প্রকাশিত হল 'অনুভবে সুন্দরবন'  

প্রকাশিত হল 'অনুভবে সুন্দরবন'   
24 Jul 2022, 06:10 PM

প্রকাশিত হল 'অনুভবে সুন্দরবন'

 

নরেন হালদার

 

সুন্দরবনের পটভূমিতে লেখা বিজয় চক্রবর্তীর গল্পের বই 'অনুভবে সুন্দরবন' প্রকাশিত হল। সুন্দরবনের জনজীবন, পশুপক্ষী, অরণ্য, নদী-নালা নিয়ে লেখা উনচল্লিশটি ছোট-বড় গল্পের সমাবেশে এই বইটি সুন্দরবনের জীবন্ত দলিল বলা যায়।

 

মেদিনীপুরের উপকণ্ঠে গোপগড় ইকোপার্কের সভাকক্ষে রবিবার সকাল এগারটার সময় মেদিনীপুর জেলার DFO সন্দীপ কুমার বেরোয়ালের হাত ধরে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়। প্রকাশমঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ADFO শুভাশিস ঘোষ, সম্পাদক ঋত্বিক ত্রিপাঠি, গল্পকার মৌসুমী ঘোষ, রাজীব ঘোষ, সন্দীপ দত্ত, গায়ক স্মৃতি সাহা, কবি রাখহরি পাল, তাপস কুমার দত্ত, সত্যব্রত দোলুই, আশীষ কুমার দণ্ডপাঠ, অচিন্ত্য মারিক প্রমুখ নামকরা ব্যক্তিরা।

 

অনুষ্ঠানে বইটি সম্বন্ধে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন আশীষ দণ্ডপাঠ, সন্দীপ কুমার বেরোয়াল, রাজীব কুমার ঘোষ প্রমুখ। বনদপ্তরের আধিকারিক বিজয় চক্রবর্তী কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন সুন্দরবনে থাকার সুবাদে সুন্দরবনকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সুন্দরবনের প্রকৃতি ও পরিবেশকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। আর তারই ফল এই গ্রন্থ।

 উনচল্লিশটি গল্পের মধ্যে উল্লেখ করতে হয় 'বাঘ বন্দী খেলা', 'মৌউলি', 'ভুতুড়ে কাকড়া ও ঝড়ের রাত', 'মাতলা', 'সুন্দর খালি', 'জন্মদিন', 'উদ্বাস্তু'-র কথা। প্রথম গল্পে পরিপাটি করে খাঁচা বসিয়ে মানুষখেকো বাঘ ধরার পরিকল্পনা করলেও শেষ পর্যন্ত বাঘ ধরা পড়ে না বলে লেখকের মনে প্রশান্তির বাতাস বয়ে যায়। কেননা জঙ্গলের মুক্ত বাঘকে চিড়িয়াখানায় বন্দি হতে হবে না। 'উদ্বাস্তু' গল্পে লেখক প্রয়োজনের তাড়ায় বাঘ দ্বারা হরিণ শিকার আর প্রয়োজনের তাড়ায় রোহিঙ্গাদের ভারতভূমি আশ্রয় - মিলিয়ে দিয়েছেন। 'মাতলা' গল্পে মাতলা নদীকে কেন্দ্র করে লেখকের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। এক সময় যে মাতলা সর্বগ্রাসী হয়ে অনেক মানুষের প্রাণ নিয়েছে সেই মাতলাই এখন জরাজীর্ণ মুমূর্ষ হয়ে পড়ে আছে। বালির উপর জলের ঢেউ যে আঁকাবাঁকা দাগ রেখে গেছে তা যেন ক্ষমতাহীন হাড়গোড় বেরোনো বৃদ্ধ হয়ে সেই পাপের প্রায়শ্চিত করছে। 'জন্মদিন' গল্পটি এক বিলুপ্তপ্রায় কচ্ছপের বংশবৃদ্ধির কথা নিয়ে লেখা। ঝড় জল বজ্রবিদ্যুতের মধ্যেও ডিম ফুটে বাচ্চা বেরিয়ে আসায় জীবনের জয়গান করেছেন লেখক।

 

  গল্পগুলি লেখার পটভূমি বলতে গিয়ে লেখক আমাদের জানিয়েছেন নিজের অভিজ্ঞতার কথা। আধিকারিক হিসেবে কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে চোখের সামনে যা দেখেছেন তার সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন অনুভবের বাস্তবতাকে। বইটি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গল্পকার রাজীব ঘোষ বলেছেন বইটি সুন্দরবনের জীবন্ত দলিল। যে কেউ সুন্দরবনে বেড়াতে যান বা কর্মসূত্রে যান সবাইকেই এই বইটি পড়তে হবে। ঝরঝরে ভাষায় লেখা এ বইতে উঠে এসেছে মানুষ এবং পশুর একসাথে বসবাস করে জীবন সংগ্রামের কথা। DFO  সন্দীপ কুমার বেরোয়ালের কথায় বইটির সাদাকালো ছবি এবং বিষয়বস্তু সুন্দরবনের প্রকৃত জীবন চিত্রকে তুলে ধরেছে। আশীষ দণ্ডপাঠ এর কথায় ব‌ইটিতে উঠে এসেছে সুন্দরবনের তথ্যসমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রের কথা। আশা করা যায়, বইটি পাঠকের ভালো লাগবে।

Mailing List