মিউটেশন না করায় বিএলআরও-দের ধমক প্রশাসনিক সভায়, দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

মিউটেশন না করায় বিএলআরও-দের ধমক প্রশাসনিক সভায়, দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
30 May 2022, 06:45 PM

মিউটেশন না করায় বিএলআরও-দের ধমক প্রশাসনিক সভায়, দালালদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

প্রশাসনিক বৈঠকেই জানিয়ে দিলেন, উন্নয়নের কাজে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভালো কাজ না করার জন্য পুরুলিয়ার জেলাশাসকের উপর বেশ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ধমক খেতে হয়েছে জেলাশাসক থেকে থেকে ভূমি দফতরের আধিকারিকদের। এমনকী, বলরামপুর ও হুড়া ব্লকের বিএলআরও-র কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।  

বৈঠক শুরুতেই প্রমাণ সহ একাধিক ব্যক্তিদের সভা মঞ্চে নিয়ে এসে বলরামপুর ও হুড়া ব্লকের বিএলআরও  এবং বলরামপুর থানার ওসিকে দাঁড় করিয়ে বলেন, আপনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আপনারা জমির মিউটেশন করছেন না। উল্টে দালাল মারফত টাকা চাইছেন? বলরামপুরের বিএলআরও অফিসের সামনে দুটি দোকানে টাকা নিয়ে মিউটেশন করার কাজ চলছে। অথচ গরীব মানুষ জমির মিউটেশন না হওয়ার জন্য কৃষক বন্ধুর টাকা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। একই ঘটনা ঘটছে জেলার হুড়া ব্লকেও। এরপরই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া ঐ সব অভিযোগকারীদের দাঁড় করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জিগ্যেস করেন ঘটনাটি সত্য না মিথ্যা। অভিযোগকারীরা প্রত্যেকেই জানিয়ে দেয় ঘটনাটি সত্য। এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে নির্দেশ দেন, এই মুহূর্তে ঐ দুই দোকান সিল করে দালাল চক্রের পান্ডাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে। সভা চলাকালীন ওই সভা থেকেই বলরামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলরামপুর থানার ওসি।

মুখমন্ত্রী বলেন, বিএলআরও-দের রিশাফল করার প্রয়োজন আছে। এসসি, এসটি জমির মিউটেশন সংক্রান্ত বিপুল অভিযোগ পেয়েছি। করালী কিঙ্কর মাহালির দোকান। দোকানের প্রিয়াঙ্কা ভ্যারাইটিস। বিএলআরও অফিসের সব কাজ এই দুই দোকানে হয়। গরিব মানুষ গেলে ঘোরানো হচ্ছে। বলছে, ওই দোকানে গেলে সব হবে। তার জন্য রেট বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত করুন। আমি সম্পূর্ণ রিপোর্ট চাই। পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ করে তা সকলের সামনে প্রমাণ করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

সোমবার দুপুর টো নাগাদ পুরুলিয়ার রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক, মন্ত্রী সন্ধ্যারাণী টুডু, ইন্দ্রনীল সেন, মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী সহ একাধিক দফতরের সচিবেরা।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হয়েই প্রথমেই প্রত্যেকের উদ্যোশে বলেন, আপনারা খাবার খেয়েছেন। অপর প্রান্ত থেকে না উত্তর আসতেই মুখ্যমন্ত্রী পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে বলেন, ২ টো বাজে। এখনো খাবার দেননি! কখন খাবে সবাই। একদিকে মিটিং চলুক, অন্যদিকে প্যাকেটে করে খাবার দিন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সব থেকে সহজ ও সরল জেলা এই পুরুলিয়া। জঙ্গল মহলে অনেক কষ্ট করে শান্তি ফিরিয়ে এনেছি। পুরুলিয়া তো এখন রূপসী বাংলা। সেই পুরুলিয়ার গরীব সাধারণ মানুষের কাজ করতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে মিউটেশন গুলি করে ফেলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, গরীব মানুষ যদি একটা অভিযোগ করেন সেটা আমি মেনে নিতে পারব না। আমি কেউ নই, তোমরা আছো বলেই আমি একটা সরকার চালাতে পারছি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রঘুনাথপুরে শিল্পের জোয়ার আসবে। ৭২ হাজার কোটি টাকার বড় মাপের প্রোজেক্ট হতে চলেছে রঘুনাথপুরে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি হবে।

সোমবার দুপুরে পুরুলিয়ায় পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরুলিয়া শহরের রবীন্দ্রভবনে জেলার সমস্ত ব্লকের বিডিও, মহকুমাশাসক, জেলাশাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, জেলা পুলিশ সুপার, সমস্ত থানার ওসি, আই সি, বিএলআরও সহ পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি, কর্মাধ্যক্ষ, পুরপ্রধান সহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পুরুলিয়া জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভা করেন। পুরুলিয়ার পানীয় জলের সমস্যা সমাধানেও পদক্ষেপ করার কথা জানান।

 

Mailing List