অমৃত জীবন / মৌমিতা বিশ্বাস এর কলমে

অমৃত জীবন / মৌমিতা বিশ্বাস এর কলমে
15 May 2022, 10:30 AM

অমৃত জীবন / মৌমিতা বিশ্বাস এর কলমে

 

 

মৌমিতা বিশ্বাস

 

পাড়ার ঠিক মাঝখানে একটা ছোট্ট টলটলে পুকুর। আর তাকে ঘিরে একটা সবুজ পার্ক। গাছপালা দিয়ে ঘেরা। দোলনা টোলনা দিয়ে সাজানো। শহরতলীর শান্ত নিরিবিলি একটা মধ্যবিত্ত পাড়া। ছিমছাম। আর পাড়ার সমস্ত চোখ আর মন জুড়ানো শান্তি টুকু যেনো জমা হয়েছে ওই পার্ক আর পুকুরটার শরীরে। অন্য সব পাড়ার মতো এখানেও আস্তে আস্তে ফ্ল্যাট গজিয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটা। তাই এই শান্ত নিভৃতিটুকু আর কতদিন বজায় থাকবে বলা মুস্কিল।

 

যেরকম আর পাঁচটা পাড়ায় হয় এখানেও তেমন খুব সকালে আর বিকেলে এই পার্কে লোকজনের ভিড় হয় বেশ। বেশিরভাগ বাড়িতেই বাবা মা দুজনেই চাকরি করে তাই বাচ্চা গুলো দাদু দিদা বা আয়াদের কাছেই থাকে অনেকখানি সময়। সকালে পার্কটা দখলে থাকে প্রাত:ভ্রমণকারী অথবা জগিং করতে আসা বিভিন্ন বয়সি মানুষদের। আর বিকেলের দিকে বাচ্চাগুলো দাদু, দিদা বা আয়ামাসিদের হাত ধরে খেলতে আসে। অন্য অন্য জায়গার পার্ক গুলোর মতো এখানেও বিকেলের দিকে একটা ফুচকা আর আইস্ক্রিমওয়ালা কে বসে থাকতে দেখা যায়। তা তারা আজ অনেকদিন ধরেই বসছে এখানে। সবার সাথেই চেনা জানা হয়ে গেছে. মোটামুটি বিক্রি বাটাও খারাপ হয় না। তবে বেশিক্ষণ থাকেনা তারা। মোটামুটি বিকেলের দিকে দু’আড়াই ঘণ্টা থাকে। তারপর চলে যায় বেশ কিছুটা দূরে মোড়ের মাথায়। বড় রাস্তা থেকে যেখানে পাড়ায় ঢোকার রাস্তাটা বেরিয়ে সোজা আগমনী নামের নতুন ফ্ল্যাট বাড়িটার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেছে পাড়ার ভিতরে ঠিক সেই মোড়টায় দেখতে পাওয়া যায় তাদের বিকেলবেলায়। ওখান দিয়েই বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরে কলেজ বা অফিস ফেরত মুখগুলো। বেশ কিছু ফাস্ট ফুডের দোকানও আছে ওখানে। সাথে অটো টোটোর স্ট্যান্ড। হালকা সন্ধ্যা নামতেই তাই বিক্রিবাটা বাড়াতে ওখানেই চলে আসে তারা।

এইরকমই প্রায় শান্ত নিরুদ্বিগ্ন একটা জীবন কাটছিল গোটা পাড়ার। হঠাৎ কিছুদিন ধরে একটা পরিবর্তন ঘটলো। একটা আধা বয়স্ক বেলুনওয়ালাকে বিকেল একটু গড়াতে দেখা যেতে লাগলো পার্কের পাশে। তা এরকম বেলুনওয়ালা তো কত দেখতে পাওয়া যায়। লোকটার সঠিক বয়স বোঝা মুস্কিল। আধ ময়লা জামা কাপড় পরা। মুখে কাঁচা পাকা খোঁচা খোঁচা দাড়ি। উস্কো খুস্কো চুল। একটা পা একটু টেনে হাঁটে। চেহারা ছবি পছন্দ হওয়ার মতো একদমই নয়। নানারকম বেলুন, প্লাস্টিকের বাঁশি আর বল নিয়ে পার্কের বাইরের কোণের দিকের দেওয়াল ঘেঁসে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের তলায় বাঁধানো বেদীতে বসে থাকে সে। কারো সাথে বেশী কথা টথা বলে না। টুকটাক বিক্রি বাটা হয়। সেটুকু করতে যেটুকু কথা বলতে হয় সেটুকুই বলে। সন্ধ্যা নামার পর পার্ক অন্ধকার হয়ে যাওয়ার পরেও বেশ খানিকক্ষণ বসে থাকে সে। তারপর অন্ধকার আরেকটু ঘন হলে টুকটুক করে চলে যায় কোথায়। এখানকার পুরোনো দুই ফেরিওয়ালা এর সাথে আলাপ জমাতে গেছিলো প্রথম প্রথম।

