মৌমাছিও চাক বাঁধে পঞ্চায়েত প্রধানের ঘরে!

মৌমাছিও চাক বাঁধে পঞ্চায়েত প্রধানের ঘরে!
30 Nov 2022, 07:44 PM

মৌমাছিও চাক বাঁধে পঞ্চায়েত প্রধানের ঘরে!

 

সুলেখা চক্রবর্তী,  হাওড়া

 

ওরা ফি বছর আসে এই সময়ে। প্রথমে এক-দু’জন করে। পরে ঝাঁকে ঝাঁকে। ওরা দল বাঁধে। ওরা ঘরও বাঁধে। ওরা ঘুরে বেড়ায় হাওড়ার দ্বীপ এলাকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে। হলুদ সর্ষে ফুলের উপর। সারাদিন রেনুর সঙ্গে চুম্বন করে পরাগ সংযোগ ঘটিয়ে দেয়।দিনের শেষে‌ ক্লান্ত হয়ে ওরা ফিরে আসে হাওড়ার দ্বীপ এলাকার অন্যতম ভাঁটোরা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনের কার্নিশে। ওরা ঘুমিয়ে পড়ে। আবার সকালে বেরিয়ে পড়ে মধু আহরনে।

ওরা পরিযায়ী মৌমাছি। না, কেউ চাষ করে‌ না। ফি বছর ওরা আসে নভেম্বরে। চলে যায় এপ্রিলে। মাঝের এই সময়টুকু ওরা রীতিমতো খেলে বেড়ায় পঞ্চায়েত কর্মীদের সঙ্গে। স্বাগত জানায় পঞ্চায়েতে আসা হাজারো মানুষকে। ওদের সন্ততিরা ও ভোঁ ভোঁ শব্দে বলে আমরাও আছি। জানা গিয়েছে, হাওড়ার সুন্দরবন বলে পরিচিত দ্বীপ এলাকা ভাঁটোরা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবনের চারদিক বিস্তীর্ণ মাঠ। স্বাভাবিক ভাবেই ধান তোলার পর এই মাঠে সর্ষে চাষ করেন চাষীরা। ফুল ফুটলে হলুদে হলুদ শোভার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে পঞ্চায়েত ভবনটি। হলুদের সমারোহ সরকারী পরিষেবা নিতে আসা মানুষজন খুশি হয় পঞ্চায়েত ভবনের এক অংশে থাকা বিশাল বিশাল মৌচাক দেখে। ওরা পাহাড়ি মৌমাছি বলে পরিচিত এলাকায়। ওরা যদি এক বছর না আসে তা হলে মন খারাপ লাগবে বলে জানান পঞ্চায়েত কর্মী শিশির মুখার্জি, সুস্মিতা চক্রবর্তী, দীপক প্রামাণিক, নয়নতারা গায়েনরা।

অন্যদিকে পঞ্চায়েত প্রধান অশোক গায়েন, উপপ্রধান সুমনা দাস জানান, "ওরা আমাদের অতিথি হিসাবেই থাকে। ওদের কেউ কোনও বিরক্ত করে না। আমরা নজরও রাখি। শীত পড়লেই ওদের জন্য মন আনচান করে ওঠে।" উল্লেখ্য, শীতের সময়ে উইক এন্ড ডেষ্টিনেশন হিসাবে রূপনারায়ণ ও মুন্ডেশ্বরী নদী দিয়ে ঘেরা হাওড়ার দ্বীপ এলাকা ভাঁটোরা আদর্শ বলেও দাবি এলাকাবাসীর।

Mailing List