লাদাখে রুখে দেওয়া হল চিনা ফৌজকে, সংসদে জানালেন রাজনাথ সিং

লাদাখে রুখে দেওয়া হল চিনা ফৌজকে, সংসদে জানালেন রাজনাথ সিং
15 Sep 2020, 08:00 PM

লাদাখে রুখে দেওয়া হল চিনা ফৌজকে, সংসদে জানালেন রাজনাথ সিং

 

আনফোল্ড বাংলা ডেস্ক: লাদাখ সীমান্তে চিনা আগ্রাসন রুখে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার লোকসভায় এমনটাই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) অতন্দ্র নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় ফৌজ। যে কোনও পরিস্থিতির জন্য সেনা তৈরি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিন, বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে “Developments on our borders in Ladakh” শীর্ষক আলোচনায় ভারত ও? চিনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সীমান্তে লালফৌজের হানা নিয়ে গোড়া থেকেই সরকারকে বিদ্ধ করে আসছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি। বিশেষ করে মোদি সরকারের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন সেই সমালোচনার জবাব দিলেন রাজনাথ। শুধু তাই নয়, সংসদের নিম্নকক্ষে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি প্রস্তাবও পেশ করেন তিনি। এদিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লোকসভায় আরও জানান, লাদাখে প্রায় ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি দখল করেছে চিন। এছাড়া, ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির নামে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের ৫ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি বেজিংয়ের হাতে তুলে দিয়েছে ইসলামাবাদ। 

গত মার্চ মাস থেকেই প্যাংগং হ্রদের উত্তর পাড়ে আগ্রাসন চালিয়ে আসছিল চিনা বাহিনী। কিন্তু পরিস্থিতি আরও ঘোরাল হয়ে ওঠে আগস্ট ২৯ ও ৩০ তারিখে। একতরফাভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার অবস্থান বদলে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করতে এগিয়ে আসে প্রায় ২০০ চিনা সৈনিকের একটি দল। তবে এবার প্রস্তুত ছিল ভারতীয় বাহিনী। আগ্রাসন প্রতিহত করে এতদিন পর্যন্ত ফাকা পড়ে থাকা প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণে পাহাড়ি অঞ্চলগুলির দখল নিয়ে নেয় ভারতীয় সেনা। বেগতিক দেখে পিছিয়ে যায় লালফৌজ। যদিও চিনের দাবি, তারা সীমান্তে কোনও রকম আগ্রাসন দেখায়নি। উলটে ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধেই সীমান্ত পার হয়ে উত্তেজনা ছড়াবার অভিযোগ তুলেছে।

উল্লেখ্য, গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সামরিক স্তরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে ভারত ও চিনের। ভারতীয় সেনার ১৪ নম্বর কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরেন্দ্র সিংহ এবং চিনের শিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্ট কমান্ডার মেজর জেনারেল লিউ লিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজি হয়েও ফের চিনা হামলায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি।

Mailing List