Devi Annapurna দুর্গাপূজার বিকল্প! নবান্ন উপলক্ষে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো পুরুলিয়ার একাধিক স্থানে

Devi Annapurna দুর্গাপূজার বিকল্প! নবান্ন উপলক্ষে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো পুরুলিয়ার একাধিক স্থানে
09 Dec 2021, 03:40 PM

দুর্গাপূজার বিকল্প! নবান্ন উপলক্ষে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো পুরুলিয়ার একাধিক স্থানে

,

আশিস বন্দোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

 গ্রামে দুর্গাপূজা হয় না। শারদোৎসবের আনন্দ থেকে তা বলে বঞ্চিত হবে গ্রামের মানুষ। তাই বিকল্প ব্যবস্থা। অগ্রহায়ণের নতুন ধান উঠা কে কেন্দ্র করে আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে শুরু হলো নবান্ন উৎসব দেবী অন্নপূর্ণার পুজো।

 

তিথি মেনে অগ্রহায়নের শুক্লা পঞ্চমীতে শুরু হলো অন্নপূর্ণা পূজো। দুর্গাপূজার মতো এখানেও সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিন ধরে মহাসমারোহে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো হয়। গ্রামের আট থেকে আশি সকলে মেতে ওঠে। পূজো উপলক্ষে বাপের বাড়ি আসেন বিবাহিত মহিলারা। যারা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন তাঁরাও ওই সময় ফেরেন বাড়িতে। তবে এবছর করোনা বিধি মেনেই করা হচ্ছে এই পুজো এমনটাই উদোক্তারা জানিয়েছেন।

 

পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমার একাধিক গ্রামে এই পুজো হয়। যার মধ্যে রঘুনাথপুর 2নম্বর ব্লকের ধানাড়া গ্রামের অন্নপূর্ণা পূজো সব থেকে প্রাচীন ও বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ধানাড়া গ্রামের দেওঘরিয়া ও চট্টোপাধ্যায় পরিবার একত্রে এই পুজোর আয়োজন করে থাকেন। তবে এই গ্রামে অন্নপূর্ণা পুজো হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে। 186বছরের পুরনো এই পূজাকে কেন্দ্র করে আছে বেশ কিছু ঘটনা।

 

শোনা যায়, পুরুলিয়ার কাশিপুর রাজ বংশের রাজা জ্যোতিপ্রসাদ সিংদেও নিজে এসে এই ধানাড়া গ্রামের অন্নপূর্ণা পূজো শুরু করে প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন। রাজা খুশী হয়ে গ্রামের কয়েকটি পরিবারকে দেওঘরিয়া উপাধি দেন। পাশাপাশি দেবী অন্নপূর্ণার নামে বেশ কিছু চাষের জমিও দান করেছিলেন রাজা। ওই জমির ফসল থেকেই ফি বছর পুজোর খরচ চলতো। এছাড়া এসব জমির ধান থেকে যে চাল পাওয়া যেত তা থেকেই হত পঞ্চগ্রামের মহাভোজ। এই মহাভোজের বৈশিষ্ট্য হলো যে পরিবার যেদিন পুজোর দায়িত্ব পেত, সেই পরিবারকে সেদিন এলাকার পাঁচটি গ্রামের হাজার পাঁচেক মানুষকে নতুন চালের অন্নভোগ খাওয়াতে হতো। এছাড়া জাতি ধর্ম পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে এই অন্নভোগ গ্রহণ করেন।

 

তবে বর্তমানে সেই প্রাচীন নিয়ম নীতি মেনেই ধানাড়া গ্রামে অন্নপূর্ণা পূজা হলেও জৌলুস অনেকটা কমেছে ।পুজো উদ্যোক্তারা তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, নবনী চট্টোপাধ্যায়,সুবল দেওঘরিয়ারা জানান, রাজার দেওয়া চাষের জমিতে চাষিরা ধান চাষ করলেও আগের মতো ধান দেয় না তারা মায়ের পুজোতে। তাই পূজোর সমস্ত আয়োজনের খরচ বর্তমানে তিনটি পরিবারকে বহন করতে হচ্ছে। যার ফলেই আর্থিক সংকটের কারণে হারিয়ে যেতে চলেছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য পূর্ণ অন্নপূর্ণা পূজোর আনন্দ। উদ্যোগক্তাদের আবেদন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দুর্গাপূজা কমিটি গুলিতে আর্থিক সাহায্য করেছেন ঠিক সেইভাবে এই প্রাচীন অন্নপূর্ণাপুজো উদ্যোগক্তাদের অর্থ সাহায্য করে এই প্রাচীন এই পুজো গুলিকে ঠিকিয়ে রাখুক। তবে শুধু রঘুনাথপুর মহকুমার ধানাড়া গ্রামে নয়, এই মহুকুমার নিতুরিয়া, কাশিপুর ও সাঁতুরি ব্লকের নবান্ন উৎসবে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো হয়ে আসছে। এবারও তার অন্যথা হয়নি।

ads

Mailing List