ব্লু অক্টোপাসের বিষ এতটাই তীব্র যে দু’ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়, নিমেষে রঙ পাল্টাতেও পারে অক্টোপাস, অক্টোপাস নিয়ে রহস্যের শেষ নেই

ব্লু অক্টোপাসের বিষ এতটাই তীব্র যে দু’ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়, নিমেষে রঙ পাল্টাতেও পারে অক্টোপাস, অক্টোপাস নিয়ে রহস্যের শেষ নেই
20 Sep 2022, 10:30 AM

ব্লু অক্টোপাসের বিষ এতটাই তীব্র যে দু’ঘন্টায় একজনের মৃত্যু হয়, নিমেষে রঙ পাল্টাতেও পারে অক্টোপাস, অক্টোপাস নিয়ে রহস্যের শেষ নেই

 

প্রদীপ কুমার পাল

 

অক্টোপাস, নাম শুনলেই আমাদের শরীরের ভিতর একটা শিহরণ জেগে ওঠে। আমরা অনেকেই বলে থাকি, অক্টোপাসের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি৷ তাহলে মনের ভিতর প্রশ্ন জাগেই অক্টোপাস কি? গভীর সমুদ্রের এই প্রাণীর অদ্ভুত গড়ন ও তার সম্বন্ধে প্রচলিত নানা রকম রোমাঞ্চকর কাহিনি এই প্রাণীটির সম্বন্ধে আমাদের জানার ইচ্ছাটাকে বাড়িয়ে তোলে৷

 

জীববিজ্ঞানের ভাষায় অক্টোপাসকে বলা হয় Cephalopod. শব্দটি গ্রীক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত৷ Cephalo (মাথা) এবং Pod (পদ) ; বলা যায় শিরঃপদ৷ অক্টোপাস দেখলে নামকরণের সার্থকতা বোঝা যায়৷ অক্টোপাসের আট খানা পা, যা মাথার সঙ্গে সংযুক্ত। দেহের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গও মাথার মতো দেখতে৷  অঙ্গের মধ্যে কোথায় মাথা শেষ আর কোথায় দেহ শুরু তা বোঝা যায় না৷ একটু কল্পনা করে দেখলে বোঝা যাবে, একটা বিরাট মাকড়সার মাথা থেকে হাতির শুঁড়ের মতো আট খানা পা যদি বেরিয়ে আসত তাহলে অক্টোপাসের রূপের কিছুটা আভাস পাওয়া যেত৷

 

কিছু অক্টোপাস আছে যাদের পিঠের উপর পর্দা আছে, যা অনেকটা কুলোর মতো৷ পর্দার চারিদিক ঘিরে বাহুগুলো মোটা থেকে সরু হয়ে গেছে৷ পর্দার নিচে ঠোঁট, যা টিয়াপাখির ঠোঁটের মতন ধারালো৷ ফলস্বরূপ কোন প্রাণীকে বাহুর বাঁধনে চেপে ধরে ঠোঁট দিয়ে শক্ত অংশ চূর্ণ করতে অক্টোপাসের কোনো অসুবিধা হয় না৷

আধুনিক বিজ্ঞানের কাছে রীতিমত বিস্ময় এদের বাহু৷ হাতির শুঁড়ের মতো কোমল মাংস পেশীতে গঠিত, দেহে কোথাও অস্থি বা হাড় নেই৷ প্রতিটা বাহুতে ১২০ জোড়া করে সারি সারি বায়ু শূন্য শোষক আছে৷ শোষক গুলি অনেকটা বাটির মতো দেখতে , মাংসপেশী দিয়ে এগুলি এমন ভাবে নিয়ন্ত্রিত যে -- কোনো বস্তু বাহুদিয়ে চেপে ধরলে কিছুতেই তা ছাড়ানো যাবে না৷ শিকার ধরার পর শত্রুকে বাহুপাশে বেঁধে মুখের কাছে নিয়ে আসে৷ তারপর শত্রুর গায়ে ঢেলে দেয় মুখের ভিতরে রাখা বিষের থলি থেকে কিছুটা বিষ৷ এটাই হলো অক্টোপাসের রণকৌল৷ মাথার নিচে টিউবের মধ্যে আছে গাঢ় কালো রঙ৷ যুদ্ধে বেগতিক দেখলেই পিচকারির মতো টিউব থেকে কালো রঙ ছিটিয়ে জলের ভিতর ধোঁয়ার জাল সৃষ্টি করে৷ ধোঁয়ার জালের আড়াল দিয়ে পালাবার সময় তীর বেগে জল ঠেলে পিছন দিকে লুকায়৷

 

অক্টোপাসের আর একটি রণকৌশল হলো গিরগিটির মতো রঙ পাল্টিয়ে শত্রুর চোখে ধূলা দেওয়া৷ অক্টোপাসের দেহে এমন বর্ণকোষ আছে যা দিয়ে সে নিমেষের মধ্যে রঙ পাল্টে ফেলে৷ কালো রঙ নিমেষের মধ্যে লাল রঙে রূপান্তরিত হয়৷

অক্টোপাসের নানা প্রজাতির ও নানা আকারের দেখা যায়৷ লিলিপুট থেকে দৈত্যাকৃতির অক্টোপাস৷ এক ইঞ্চির থেকেও ছোটো, আবার দুশো ফুট লম্বা৷ বৃহত্তম অক্টোপাস ( Octopus doffeine ) দানব স্বরূপ৷  এর এক একটি বাহুর দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট, এদের বাসস্থান ভারত মহাসাগর৷

অক্টোপাস মানুষের কাছাকাছি আসতে চায় না৷ সাধারনত গোপনচারী প্রাণী৷ অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রে ব্লু অক্টোপাস ( Ringed Octopus ) দেখা যায়৷ এদের বিষ এতই তীব্র যে আক্রান্ত মানুষ দু'ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়৷

সাধারণত অক্টোপাস শীতের শেষে বা বসন্ত কালে ডিম পাড়ে৷ জলের মধ্যে পাহাড়ের গুহায় ফাটলের মধ্যে ডিম পাড়ে স্ত্রী অক্টোপাস৷ ডিমের আয়তন ১/৮ থেকে ১/২ ইঞ্চি৷ লার্ভার আকার হয়ে এগুলো সাদা শিমের গুচ্ছের মতো হয়৷ সংখ্যায় ৬০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ৷ ডিম ফুটতে সময় লাগে চার থেকে আট সপ্তাহ ৷ Argonauta জাতের স্ত্রী অক্টোপাস বাসায় ডিম পাড়ে না, বদলে মাকড়সার মতন ডিমের থলি সাথে করে বেড়ায়৷ কয়েক জাতের অক্টোপাস দিনের বেলা, কিছু আবার রাতে বেলায় শিকারের সন্ধানে বের হয়।

Mailing List