বিরিয়ানির বিল ৩ লক্ষ টাকা! কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ৮২ টি বিলে কোটি টাকার অসঙ্গতি, শুরু তদন্ত

বিরিয়ানির বিল ৩ লক্ষ টাকা! কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ৮২ টি বিলে কোটি টাকার অসঙ্গতি, শুরু তদন্ত
15 May 2022, 12:20 PM

বিরিয়ানির বিল ৩ লক্ষ টাকা! কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের ৮২ টি বিলে কোটি টাকার অসঙ্গতি, শুরু তদন্ত

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

এক আধ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ার গল্প নয়। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাকি বিরিয়ানি খেয়েছেন তিন লক্ষ টাকার! এমন বিল দেখার চোখ কপালে ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হতেই সামনে আসে বিরিয়ানি খাওয়া, গাড়ি ভাড়া, গাছ লাগানো সহ ৮১ টি বিলে রয়েছে অসঙ্গতি। তাতেই ফাঁপরে পড়ে যায় ইজারাদাররা। প্রাথমিক তদন্তে কর্তৃপক্ষ এও  নিশ্চিত হয়েছেন, ইজারাদাররা ভূয়ো বিল জমা দিয়েই প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল। তাঁদের সেইসব কারসাজি ধরা পড়ে গিয়েছে। ভূয়ো বিল জমা দেওয়া ইজারাদারদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাোর বিষয়েও স্বাস্থ্য দফতর একপ্রকার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে।

 

 এদিকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের এই বিল কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে। কাটোয়া হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির অন্যতম সদস্য তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় শনিবার বলেন, “ভুয়ো নথি দিয়ে কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। বিল যাচাই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা তা জানতে পেরেছি। ভূয়ো বিল জমা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হবে“। 

 

কাটোয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথা জানা গিয়েছে, যেসমস্ত বিলগুলি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সেই সময় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার ছিলেন ডাঃ রতন শাসমল। তিনি ২০১৫ এপ্রিল মাসে কাটোয়া হাসপাতালের সুপার পদে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তাঁর কার্যকালে দাখিল করা বিলগুলির মধ্যেই রয়েছে, হাসপাতালের স্টাফেদের বিরিয়ানি খাওয়া, গাড়ি ভাড়া, সবুজায়নের জন্য চারাগাছ কেনা, আসবাবপত্র কেনা, ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির কেনা প্রভৃতি। ২০১৯ -২০২০ আর্থিক বছরের শেষ দিক ওই বিল জমা করেছিলেন কিংশুক মণ্ডল নামে এক ইজারাদার। যদিও বিলগুলির নথিপত্রের অসঙ্গতি দেখে পেমেন্ট আটকে দেয় স্বাস্থ্য দপ্তর। এযাবৎ ওই ৮২ টি বিল মিলে এক কোটি টাকার উপর পেমেন্ট পেন্ডিং আছে।

কর্তৃপক্ষের কথায় এও জানা গিয়েছে,২০২১ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন সুপারের নেতৃত্ব রোগী কল্যান সমিতির বৈঠকে   যাচাই কমিটি গঠন করা হয় বিলগুলি পরীক্ষার জন্য। আর তখনই ৩ ঠিকাদারের বকেয়া বিলের নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা উপ স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী। তিনি এদিন  বলেন,“কাটোয়া হাসপাতালে বিল সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  যদিও ওই বিলগুলির এখনও টাকা মেটানো হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে“।

 

 

ভূয়ো বিলের বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ে যাবার পর অভিযুক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে কিংশুক মণ্ডল মুখ খুলতে চাননি। তবে  হাসপাতালে বিরিয়ানি সরবরাহকারী ইজারাদার পুষ্পেন্দু মাঝি বলেন, 'বিল ভূয়ো যদি তাঁরা দিয়েছিলেন তাহলে ওই সময়ে  কাটোয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন "ওয়ার্ক ডান" বলে ছাড়পত্র দিয়েছিল? শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতর ভূয়ো বিল নিয়ে কি পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে ইজারাদাররা।

ads

Mailing List