গতি বাড়াল সিআইডি। সুত্রের খবর, ২০১৯ সালের গরুপাচার মামলায় তৎপরতা বাড়িয়েছে তাঁরা। শুরু হয়েছে ধরপাকড়ও।

এবার সেই ঘটনার তদন্তে নেমে রাজ্য বিধানসভার বর্তমান বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে তথ্য তলব করল তদন্তকারীরা। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মুশিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। পদে থাকাকালীন তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছেন,তারই বিস্তারিত তথ্যের খোঁজে নেমেছে সিআইডি। এর জন্য লোকাল থানার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এদিকে  কয়লা থেকে গরু, এসএসসি থেকে টেট, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের গতি বাড়াচ্ছে সিবিআই ও  ইডি। চলছে লাগাতার তল্লাশি, গ্রেপ্তারি।এবার শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য তলব করল রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। ২০১৯ সালে শুভেন্দুর জন্য কোথায় কোথায় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের কাছে সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়েও চিঠি দিয়েছে সিআইডি। গত রবিবার গরুপাচার মামলায় মূল অভিযুক্ত এনামুল হক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জেনারুল শেখকে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার৷ করে সিআইডি। এছাড়াও জেলার একাধিক পঞ্চায়েত প্রধানকে রঘুনাথগঞ্জে ডেকে জেরাও করেন তদন্তকারীরা। জেরায় এনামুল ঘনিষ্ঠ আলম শেখের নাম উঠে আসে। এরপর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি।

তার পাল্টা অবশ্য তোপ দেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী। একটি চিঠির ছবি দিয়ে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘রাজনৈতিক ভাবে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের অবস্থা যখন মাননীয়ার ভাষায় "ছাগলের তৃতীয় সন্তান" এর মতো, জেলায় নাম গন্ধ পর্যন্ত নেই, তখন তৃণমূলের দায়িত্ব আমার হাতে দেওয়া হয়। তৃণমূলের পতাকা প্রথম আমার হাত দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় উড়তে শুরু করে। বাকিটা ইতিহাস।

এখন পিসি ভাইপোর কোম্পানির দলদাস সিআইডি কে দিয়ে সেই জেলায় আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে এসে পশ্চিমবঙ্গের অদক্ষ CID, ২০১৫ এর আগষ্ট মাস থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় আমার সঙ্গে থাকা পুলিশের এসকর্ট পার্টির বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করছে। যাতে তাদের মধ্যে কাউকে ধরে অনৈতিক চাপ দিয়ে এবং মিথ্যা বয়ান বলিয়ে নিয়ে নতুন করে আমার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা যায়।

ইতিমধ্যেই জেলের মধ্যে এক বিচারাধীন বন্দির ওপর সিআইডির চাপ সৃষ্টি করার দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। এই সবের পেছনে সময় অপচয় না করে, সিআইডি যদি বাগুইআটির অতনু দে এবং অভিষেক নস্কর কে উদ্ধার করার চেষ্টা করত তাহলে হয়তো তাদের এই নির্মম পরিণতি হতো না।

আমি পশ্চিমবঙ্গের কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রীকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, আপনি সর্বশক্তি প্রয়োগ করুন আমার বিরুদ্ধে। এই মিথ্যা মামলার খেলা চালিয়ে যান। আমার বিশ্বাস সত্যের জয় হবে নিশ্চয়। শেষ পর্যন্ত শাসকের আইন নয় আইনের শাসন-ই প্রতিষ্ঠিত হবে।’’

Mailing List