তাকে বলেছিলো, "সন্ধ্যের পরেও এখানে বসে থেকে কি করো? পার্ক তো ফাঁকা হয়ে যায়। মোড়ের মাথায় বা বড় মার্কেট কমপ্লেক্সটার ধারে চলে যাও। ওখানে তাও রাত পর্যন্ত টুকটাক বিক্রি বাটা হবে।"

লোকটা উদাস চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে না বলেছে। কয়েকবার এরকম হওয়ার পরে একদিন বেশ স্পষ্ট ভাবেই বলে দিলো, তার বেশি বিক্রির দরকার নেই। এখানেই টুকটাক যেটুকু বিক্রি হয় তাতেই সে খুশি।

বলা বাহুল্য অযাচিত সুপরামর্শ হেলায় ফিরিয়ে দেওয়ায় পুরোনো দুজনের কেউই খুশি হয়নি। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে তারা, যে এ লোক নিশ্চয় গন্ডগোলের। নাহলে রোজগারপাতির ব্যাপারে এরকম উদাসীন কেউ হয় নাকি! তাদের এই অসন্তোষ আর সন্দেহ এক কান দুকান হতে হতে আয়াদের মারফৎ বাচ্চাগুলোর বাড়িতেও পৌঁছায়। প্রথম প্রথম কেউই পাত্তা দেয় না তেমন। কিন্তু পাত্তা দিতে হয় কিছুদিন পরে। আয়াগুলো এসে জানায় যে, লোকটা নাকি কিসব তাসের ম্যাজিক ট্যাজিক জানে।

প্রথম দিন এ পাড়ার পুরোনো বাসিন্দা বানার্জীবাবুর নাতি জিজোকে সে ম্যাজিক দেখিয়েছিলো। জিজো গেছিলো একটা পিং পং বল কিনতে। সে হলো এ পাড়ার সব থেকে বিচ্ছু বাচ্চা। তা তখনও পার্কে বেশী কেউ আসেনি। তাকেই প্রথম ম্যাজিক দেখিয়েছিলো সে। তারপর থেকে প্রায় রোজই বিকেলে গিয়ে জিজো ম্যাজিক দেখতে চাইতো তার কাছে। আস্তে আস্তে সব কটা বাচ্চাই ম্যাজিক দেখার নেশায় ঘিরে ধরতে লাগলো। ফুচকাওয়ালা নীলু একদিন ঘোষদের আয়াটার শালপাতায় চুরমুর তুলতে তুলতে বললো, " লোকটা কিন্তু সন্দেহজনক। ছেলেধরা টরা কিনা কে জানে বাবা।"

আয়াটা একটু ভীতু। মুখ তুলে বললো -"কি বলছো! কি করে বুঝলে"

নিলু বললো, "আরে এতদিন ব্যবসা করছি, কত ঘাটের জল খেলাম। ওসব আমরা চোখ দেখলেই বুঝতে পারি"

আয়াটা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে গেলো তার জিম্মায় থাকা নদী নামের বাচ্চা মেয়েটি কে নিয়ে।

সন্দেহটা কিন্তু আস্তে আস্তে চারিয়ে গেলো ভিতরে ভিতরে বেশ কয়েকটা বাড়িতে।

এর মধ্যে একদিন জিজো নামের সেই বিচ্ছু ছেলেটার দাদু তাকে নিয়ে বেরোনোর আগেই সে একাই পার্কে চলে এসেছিলো। একটু পরেই হন্তদন্ত হয়ে তার দাদু পার্কে এসে আর খুঁজে পেল না তাকে। আসে পাশের বাড়ি গুলোতে খোঁজ খবর শুরু হোলো। কিন্তু পাওয়া গেল না কোথাও।  হঠাৎ সবার নজরে এলো সেই বেলুনওয়ালাও নেই আজকে তার জায়গায়। সবাই দুয়ে দুয়ে চার করতে লাগলো। জিজোর বাবা মার কাছে ফোন গেলো। থানা পুলিশ হব হব করছে এমন সময় ওর দাদুর ফোন বাজলো। জিজোর বাবা ফোন করেছে। সে ছেলে বড় রাস্তা পেরিয়ে তার স্কুলের বন্ধু ঋকের বাড়ি চলে গেছে। ওর মা এইমাত্র ফোন করে জানিয়েছে। জিজোর বাবা মা দুজনেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছে। ওকে নিয়ে বাড়ি আসবে।

