জার্মানির বার্লিন শহরের বুকে ট্যুরিজম অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় বার্লিন ইগনাইট ই.ভি মায়ের আরাধনায় মেতে উঠছে

জার্মানির বার্লিন শহরের বুকে ট্যুরিজম অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় বার্লিন ইগনাইট ই.ভি মায়ের আরাধনায় মেতে উঠছে
27 Sep 2022, 01:08 PM

জার্মানির বার্লিন শহরের বুকে ট্যুরিজম অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় বার্লিন ইগনাইট ই.ভি মায়ের আরাধনায় মেতে উঠছে

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: পাড়ায় পাড়ায় প্যান্ডেল বাঁধার কাজ শেষ, বাড়ি ঘরদোর পরিষ্কারের কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু এই মুহূর্তে যাঁরা নিজেদের ভিটেমাটি থেকে বহুদূরে রয়েছেন, তাঁরা কি পুজোর আনন্দ থেকে দূরে থাকবেন, ভৌগোলিক দূরত্বের মতো? উত্তর যে "না" তা বেশ ভাল রকম বোঝা যাচ্ছে সুদূর বার্লিনের আয়োজন দেখে।

জার্মানির বার্লিন শহরের বুকে ট্যুরিজম অফ বেঙ্গলের পৃষ্ঠপোষকতায় বার্লিন ইগনাইট ই.ভি মায়ের আরাধনায় মেতে উঠছে। আর তাঁদের পুজোর মূল আকর্ষণ কুমারী পুজো। জার্মানির মাটিতে সম্ভবত প্রথম কুমারী পুজো করছেন তাঁরা। নারী শক্তির প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে বছর আটের কন্যাকে মায়ের সাজে সাজিয়ে পুজো করা হয়। সমস্ত বয়সের ভক্ত, কুমারী মায়ের পায়ে ফুল দিয়ে পুজো করেন। পুজোর সঙ্গে আচার মেনেই নানা উপহার দেওয়া হয় ছোট্ট কুমারীকে। দেবীর কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন প্রত্যেকে। 

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই কুমারী পুজোর কুমারী নির্বাচন পদ্ধতি মোটেই খুব একটা সহজ ছিল না। বেশ কয়েক দফার আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ব্রাহ্মণ কন্যাকে কুমারী মা হিসেবে পুজো করা হবে। এ বছর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যোগ্যতার মাপকাঠি অনুযায়ী প্রতি বছর নিয়ম করে কুমারী নির্বাচন করা হবে। এ বছরের জন্য ইতিমধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে কুমারীকে। উদ্যোক্তাদের মতে কুমারি পুজো ছাড়া অসম্পূর্ণ দুর্গা পুজো। 

বাঙালিয়ানা এবং প্রবাসে উত্‍সবের এই মরশুমকে উপভোগ করতে ২০২১ সালে এই পুজোর শুরু। শ্রী হিন্দু গণেশ মন্দিরে ১৫ ই অক্টোবর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। কুমারী পুজো থেকে চণ্ডীপাঠ, সন্ধি পুজো থেকে মায়ের দর্পণে বিসর্জন, এই পুজো পালিত হবে নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গেই। কলকাতা থেকে যাচ্ছেন পুরোহিত। তাঁর তত্ত্বাবধানে সমস্ত বিধি এবং নিয়মাবলী অনুসরণ করা হবে। এই প্রচেষ্টায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামিল হয়েছেন সংগঠনের ১০০ জন সদস্য। একদিকে অফিস, অন্যদিকে ঘরের কাজকর্ম। তার মাঝেই সকলে চেষ্টা করছেন সময় বের করার পুজোর প্রস্তুতির জন্য।কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রতিমা।

তবে শুধু পুজো নয়, সঙ্গে থাকে পাঁচ দিনের বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নির্ভেজাল আড্ডা। অভিজিত্‍ সাহা জানিয়েছেন, "এই বছরের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা, যা অষ্টমীর সন্ধেতে অনুষ্ঠিত হবে।সেদিন উপস্থিত থাকবেন বার্লিনের বিশিষ্ট কিছু অতিথি।" তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রবাসের এই পুজোয় শুধু ভারতীয়রা নন, অন্যান্য দেশের মানুষও সামিল হয়েছেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রস্তুতি চলছে পুজো বার্ষিকীর। বাংলা কবিতা, গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে শারদীয়া সংখ্যা 'বার্লিন বার্ষিকী'। 

পুজো, অনুষ্ঠান এসবের সঙ্গেই স্বাভাবিক ভাবে উঠে আসে পেটপুজোর প্রসঙ্গও। পেটপুজো বাদে বাঙালির পুজো অসম্পূর্ণ, তাই পুজোর পাঁচ দিনই খাবারের তালিকা উদ্যোক্তারা ঢেলে সাজিয়েছেন সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য। থাকছে খিচুড়ি থেকে লাবড়া, চাটনি থেকে পায়েস। যার সমস্ত ভার বহন করছেন বার্লিনের ১২ টি ভারতীয় রেস্তঁরার কর্ণধারেরা।

Mailing List