মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই চলেছেন অনুব্রত মন্ডল! দাবি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দর

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই চলেছেন অনুব্রত মন্ডল! দাবি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দর
13 Aug 2022, 10:30 PM

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই চলেছেন অনুব্রত মন্ডল! দাবি প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দর

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

গরু পাচার মামলায় সিবিআই গ্রেপ্তার করেছে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। আর অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তার হতেই কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বোমা ফাটালেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়।

২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিত্যানন্দ বাবু শনিবার দাবি করলেন, কলকাতায় নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিলরদের মিটিংয়ে চুরিতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই করতে বলেছিল। তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই অনুব্রত মণ্ডল গোটা বীরভূম জেলা সহ আউশগ্রাম,কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটের সমস্ত পঞ্চায়েত এবং ছয়টি পৌরসভা থেকেও টাকা তুলতো। নিত্যানন্দ বাবু জানান, অনুব্রত জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে এটা তিনি বেঁচে থাকা কালীন হয়তো দেখে যেতে পারবেন না। কারণ এরপর অনুব্রতর ঠাঁই হয় তিহার জেলে নয়তো উড়িষ্যার জেলে হবে। নিত্যানন্দ বাবুর এইসব বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্ব নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের এইসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

 

 বিজেপি নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের গুসকরা পুরসভা এলাকায়। নিত্যানন্দবাবু দাবি করেন, অনুব্রত ওরফে কেষ্ট মণ্ডলের অনেক আগে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দিয়েছিলেন। তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে তিনি তৃণমূল দল করে গিয়েছেন। তৃণমূলের হয়ে ভোটে লড়ে তিনবার তিনি গুসকরা পুরসভার কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বরর পর অমিত শাহের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। পাশাপাশি নিত্যানন্দবাবু এও জানান, তিনি না খেতে পাওয়া অনুব্রত মণ্ডলকে দেখেছেন। অনুব্রত কে হাটে ’মাগুর মাছ’ কাটতে দেখেছেন । অনুব্রতর হাহাকারও দেখেছেন। তাই তিনি তখন অনুব্রতকে সাহায্য সহযোগীতা করতেন। কিন্তু সেই অনুব্রত যে ২০১৪ সালের পর থেকে এত ’ডেনজারাস’ ও ’ফিউরিয়াস’ হয়ে যাবে তা তিনি ভাবতেও পারেননি।

 

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কি হবে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন নিত্যানন্দবাবু। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর ওই দলের নাম নিশান আর থাকবে না। অস্তিত্বও থাকবে না। শুধু ইতিহাসের পাতায় মমতার কলঙ্কময় অধ্যায় টুকু লেখা থাকবে অত্যন্ত কুৎসিত ভাবে।

 

গরু পাচার মামলায় অনুব্রত ও সায়গলকে সিবিআইয়ের তলব করা প্রসঙ্গে বলার সময়ে বিস্ফোরক দাবি করেন নিত্যানন্দ বাবু। তিনি বলেন, সায়গল শুধুমাত্র অনুব্রতর দেহরক্ষী ছিলনা ,অনুব্রতর ব্যক্তিগত সচীবও ছিলেন। কেষ্ট মণ্ডল ও পুলিশের একটাই উদদেশ্য ছিল সায়গলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া। কারণ সায়গল তো খুব ভালো ভাবে জানতো বীরভূম ও বর্ধমানের পুলিশ সুপারের মাধ্যমে স্কটকরে মুড়ির টিনে ভরে টাকা কলকাতায় কারকার কাছে যেত। সায়গলকে মেরে দেওয়ার চক্রান্ত যে করতে পারে সে সব করতে পারে। অনুব্রত সায়গলকে মেরে দিয়ে রাজসাক্ষী হওয়া শেষ করতে চেয়েছিল। একই সঙ্গে নিত্যানন্দবাবু বলেন, স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য অনুব্রত আমার কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল। সায়গল আমার হাত থেকে ওই টাকাটা নিয়ে অনুব্রতর উপস্থিতে গুনে ছিল। সেই টাকা আমি হুমকির শুরে ফেরৎ চেয়ে চাপ দিয়েছিলাম বলে আমায় মিথ্যা কেস দিয়ে জেল খাটানো হয়।   

 

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে নিত্যান্দবাবু বলেন, মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় খুব সহজেই চোখ উল্টেদিতে পারেন। অটলবিহারীর বাজপেয়ীর মন্ত্রীসভায় থাকার সময় ’তহেলেকা’ গায়ে মাখে না খায়, জর্জ ফার্ণানডেজকে অপরাধীকরে পদত্যাগ করে উনি নিজের স্বচ্ছতা প্রমান করেছিলো। অথচ পার্থ এত দুর্নীতি করেছে, অনুব্রত এত দুর্নীতি করেছে এইসব নাকি মমতা কিছুই জানতো না ! নিত্যনন্দ বাবু দাবি করেণ সবচেয়ে বড় চোর ওরা নিজেরাই। অনুব্রতকে  যে ভাবে মমতা পরিচালনা করেছে সেই ভাবেই অনুব্রত পরিচালিত হয়েছে। শুধু প্রশংসা করে অনুব্রতকে ডাকাতে পরিণত করেছে মমতা। তাইতো অনুব্রত ১৬টা -২০টা রাইসমিল, চিনি কল ও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। ওর মেয়ে একদিনও শিক্ষকতা করতে যায়নি ।শুধু রাইসমিলে বসে ম্যানেজারি করে ।এমন কলঙ্কময় ঘটনা সারা পৃথিবীতে কখনও হয় নি ।যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় তৈরি করলেন । এরজন্য মমতাকেও শেষ পর্যন্ত জেলে যেতে হবে না তো?বিজেপি নেতা নিত্যানন্দবাবু এই প্রশ্ন তুলেদিয়ে কার্যত রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়েছেন ।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু এই প্রসঙ্গে বলেন, বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকে বিজেপি নেতারা কার্যত উন্মাদ হয়ে গেছে। তাই ওরা উন্মাদ সুলব কথাবার্তা বলছে। ইডি ও সিবিআইকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দলকে সাময়িক বিব্রত করা যাবে, কিন্তু বিজেপির বাংলা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।

 

Mailing List