এরপর প্রায় সপ্তাহ খানেক বেলুনওয়ালার দেখা নেই। বাচ্চারা প্রথম দু’এক দিন একটু মন খারাপ করলেও তারপর আস্তে আস্তে তাদের স্বভাবসুলভ চঞ্চলতায় নিজেদের খেলা ধুলোয় মেতে গেছে।

 এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা যেটা ঘটলো সেটা হলো পার্কের একপাশে একদিন ভোরবেলায় স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন শরীরচর্চা করতে এসে দেখতে পেলো দুটো প্রায় সদ্যোজাত বিড়াল ছানা পড়ে আছে। সেদিন রবিবার ছিলো। কিছু পরেই দু একটা বাচ্চাও বাবার হাত ধরে দেখতে এলো বিড়াল ছানা দুটো কে। নদী নামের বাচ্চা মেয়েটা কান্নাকাটি জুড়ে দিলো ছানা দুটো কে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। শেষমেশ মেয়ের বায়নার কাছে হার মেনে ছানা দুটোকে বাড়ি নিয়ে গেলো ওর বাবা পার্থ। এর দু চারদিন পর থেকেই বেলুনওয়ালাটা আবার এসে বসতে লাগলো তার জায়গায়। এই কদিনে পরিবর্তন বলতে তার চেহারা আরো একটু শীর্ণ হয়েছে। চোখের তলায় আরো বেশ কয়েক পোচ কালি জমেছে। কিন্তু চোখের দৃষ্টি তীব্র হয়েছে আরও। দেখে মনে হয় কত ছায়াহীন ভীষণ দহনের রুক্ষ পথ পেরিয়ে এসেছে ওই চোখ দুটোর অধিকারী। কত অমূল্য জিনিষ জীবনের কানা গলিতে খুইয়ে তবে ওই দৃষ্টি পেয়েছে সে।

 জিজোর ঘটনার পর থেকে সবাই সতর্ক হয়ে গেছে একটু। এ যাত্রায় তাদের সন্দেহ মেলেনি ঠিকই। কিন্তু তাতে কি? ঘটনা ঘটতে কতক্ষন? "ওই রকম দুটো চোখওয়ালা লোক কখনও ভালো হতে পারে না", ফুচকাওয়ালা নীলু বললো আইস্ক্রিমওয়ালা সুরেশ কে।

 বাচ্চাগুলো খেলতে এলে নদী তার বিড়াল ছানা দুটোকে নিয়েই আসে। ছানা গুলো এই দু সপ্তাহে আরেকটু বড় হয়েছে। নদীর আয়ার কোলে চেপে আসে তারা। পার্কে বাচ্চাদের সাথে থুপ থুপ করে ছুটে ছুটে খেলে।

 এই রকমই একদিন বাচ্চা গুলো খেলায় মশগুল। আয়া গুলো নিজেদের মালিকদের নিন্দে মন্দ করতে ব্যস্ত নিজেদের মধ্যে। হঠাৎ কিছুটা দূরে পার্কের ওধারে যে রাস্তাটা বড় রাস্তাকে ছুঁয়েছে সেখান থেকে একটা হট্টগোলের আওয়াজ ভেসে এলো। আয়া গুলোর সম্বিত ফিরতে তারা দেখলো বিড়াল ছানা দুটোর একটা আর সেই সঙ্গে নদীও নেই পার্কে। এমন সময় মোড়ের মাথার রোল চাউমিনের দোকানদারটা হঠাৎ ছুটতে ছুটতে এলো পার্কে। সঙ্গে আরও দু তিনজন। জানা গেলো একটা বিড়াল ছানা কখন যেনো রেলিং পেরিয়ে বড় রাস্তার দিকে ছুটেছিলো। আয়ামাসিরা গল্পে মশগুল থাকার সুযোগে তার পিছন পিছন ছুটেছিলো আট বছরের নদীও। কেউ দেখেনি। শুধু বেলুনওয়ালা তার নিজের জায়গায় বসে দেখতে পেয়েছিলো। কথা বলে না বেশী মানুষটা। কারও সাথে বেশী আলাপ নেই তার। তাই কাউকে কিছু না বলে সে নিজেই ছুটেছিলো বাচ্চা মেয়েটাকে আটকানোর জন্য। ওদিকে যে বড় রাস্তা। যখন তখন লরি, বাস চলে আসে। আটকাতে সে পেরেছিলো ঠিকই। বিড়াল ছানা কোলে করে ফেরার পথ ধরা অন্যমনস্ক বাচ্চা মেয়েটা যখন ঊর্ধ্বশ্বাসে চলা একটা মিনি বাসের ঠিক সামনে এসে পড়েছিলো তখনই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেলে সরিয়ে দিয়েছিলো তাদের। কিন্তু নিজের শরীরের অর্ধেকটা ততক্ষনে চলে গেছিলো বাসের তলায়।

