মিটার বক্স থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, গতরাতের বউবাজারের বহুতলের ঘটনায় এমনই মত ফরেনসিকের

মিটার বক্স থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, গতরাতের বউবাজারের বহুতলের ঘটনায় এমনই মত ফরেনসিকের
17 Oct 2020, 09:15 PM

মিটার বক্স থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, গতরাতের বউবাজারের বহুতলের ঘটনায় এমনই মত ফরেনসিকের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কলকাতার জন্যে গতকালের রাত ছিল আরও একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রাত। ফের একবার স্টিফেন কোর্টের ভয়াবহতার স্বাক্ষী থাকতে চলেছিল তিলোত্তমা। তবে গভীর রাতে ঘটায় পরিস্থিতি বাগে আনতে পেরেছে দমকলবাহিনী। গভীর রাতে মধ্য কলকাতার বউবাজারের গনেশচন্দ্র অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ভস্মীভূত আটতলা আবাসনটির বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট। অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কীভাবে আগুন, তা জানতে শনিবার ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, মিটার বক্স থেকে আগুন লাগে। এদিন প্রাথমিক পরীক্ষার পর এমনটাই জানিয়েছে ফরেনসিক টিম।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফরেন্সিক টিমের তন্ময় মুখার্জি। তিনি জানিয়েছেন একতলায় ইলেকট্রিক্যাল ম্যালফাংশন থেকেই আগুন লাগে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপরের দিকে। যেহেতু বিজ্ঞান বলে আগুন সবসময় ওপরের দিকে দ্রুত ছড়ায়। তাই নিচে আগুন লাগার ফলে তা আস্তে আস্তে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিচে মিটার বক্স এর সামনে অনেকগুলো মোটরসাইকেল রাখা ছিল, ফলে সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মোটরসাইকেল এবং তা থেকে দ্রুত আগুন আরো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ইতিমধ্যেই সেই সমস্ত জিনিস তারা সংগ্রহ করেছেন এবং ল্যাবে গিয়ে পরীক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন।পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন পাঁচতলায় অনেক জিনিস একসাথে জমা করে রাখা ছিল সেখানে আগুন পড়তেই আরো দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ মিটার বক্স থেকে যে আগুন লেগেছে তা এক কথায় বলা যেতে পারে। তবে ল্যাবে পরীক্ষা করার পর তারা আরও বেশি করে নিশ্চিত হবেন, এমনটাই জানিয়েছেন ফরেনসিক এক্সপার্টরা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে একতলায় মিটার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। ক্রমে আটতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে যায় লেলিহান শিখা। গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটায়, অধিকাংশ বাসিন্দারা সেই সময় ঘরেই ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি টের পেয়ে আতঙ্কে ছাদে উঠে যান অনেকে। এর মধ্যে ১৪ বছরের এক কিশোর স্রেফ ভয়ে ৬ তলা থেকে ঝাঁপ দেয় নিচে। রাতেই তাকে হাসপাতাল ভর্তি করা হলে সেখানেই নাবালকের মৃত্যু হয়। সাততলার একটি ফ্ল্যাটের শৌচাগারে আটকে পড়েছিলেন এক বৃদ্ধা। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁরও। মধ্যরাতের মধ্যে দমকল ও পুলিশের ডিএমজির তৎপরতায় উদ্ধার কাজ শেষ হলেও স্থানীয়দের আশঙ্কা, মৃত্যু আরও বাড়তে পারে।

ঘটনার খবর পেতেই ঘটনাস্থলে যান দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি জানান, পুরনো এই বহুতলটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি রয়েছে। ফলে দমকলের কাজ করতে অসুবিধা হয়। ৫৫ মিটার হাইড্রোলিক ল্যাডারের সাহায্যে বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়।

দমকল ক্রমাগত জল দিয়ে বাড়িটি ঠান্ডা করে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর আগুন আয়ত্তে আসে। জানা গিয়েছে, আবাসনটিতে প্রবেশ ও বাইরের জন্য একটি মাত্র গেট রয়েছে। পুরনো বাড়িটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ছিল না বলেই অভিযোগ। দমকলের মতে, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। বাড়ির বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বহু বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের ফ্ল্যাট সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। অনেকের ঘরের ভিতরে ছিল টাকা, গয়না, জামা কাপড় ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস। ছাত্রছাত্রীদের ছিল বই খাতা। কিন্তু কেউই সম্পূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পারেননি। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Mailing List