উত্তরাখন্ডের হাওয়া এনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার কৌশল বিজেপির?

উত্তরাখন্ডের হাওয়া এনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার কৌশল বিজেপির?
03 Jul 2021, 12:20 PM

উত্তরাখন্ডের হাওয়া এনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার কৌশল বিজেপির?

 

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত। তার ফলে নতুন জল্পনার সৃষ্টি হল। উত্তরাখন্ডের হাওয়া এনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে ফেলার কৌশল নিল বিজেপি?

 

বর্তমান সময়ের নিরিখে এই প্রশ্নটি কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সদ্য নির্বাচন হওয়া রাজ্যগুলির যে দু’টি রাজ্যে বিধানসভায় না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে তা হল, উত্তরাখন্ড ও পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরাখন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তীরথ সিং রাওয়াত। আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে না এসেও যে কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতেই পারেন। কিন্তু শপথ নেওয়ার ছ’মাসের মধ্যে তাঁকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।

 

বর্তমানে দেশজুড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ফলে কোনও রাজ্যে লকডাউন তো কোনও রাজ্যে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ হয়েছে। কোথাও চলছে নাইট কারফিউ। এমন পরিস্থিতিতে কী আদৌ উপনির্বাচন করা সম্ভব? নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে অবশ্য চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও উপনির্বাচন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবেও সেই দাবি জানানো হয়েছে। যদিও কমিশন এখনও এব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি।  

 

উল্টোদিকে উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার পরই জানিয়েছেন, করোনার কারণে উপ-নির্বাচন সম্ভব নয়। তার ফলে সাংবিধানিক সঙ্কট দেখা দিতে পারে। যাতে তা না হয়, সে জন্যই তিনি আগেভাগেই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর ছ’মাসের মধ্যে আদৌ কমিশন নির্বাচন করবে কিনা, নাকি করোনার কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আর এই সময় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা তখন উদাহরণ হয়ে থাকবে। অভ্যন্তরে যে চাপ বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কারণেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তারখন্ডের হাওয়া দিয়েই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে বিজেপি। কারণ, দু’পক্ষের লড়াই যে সর্বত্রই।

ads

Mailing List