 বিশাল অ্যাকসিডেন্ট। থানা থেকে পুলিশ চলে এসেছে। প্রায় থেঁতলে যাওয়া শরীরটাকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। এখনও রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে একটু আধটু রক্ত আর ছেঁড়া মলিন জামার টুকরো। বাচ্চাগুলোকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে গেছে সবাই। আয়াগুলো ভয়ে ভয়ে আছে। এতো বড় ঘটনা তাদের জিম্মায় বাচ্চা গুলো থাকা অবস্থায় ঘটলো। কি জানি কার কপালে কি আছে। নদীকে একটু আগে ডাক্তার এসে দেখে গেছে। শরীরে চোট তেমন কিছু নেই। কিন্তু মনের চোট কতটা গভীর বোঝা যাচ্ছে না। জ্বর এসেছে মেয়েটার। ওষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে। মার কোলের ভিতরেও কেঁপে কেঁপে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। কাঁপছে তার মাও। ভাবতে পারছেনা আজ ওই নোংরা অপছন্দের বেলুনওয়ালাটা না থাকলে কি হতো। যাকে এতদিন সবাই সন্দেহ আর ঘৃণার চোখেই দেখেছে। কিছু কিছু মুহূর্ত আসে জীবন যেনো আচমকাই কোনো আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় মানুষকে। যে আয়না সেই সত্যিগুলোই দেখায় যে সত্যিগুলো মানুষের নিজের বিচক্ষণতা আর বুদ্ধির অহংকার কে নিমেষেই চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

 পরের দিন সকালে রাত জাগার ক্লান্তি কাটাতে মোড়ের চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়ে নদীর বাবা পার্থ জানতে পারলো এতদিন যাকে তারা বেলুনওয়ালা বলেই শুধু জানতো তারও একটা নাম আছে। ওর নাম রবি। শহরের এক কারখানায় কাজ করতো। এই পাড়া থেকে বেশ কিছুটা দূরে কলোনি এলাকায় বাড়ি। বউ আর একটা ছোটো ফুলের মতো মেয়ে ছিলো তার। চায়ের দোকানের ছেলেটার মামাতো ভাইয়ের একটা দোকান আছে ওই কলোনির পাশে। চায়েরই। খবর শুনে সেই বলেছে সব। এই যে কিছুদিন আগে পৃথিবীজোড়া মহামারীতে সব লোক মরছিলো, তাতেই মরেছে ওর বউ আর মেয়ে। শুধু রবি ফিরে এসেছিলো লড়াই করে। তারপর থেকেই মাথা টা কেমন পাগলাটে হয়ে গেছে তার। এর আগে একবার ওই রকমই ঘোরের মধ্যে রাস্তা পেরোতে গিয়ে পায়ের ওপর দিয়ে একটা ট্যাক্সির চাকা চলে গেছিলো। সেই থেকে খুঁড়িয়ে হাঁটতো সে। কাজকর্ম ছেড়ে দিয়েছিলো সব। ইদানিং বেলুন, প্লাস্টিকের বল এইসব নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলের সামনে আর স্কুল বন্ধ থাকলে যে সব মাঠে অথবা পার্কে এক দঙ্গল বাচ্চা খেলা করে সেই সব জায়গায় বসে থাকতো। আসলে বোধহয় সব বাচ্চার মধ্যে নিজের হারিয়ে যাওয়া মেয়েটাকেই খুঁজতো সে। কিন্তু কোথাওই বেশীদিন বসতে পারতো না। তার এই পাগলাটে হাভভাব আর চেহারার জন্য হয় পুলিশ পিছনে লাগতো আর নাহলে বাচ্চাগুলোর অভিভাবকরা ছেলেধরা ভেবে ধমকে ধামকে ভাগিয়ে দিতো। বড় কষ্টের জীবন হয়ে গেছিলো বেচারার।

 বাড়ি ফিরে আসছিলো পার্থ। চাওয়ালা বললো, "দাদা আপনাদের বাচ্চাটাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো বেচারার। কাল রাতে হাসপাতালে মারা গেছে খবর পেয়েছি। শান্তি পেলো। ওর মেয়েটা বাঁচেনি। কিন্তু আপনাদের মেয়েটাকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে যাওয়ার আগে। 

 

কি একটা যেনো বুঝতে না পারা গ্লানি নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে একবার পুব আকাশের দিকে তাকালো পার্থ। ঝলমল করছে আকাশটা। আকাশ বাতাস আলো করে হাসছে প্রথম সকালের রবির কিরণ।

লেখক: অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (রেভিনিউ)

ads

Mailing List