প্রার্থীর প্রচারের আগে বোমাবাজি নানুরে, উদ্ধার বোমা, অশান্তি অন্য জেলাতেও

প্রার্থীর প্রচারের আগে বোমাবাজি নানুরে, উদ্ধার বোমা, অশান্তি অন্য জেলাতেও
12 Apr 2021, 02:47 PM

প্রার্থীর প্রচারের আগে বোমাবাজি নানুরে, উদ্ধার বোমা, অশান্তি অন্য জেলাতেও

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, বীরভূম: ভোটের আগে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নানুর। এলাকার বিজেপি  প্রার্থীর প্রচারসভার আগের রাতে বোমাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আজ, সোমবার, নানুরের বিজেপি প্রার্থী তারক সাহার সভা নানুর বিধানসভার অন্তর্গত বোলপুর থানার সিঙ্গি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘিদহ এলাকাতে।   তার আগেই এই বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।  বিজেপির  অভিযোগ, প্রচার বানচাল করার জন্য, গ্রামে আতঙ্ক তৈরি করতে রাতে দফায় দফায় বোমাবাজি করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, রাতে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের নিয়ে তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায় বিজেপি। মারধরে এক তৃণমূল কর্মীর মাথা ফাটে বলে দাবি। এই নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালে রাতে ঘটনাস্থলে যায় নানুর থানার পুলিশ। দু’পক্ষের আটজনকে আটক করা হয়েছে।

শুধু মাত্র ঘিদহতে তাদের সভা বানচাল করার জন্য রবিবার রাতে সেখানে বোমাবাজি করা হয়েছে তাই নয়, রবিবার বিকালে নানুরের বড়া সাঁওতা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়া গ্রামে তারক সাহা প্রচার করতে  গেলে সেখানেও তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়। তৃণমূলের লোকরা দু'রাউন্ড গুলি চালায়, ভয় দেখাতে, বলেও অভিযোগ তাদের।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। এলাকার তৃণমূলের নেতাদের দাবি, বিজেপির নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা। বিজেপির কর্মীরাই বোমাবাজি করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।

এই ঘটনার পরে  রাতেই ঘটনাস্থল থেকে দু-পক্ষের আট জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

অন্যদিকে বোমাও উদ্ধার করা হয়েছে বীরভূম জেলাতে। আগের দিন, নানুরের হাটসেরান্দি থেকে প্রায় ২০০ টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছিল৷ সরকারি কমিউনিটি হলের মধ্যে ছিল বোমাগুলি। এবার পাড়ুই থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৬০টি তাজা বোমা। সাত্তোর গ্রামপঞ্চায়েতের মাঠপাড়ায় একটি বাঁশের মাচার নীচে দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম ভর্তি বোমা মজুত ছিল। একটি বাচ্চা ছেলে খেলতে খেলতে ঢিল মারে ওই ড্রামে৷ ঢিলের আঘাতে একটি বোমা ফেটে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাচ্চাটি। খবর পেয়ে পাড়ুই থানার পুলিশ আসে পৌঁছায়। মজুত বোমার স্থান থেকে গ্রামবাসীদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই জেলারই ময়ূরেশ্বর থানার কুন্ডলা গ্রামে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে থেকেও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সংর্ষের ঘটনা ঘটেছে অন্য জেলাতেও। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটি এলাকাতে এক বিজেপি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং তাতে মিঠুন পাশোয়ান নামের ওই বিজেপি কর্মী আহত হয়েছে।

এছাড়া কসবার আনন্দপুর এবং হাওড়ার বাঁকড়াতেও আক্রান্ত বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা বলে অভিযোগ। রবিবার রাতে কসবা  কেন্দ্রের অন্তর্গত আনন্দপুরের পশ্চিম চৌবাগায় বিজেপি কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালীন দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। গেরুয়া শিবিরের মহিলা সদস্যদের হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পার্টি অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, চলে বোতল ছোঁড়াছুঁড়িও। প্রতিবাদে রাতে আনন্দপুর থানা ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। উত্তর ২৪ পরগনার শাসন ও দত্তপুকুরে আই এস এফ কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ, তাতে আহত হন বেশ কয়েকজন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালিত বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে ২ জন আহত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। হাওড়ার বাঁকড়ায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাতে প্রায় ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।।ডোমজুড় এলাকাতেও বিজেপি এবং তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং বেশ কিছু বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও দুপক্ষই অভিযোগ করেছে।

Mailing List