অসুস্থ হিন্দু বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্তদান করে নজির মুসলিম শিক্ষকের

অসুস্থ হিন্দু বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্তদান করে নজির মুসলিম শিক্ষকের
03 May 2022, 10:00 AM

অসুস্থ হিন্দু বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোজা ভেঙে রক্তদান করে নজির মুসলিম শিক্ষকের

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

রাত পোহালেই মঙ্গলবার দেশ জুড়ে পালিত হবে পবিত্র ইদ উৎসব। তার ৪৮ ঘন্টা আগে এক অসুস্থ হিন্দু বৃদ্ধকে প্রাণে বাঁচাতে রোজা ভঙ্গ করেই রক্ত দিলেন এক মুসলিম শিক্ষক। মহতি ওই শিক্ষকের নাম মিসকিন মণ্ডল।তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝুঝকো ডাঙা গ্রামে। শিক্ষক মিসকিন মণ্ডলের এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা জেনে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ আপামর ভাতারবাসী। 

যদিও রক্তদানকারী শিক্ষক মিসকিন মণ্ডল জানিয়ে দেন,“ধর্ম যাঁর যাই হোক -মানবিকতাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। সেই চিরন্তন সত্যকে মান্যতা দিয়েই হিন্দু বৃদ্ধকে প্রাণে বাঁচাতে তিনি রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে জেনেও রক্ত দান করেছেন।

 

ঝুঝকোডাঙ্গা নিবাসী ধর্মপ্রাণ মিসকিন মণ্ডল এলাকারই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধা ঠাকুমা বাবা ও মা। বছর ২৫ বয়সী শিক্ষক মিসকিন পরোপকারী ও মানব দরদি হিসাবেই এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। তিনি দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান। এমনকি ওইসব দুঃস্থ পরিবারের খুদে পড়ুয়াদের পোশাক ও বইখাতা পর্যন্ত তিনি নিজের অর্থে কিনে দেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন,এইসব কর্মকাণ্ড ছাড়াও মিসকিন নিজে উদ্যোগ নিয়ে প্রতিবছর গ্রামে ইদ উৎসব অনুষ্ঠান আয়োজন যেমন করেন তেমনি সরস্বতী পূজোরও আয়োজন করে থাকেন। সেই শিক্ষক মিসকিন মণ্ডল ইদের প্রাক্কালে মানবিকতার দৃষ্টান্ত তৈরি করে সবার শ্রদ্ধা ও ভালাবাসা কুড়িয়ে নিলেন।

মিসকিন মণ্ডল এদিন বলেন, তিনি বছর ৭৭ বয়সী হিন্দু বৃদ্ধ ধীরেনচন্দ্র দত্তকে প্রাণে বাঁচাতেই রক্ত দান করেছেন। ওই বৃদ্ধ ভাতারের খেতিয়ার বাসিন্দা।সীমাহীন রক্তাল্পতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই বৃদ্ধ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃদ্ধকে সুস্থ করে তুলতে হলে ’o’ পজিটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন বলে চিকিৎসকরা তাঁর পরিবার সদস্যদের জানিয়ে দেন। কারণ বৃদ্ধর শরীরের রক্ত ’o’ পজিটিভ গ্রুপের। কিন্তু ’o’ পজিটিভ গ্রুপের রক্তের কোন ডোনার না পেয়ে বৃদ্ধর পরিবারের লোকজন ফেসবুকে কাতর আবেদন রাখেন। মিসকিন জানান, তিনি রোজা রেখেছেন। সোমবার  সকালের নামাজ সেরে তিনি বাড়িতে ছিলেন। ঘরে বসে ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে তিনি অসুস্থ বৃদ্ধর পরিবারের ওই ফেসবুক পোস্ট দেখতে পান। বৃদ্ধর পরিবারের এক সদস্য রক্তাদান করার জন্য কাতর আকুতি জানিয়ে ফেসবুকে ওই পোস্টটি করেছিলেন। মিসকিন বলেন, যেহেতু তাঁর রক্তের গ্রুপ ’o’ পজিটিভ তাই বৃদ্ধর পরিবার সদস্যদের ওই কাতর আবেদনে সাড়া না দিয়ে তিনি থাকতে পারিনি। আর কয়েক ঘন্টা সময় কেটে গেলেই হয়তো সোমবার রোজা সম্পূর্ণ হয়ে যেত। তবুও রোজা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে ধরে নিয়েই তিনি বৃদ্ধকে প্রাণে বাঁচাতে বর্ধমান হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ছুটে যান। সেখানে বৃদ্ধর জন্য ২ ইউনিট রক্ত দান করেন। বৃদ্ধ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর এই রক্তদান স্বার্থক হবে বলে শিক্ষক মিসকিন মণ্ডল এদিন দাবি করেন। রোজা ভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় কি আফসোস রয়েছে মনে? এই প্রশ্নের উত্তরে মিসকিন বলেন,“মানুষের জীবনের মূল্য একটা-দুটো রোজার থেকে অনেক বেশি। ওপরওয়ালা হয়তো ভেবে রেখেছিলেন রোজা মাসে আমাকে দিয়ে এমন মানবিক কাজ করাবেন। আর সেটাই এদিন হল।'

ads

Mailing List