একটি পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা ‘আমিই সে’ / ত্রয়োদশ পর্ব

একটি পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা ‘আমিই সে’ / ত্রয়োদশ পর্ব
03 Oct 2021, 03:30 PM

আমিই সে’

(একটি পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা)

 

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

ত্রয়োদশ পর্ব

 

সে এক অকল্পনীয় দৃশ্য।

ভক্ত ভগবানের কাছে প্রাণভয়ে কাতর স্বরে আকুতি জানাচ্ছে প্রাণশক্তি না হারিয়ে ফেলার--- আরো বেশি কিছু দিন পৃথিবীর আলো, রূপ-রস-গন্ধ স্পর্শ আহরণ করতে --- প্রকৃতির কোলে আরো কিছুদিন বেঁচে থাকার জন্য। ঈশ্বরের কাছে আরো বেশি করে প্রার্থনা করতে। কারণ তিনিই তাকে মর্ত্যধামে পাঠিয়েছেন পৃথিবীর শোভা উপলব্ধি করতে, কর্ম করতে,  জীবনের জ্ঞান সঞ্চয় করতে।

 

আর এক কর্মী, যার কাজই হলো জন্ম আর মৃত্যুর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা, মরলোকের থেকে জীবাত্মাকে ক্রমন্নোতির জন্য জন্ম-মৃত্যুর চক্রের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ক্রমঃ উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা করে যেতে।

উভয়েই নিজের নিজের বিচারে অনঢ় হয়ে রইল।

মানুষ তার আয়ুষ্কাল শেষ হবার পরেও আমৃত্যু বলে যেতে চায়, " মরিতে চাহি না আমি এ সুন্দর ভুবনে,/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই.."। নির্দিষ্ট সময়ের পরও সে কায়মনোবাক্যে চায় এই কল্পজগতের সুখ-শান্তি আরও বেশি দিন ভোগ করতে।

 

আর অপরদিকে জগৎ-সৃষ্টিকারীর যিনি কর্মকাণ্ডের সর্বকালের সর্বনিয়ন্ত্রা, কালান্তক যম, তিনি একনিষ্ঠ কর্মপ্রচেষ্টায় চাইছেন কালহরণ না করে যে জীবের জীবন-কাল সম্পূর্ণ, তার জীবাত্মাকে হরণ করে বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সর্বময় কর্তার কাছে সমর্পণ করতে।

 

এই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ের খেলা চলছিল যম আর কিশোর মার্কন্ডেয়র মধ্যে।

এই সময়ে হঠাৎ করে যে শিবলিঙ্গকে আঁকড়ে ধরে দেবাদিদেব শিবের কাছে প্রাণভয়ে ভীত হয়ে সাহায্যের জন্য কাতর কন্ঠে জীবনের আশায় প্রার্থনা মার্কন্ডেয়। সেই মূর্তির ভিতর থেকে ভক্ত-বৎসল শিব আবির্ভূত হলেন। যমকে ক্রুদ্ধ হয়ে নিষেধ করেন তাঁর পরম ভক্ত ও আশ্রিত মার্কন্ডেয়কে মরলোক থেকে না নিয়ে যেতে।

 

যমও তার কর্তব্যে অনড় থাকে। তখন দেবাদিদেব আক্রমণ করেন যমকে। যুদ্ধে পরাজিত হয় যম এবং তার ফলে মার্কন্ডেয়র ওপর থেকে তার দাবী ত্যাগ করে যমালয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

 

বলা বাহুল্য, এর ফলে মার্কন্ডেয় তার নবজীবন ফিরে পায় ও শিব যমকে পরাভূত করার কারণে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ নামে আখ্যায়িত হলেন।

 

আর অন্যদিকে মার্কন্ডেয়-ও তার বাবা-মা-র কাছে ফিরে গেল তার পরম শিবানুরাগ ও শিব-ভক্তির হেতু।

 

আর জগতসৎসার পেল ভাবীকালের এই পরিণত প্রবুদ্ধ মার্কন্ডেয়কে, যে প্রলয়কাল- অবসানকল্পেও একমাত্র জীবিত সত্ত্বা হিসাবে বালক-রূপী জগৎবন্ধু শ্রীহরির উদরমধ্যে সুদীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে, তাঁর মুখবিবর থেকে আবার অনন্ত-সলিলমধ্যে হাজির হল।

(চলবে..)

ads

Mailing List