রাণী শিরোমনির ‘কর্নগড়’ রক্ষার আবেদন অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের

রাণী শিরোমনির ‘কর্নগড়’ রক্ষার আবেদন অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের
21 Jan 2021, 04:02 PM

রাণী শিরোমনির ‘কর্নগড়’ রক্ষার আবেদন অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কর্ণগড় এক ইতিহাস। এক বৃহৎ লড়াইয়ের সাক্ষী। এখন তো রাজনীতির ময়দানেও হাজির কর্ণগড়। কারণ, এবারের ভোটের লড়াইয়ে যে উন্নয়ন, অনুন্নয়ন, বেকারত্ব, রাস্তা, পানীয় জলের মতো ইস্যু উধাও। এখন মণীষীদের, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আসছেন যুযুধান দু’পক্ষই। সম্প্রতি মেদিনীপুর সফরে এসে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তো কর্ণগড়ও গিয়েছিলেন। পুজো দিয়েছিলেন মহামায়ার মন্দিরে।

 

কিন্তু সেই কর্ণগড়ের বর্তমান অবস্থা কেমন? রাণী শিরোমনির নেতৃত্বে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা অনেক সময় টেনে আনেন অনেকেই। চুয়াড় বিদ্রোহের কথা ফেরে মুখে মুখে। কিন্তু বর্তমানে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ আর ক’দিন যে সেই স্মৃতি বয়ে বেড়াতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্নটা ওঠেই। তার জন্য প্রয়োজন, সংরক্ষণের। প্রয়োজন রয়েছে সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও লিপিবদ্ধ করার। যাতে যে কোনও পর্যটক সেখানে গেলেই জানতে পারেন ইতিহাস। রাজ্য সরকার অবশ্য চুয়াড় বিদ্রোহ ও তাঁর নেত্রী রাণী শিরোমনির কর্ণগড় বাঁচানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে। তাই অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের এক প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানান কর্নগড়ের গড় ও মহামায়া মন্দির পুনরায় তৈরী ও সংস্কারের জন্য। তারই সঙ্গে বেশ কিছু দাবিও জানান তাঁরা।

রানী শিরোমনি স্বর্গীয় রাজা অজিত সিংহের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। তিনি বীরত্বের সঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। ইতিহাসে যা চূয়াড় বিদ্রোহ নামে খ্যাত। অনেক রাজপুত ক্ষত্রিয় সেনাপতি এবং সৈন্যরা স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এই যুদ্ধের নামকরণ হয় চূয়াড় বিদ্রোহ। কারণ, দ্বিতীয় রানী সমাজের নিম্নবর্গের "সরকার"  সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্তু সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উদ্দীপ্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

 

১৫৬৮ খ্রীস্টাব্দে রাজা লক্ষন সিংহ কর্নগড় গড়ের প্রতিষ্ঠা করেন। তারপরে আরও ছয়জন রাজা ১৭৫৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। অপুত্রক শেষ রাজা অজিত সিংহের দ্বিতীয় স্ত্রী রানী শিরোমনি ১৮১২ খ্রীস্টাব্দে চূয়াড় বিদ্রোহের আগে পর্যন্ত এই গড় রক্ষা করেন।

এমন একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত স্থানকে সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার সংস্কারের কাজ করায় ক্ষত্রিয় সমাজ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানিয়ে, শালবনির বিডিওর হাতে স্মারকলিপি দেন। যাতে তা জেলাশাসক থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছেযায়। আজ, বৃহস্পতিবার অখিল ভারত ক্ষত্রিয় সমাজের তরফে তন্ময় সিংহ, সন্দীপ সিংহ ও শুভাশিস সিংহ একটি লিখিত আবেদন দিয়ে এই গড়ের মৃত রাজাদের এবং সমস্ত বীর রাজপুত ক্ষত্রিয় যোদ্ধাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান।

এই গড়ের নামকরণ প্রথম রাজা লক্ষন সিংহ এর নামে করার আবেদন-সহ গড়ের নবনির্মিত কটেজগুলি বাকি পাঁচ রাজা শ্যাম সিংহ, ছটু রায়, রঘুনাথ রায়, রাম সিংহ, যশোবন্ত সিংহ, অজিত সিংহের নামে এবং মূল কটেজটি রানী শিরোমনির নামে করার দাবি জানান। এই গড়ের পদ্মপুকুর টি রাজার প্রথম স্ত্রীর নামে করার দাবিও জানানো হয়।

Mailing List