মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ! বাংলা আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন লেখিকা  

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ! বাংলা আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন লেখিকা   
10 May 2022, 09:30 PM

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ! বাংলা আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন লেখিকা

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা জানার পরেই প্রতিবাদ স্বরুপ ’অন্নদাশঙ্কর’ সম্মামনা ত্যাগ করলেন বর্ধমানের খাগড়াগড় নিবাসী লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়।পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া ’অন্নদাশঙ্কর’ সম্মামনা’ তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। যদিও লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।

 

এই বছরই প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত ‘রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যাঁরা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাঁদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি।তারা বাংলার বেশ কিছু প্রথিতযশা সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে ’কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্যে প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ’রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনিত করেন। সোমবার ২৫ শে বৈশাখ উপলক্ষে রাজ্য সরকার আয়োজিত কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা আকাদেমি ’রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার  যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দবতরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি লেখিকা ও গবেষক রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায়। তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গান সহ নানা বিষয়ে গবেষণা রয়েছে। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০ টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন ।তিনি বলেন,যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার। পাশাপাশি রত্নাদেবী এও বলেন,মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেনে তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=pfbid0eebkRhNA48bygsSTyYS9etwC7FRY1gdoUVzsBMLmswiU1CWRcq4vHBepHcfHcwZnl&id=100001780745729

এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে  পাওয়া অাকাডমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে  লেখিকা রত্না রশীদ বন্দোপাধ্যায় দাবী করেন , সোমবার মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় কে ’আকাদেমি  পুরস্কার’ দেওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেন নি। কারণ এতে পুরস্কারের গরিমা রক্ষিত হয় নি। তিনি মনে করেন, সাহিত্য সাধনার বিষয়। সেই সাহিত্য বিষয়ে কাউকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্তের বিষয়টি  কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে না। বিষয়টি তিনি নিজেও ফেসবুকে পোস্ট করেন।

নিজের ফেসবুকে কী লিখেছেন তা হুবহু তুলে দিলাম।

প্রতি

অধ্যক্ষ

পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি

কলকাতা

বিষয় : সম্মান প্রত্যাখান

 

মহাশয়,

আমি রত্না রশীদ ব্যানার্জী ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির তরফ থেকে অন্নদা শঙ্কর রায় স্মারক সম্মানে ভূষিত হয়েছিলাম। আমি তখন সেই সম্মান সকৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহণ করি। গতকাল সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে আমি অবহিত হলাম যে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি একটি নতুন পুরস্কার ঘোষনা করে প্রারম্ভিক বছরের সেই পুরস্কার পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অর্পণ করেছে বাংলা সাহিত্যে তাঁর নিরলস সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে। এই অভিধার চেয়ে বড় সত্যের অপলাপ হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি শুধুমাত্র একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে তাই নয়, এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সত্যিকারের নিরলস চর্চায় রত সমস্ত মানুষকে অপমানিত করেছে।

এই অবস্থায় ২০১৯ সালে এই সরকারের আমাকে দেওয়া সম্মান আমার কাছে কাঁটার মুকুটের মত প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি এই চিঠির মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৬ জুলাই আমাকে দেওয়া অন্নদা শঙ্কর স্মারক সম্মান ফিরিয়ে দিচ্ছি। ওই সম্মানের সঙ্গে দেওয়া স্মারক আমি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির ঠিকানায় অনতিবিলম্বে পাঠিয়ে দেবো।

ইতি

রত্না রশীদ ব্যানার্জী

বর্ধমান

 

ads

Mailing List