কুকুরের বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে স্ত্রীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন  ব্যাঙ্ক আধিকারিক

কুকুরের বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে স্ত্রীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন  ব্যাঙ্ক আধিকারিক
06 Sep 2021, 05:10 PM

কুকুরের বেল্ট দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে স্ত্রীকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন  ব্যাঙ্ক আধিকারিক

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন:  বিয়ের পর থেকেই অশান্তি লেগেছিল। রবিবার রাতে সেই অশান্তি চরমে ওঠে। তারপরেই স্ত্রীর গলায় কুকুরের বেল্ট জড়িয়ে খুন করলেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক। তারপরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ  করেন ওই ব্যাঙ্ক আধিকারিক। 

এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার বামুনারা এলাকায়। সেখানেই একটি বহুতল আবাসনে থাকতেন একটি রাস্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাঙ্কের অ্যাসিট্যান্ট ম্যানেজার বিপ্লব পরিয়াদ ও তার স্ত্রী ইপসা প্রিয়দর্শিনী। 

চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে কটুক্তি আর অত্যাচার সহ্যের বাইরে চলে যাওয়াতেই তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন বলে দাবি করেছেন বিপ্লব।  স্ত্রীকে খুনের পরে রবিবার রাতেই মোটরবাইক চালিয়ে কাঁকসা থানাতে যান বিপ্লব। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে খুন করে এসেছেন।‌ "লাশ বাড়িতে পড়ে আছে। নিয়ে আসুন।" সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে তাঁর ঘরের দরজা খুলে দেখেন তাঁর স্ত্রীর দেহ পরে আছে মেঝেতে।  

পুলিশ জানায়, মৃতের নাম ইপ্সা প্রিয়দর্শনি (২৫)। তাঁর স্বামী বিপ্লব পরিয়াদ কুকুরের গলায় লাগানোর বেল্ট দিয়ে ইপ্সার গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে খুন করেছেন বলে নিজেই থানায় এসে জানিয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতার করে  তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে দেখাশোনা করেই কটকের বাসিন্দা ইপ্সা প্রিয়দর্শনির সঙ্গে বিপ্লব পারিয়াদের বিয়ে হয়। বিপ্লব পারিয়াদ কর্মসূত্রেই বামুনারা এলাকায় একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। ওই ফ্ল্যাটে তাঁর একটি পোষ্য কুকুর ছিল। বিপ্লবের অভিযোগ,  বিয়ের পর থেকেই ইপ্সা নানা বিষয়ে বায়না করতেন। যখন-তখন দামি-দামি জিনিস কেনার দাবি জানাতেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই জিনিস কিনে দিতে না পারলেই অশান্তি করতেন। রবিবার রাতে তাঁদের অশান্তি চরমে ওঠে। স্ত্রীর বায়না সহ্য করতে না পেরেই উত্তেজিত হয়ে বিপ্লববাবু তাঁর পোষ্য কুকুরের গলায় বাঁধা বেল্ট ইপ্সার গলায় জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে খুন করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ইপ্সার। তারপরই  অনুশোচনায়  তিনি রাতেই মোটরবাইক চালিয়ে কাঁকসা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

 

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে কর্মরত বিপ্লব পারিয়াদ যে স্ত্রীকে খুন করতে পারেন, তা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি কাঁকসা থানার পুলিশকর্মীরাও।  পরে  তাঁর বয়ানের ভিত্তিতে এটা খুনের মামলা করেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে।

ads

Mailing List