বাইশ গজের বাইরেও বাজিমাত সৌরভের

বাইশ গজের বাইরেও বাজিমাত সৌরভের
24 Oct 2022, 10:15 AM

বাইশ গজের বাইরেও বাজিমাত সৌরভের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদনঃ এক ঢিলে তিন পাখি মারলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। একেবারে শেষ মুহূর্তে কৌশলগত ভাবেই সিএবি সভাপতি নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। সেই সঙ্গে কার্যত বিরোধী শুন্য সিএবিতে নিজের পছন্দের প্যানেলকেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জিতিয়ে আনলেন। সেই প্যানেলে সভাপতি হলেন তাঁরই দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।

আগেই ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ভোট হলে তিনি সিএবি সভাপতি পদে লড়াই করবেন। আর তাতেই অর্ধেক কাজ হয়ে গিয়েছিল। সৌরভের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করার মতো বুকের পাটা আজকের সিএবিতে কজনের আছে বলা কঠিন। তাই সৌরভ লড়বেন শুনে তাঁর বিরোধীরা পয়লা রাউন্ডেই ম্যাচ হেরে গিয়েছিল। যেটা চাইছিলেন সৌরভ। তিনি চেয়েছিলেন বিরোধী শুন্য সিএবি। আর রবিবার ঠিক সেটাই হল। বিরোধীরা কোনও মনোনয়নই জমা দিল না। সিএবিকে বিরোধী শুন্য করার কাজটা তাই সৌরভের পক্ষে অনেক সহজ হয়ে গেল।

দ্বিতীয়ত সিএবির কোনও পদে এখনই বসলে তাঁর গত ৬ বছরের সঙ্গে পরের তিন বছর যোগ করলে ৯ বছর হয়ে যাচ্ছিল। সেক্ষেত্রে কী সিএবি, কী বিসিসিআই যে কোনও জায়গাতেই আটকে যেতেন সৌরভ। তাহলে আগামীদিনে বোর্ডে ফেরার রাস্তাটা বন্ধই হয়ে যেত। সে সম্ভাবনাও খোলা রাখলেন মহারাজ। আর তার থেকেও গুরুতৃবপূর্ণ তা হল জনতার আবেগ। বোর্ড থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার শত্রু শিবিরের কাছেও কিছুটা শহিদের মর্যাদা পাচ্ছিলেন সৌরভ। তাঁকে এ ভাবে সরিয়ে দেওয়ায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত বারবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। আপাতত তিনি গোটা রাজ্যের সহানুভূতি পাচ্ছেন। ঠিক এই অবস্থায় তিনি যদি এখন দুম করে আবার সিএবির সভাপতি হয়ে যেতেন তাহলে পরিস্থিতিটা কী এরকম থাকতো? পদ লোভী বা ক্ষমতা লোভী তকমা লেগে যেত, যা খুব ভালো বুঝেছিলেন সৌরভ। তাই সযত্নে এড়িয়ে গেলেন সিএবির কোনও পদ।

তবে যেটা শোনা যাচ্ছে, বোর্ডে তিনি হয়তো সিএবির প্রতিনিধি হিসেবে যাবেন। সেটা হলে আখেরে লাভ সৌরভেরই। তাহলে বোর্ড রাজনীতির এবিসিডি জানা সৌরভ একদিকে বাংলা ক্রিকেটের স্বর হতে পারবেন, পাশাপাশি বোর্ড রাজনীতিতে কামব্যাক করার কাজটাও মসৃণ ভাবে করতে পারবেন। আর কামব্যাকের কথাই যদি হয়, তাহলে তিনিই তো সেরা, তা আর কে না জানে।

Mailing List