আগামীকাল থেকে শুরু জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

আগামীকাল থেকে শুরু জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
27 Dec 2020, 04:46 PM

আগামীকাল থেকে শুরু জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

আগামীকাল, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পুরুলিয়ার বিখ্যাত জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। করোনা বিধি মেনে এই উৎসব শুরু হতে চলেছে। তাই মেলার উদ্বোধনের আগে রবিবার দুপুরে রঘুনাথপুর থানার আইসি সঞ্জয় চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে মেলাপ্রাঙ্গন পরিদর্শনে আসেন পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত। মেলায় আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতে কোনরকম অসুবিধাতে পড়তে না হয়, সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। তাছাড়া গাড়ি পার্কিং নিয়েও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি মেলা কমিটির সদস্য ও পদাধিকারীরদের সঙ্গেও কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত।   

পর্যটকদের কাছে পুরুলিয়ার এই এলাকাটি 'হীরক রাজার দেশ' হিসাবে পরিচিত। আসলে জয়চন্ডী পাহাড়েই বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় হীরক রাজার দেশের শ্যুটিং করে ছিলেন। এরপর থেকে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পুরুলিয়ার এই এলাকা। পর্যটকরাও এই এলাকার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পুরুলিয়ায় ছুটে আসেন। এই পাহাড়কে ঘিরে শুরু হয় উৎসব।

পর্যটন উৎসব শুরু হতে এখন প্রহর গুণছে পর্যটক ও স্থানীয়রা। আগামীকাল সোমবার পড়ন্ত বিকেলেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন জয়চন্ডী পাহার উৎসবের। পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সত্যজিৎ রায় মঞ্চে ২০২০-২০২১ জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন করবেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। এবছর প্রয়াত কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ করার জন্য আলাদা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। আগামী পয়লা জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই উৎসব। এবছর পনেরোয়  পদার্পণ করবে উৎসবটি। করোনা পরিস্থিতির জন্য অন্যান্যবারের তুলনায় এবার মেলা নিয়ে মহকুমা প্রশাসন ও উৎসব কমিটি অনেকটাই বেশি সতর্ক। ফি বছরের মতো এবারও এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার জন্য ইতিমধ্যে বহিরাগত পর্যটকরা রঘুনাথপুরে এসে ভিড় জমিয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক দিব্যা মুরুগেশনের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসন ও মেলা কমিটির সদস্যদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এই পাহাড়কে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন ক্ষেত্র রূপে গড়ে তুলতে তৈরি হয়েছে কটেজ ও যুব আবাস।এছাড়া পূর্ত দফতর ২ কোটি ২২ লক্ষ টাকায় ট্যুরিস্ট মর্টালও তৈরি করেছে ।

উৎসব কমিটির পক্ষে তথা রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন মদন বরাট জানান, আজ থেকে চোদ্দ বছর আগে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর শহর সংলগ্ন জয়চন্ডী পাহাড়কে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে তুলে আনার জন্যই শুরু হয়েছিল জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব। তার দাবি, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই যা অন্য মাত্রা পেয়েছে। আজ এই উৎসবকে ঘিরেই মানুষ মেতে ওঠে অনাবিল আনন্দে। যার জন্য সারা বছরের অপেক্ষা পুরুলিয়াবাসীদের সঙ্গে রাজ্যবাসী এমনকি পাশ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের মানুষেরা। মূলত, চারটি বড় পাহাড় নিয়েই পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর শহর লাগোয়া জয়চন্ডী পাহাড় আপামর পর্যটকদের মন টানে। পশ্চিমবঙ্গে পাহাড়ে চড়া শেখার জন্য তিনটি আদর্শ পাহাড় আছে। এর মধ্যে একটি হল বাঁকুড়ার শুশুনিয়া এবং অপর দুটি পাহাড় হল পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের মাঠাবুরু ও রঘুনাথপুরের জয়চন্ডী পাহাড়। ইতিমধ্যে, পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের মাঠাবুরু অল ইন্ডিয়া ট্রেকিং এর ক্ষেত্রে স্বর্ণপদক পেয়েছে। অথচ ট্রেকিং বিশেষজ্ঞদের মতে রঘুনাথপুরের জয়চন্ডী পাহাড় ভারতবর্ষের অন্যতম সেরা ট্রেকিং ক্ষেত্র। গোটা পাহাড়টি চারটি শৃঙ্গঁ ও দুটি ডুংরি নিয়ে গঠিত। এই সমস্ত পাহাড়গুলি কঠিন গ্রানাইট পাথরের তৈরি। জয়চন্ডী পাহাড়টি শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে আছে একটি পাথরের উপর। ভূতাত্ত্বিকরা বলেন জয়চন্ডী পাহাড় একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি ।

উৎসব কমিটির সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, উৎসব ঘিরে পর্যটনের অঙ্গ হিসেবে হস্তশিল্পীদের বিশাল বাজার বসবে। রাজ্যের নানা কুটির শিল্পের পসরা মিলবে এই মেলায়। থাকবে ২০০টির বেশি স্টল। সেই সঙ্গে পর্যটকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য থাকবে নাগরদোলা,টয়ট্রেন। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে সত্যজিৎ রায় মঞ্চে কলকাতার নামি শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হবে।

জেলা আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়ায় ঠান্ডা পড়েছে এবার যথাসময়ে। সঙ্গে উত্তুরে হাওয়া, কুয়াশাও থাকবে। দুয়ে মিলিয়ে চাদরে-জ্যাকেটে একেবারে জবুথবু অনুভব করবেন জয়চন্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসবে আসা পর্যটকরা।

 

Mailing List