মেদিনীপুরে পাখির জগতে নয়া সংযোজন, এবার দেখা মিললো রিভার ল্যাপ উইং এর, তারই সঙ্গে ল্যাপ উইং পরিবারের সদস্য বেড়ে হল তিন

মেদিনীপুরে পাখির জগতে নয়া সংযোজন, এবার দেখা মিললো রিভার ল্যাপ উইং এর, তারই সঙ্গে ল্যাপ উইং পরিবারের সদস্য বেড়ে হল তিন
31 Oct 2022, 11:30 AM

মেদিনীপুরে পাখির জগতে নয়া সংযোজন, এবার দেখা মিললো রিভার ল্যাপ উইং এর, তারই সঙ্গে ল্যাপ উইং পরিবারের সদস্য বেড়ে হল তিন

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: মেদিনীপুর শহরের পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে কাঁসাই নদী। আর সেই নদী তীরবর্তী এলাকা এবং নিকটবর্তী গ্রামাঞ্চলে বহু পরিযায়ী পাখি আসে শীতকালীন অতিথি হিসেবে। তার কটা পাখিই বা জানা চেনা। এক কথায়, বেশিরভাগ অজানা। বিশেষত, আনকোরা মানুষের কাছে। অথচ, একটু উঁকি মারলেই নিত্যনতুন পাখির আনাগোনা দেখা যায়।

তবে এটাও ঠিক মেদিনীপুরের পাখি নিয়ে গবেষনা হয়নি এমন নয়। ২০২০ সালে মেদিনীপুর শহরের সমস্ত স্থানীয় এবং পরিযায়ী পাখিদের নিয়ে তিনজন গবেষক কাজ করেছেন। তাঁদের গবেষনালব্ধ ফলও প্রকাশ করেন বই আকারে। যার নাম ‘মেদিনীপুরের পাখি’। সেই বইতে ২৩৬ রকমের পাখির ছবি, বাংলা নাম এবং বিজ্ঞানসম্মত নামের উল্লেখ আছে। কেশপুর কলেজের গবেষক অধ্যাপক সুমন প্রতিহার এবং ছাত্র নিলয় মন্ডল মেদিনীপুর শহরের সমস্ত ব্লকে ঘুরে মেদিনীপুরের পাখি বইটি মলাটবন্দী করেছিলেন। কিন্তু এটি তো একটি চলমান বিষয়। তাই পাখির ইতিহাস ধরতে হলে নিত্য চোখ রাখতে হবে প্রকৃতির বুকে।

আর সেই কারণেই ২০২২ সালে মেদিনীপুরের পরিযায়ী পাখি সর্বেক্ষণের কাজ শুরু হয় অক্টোবর মাসে। অক্টোবর মাসের শেষ দিনে অধ্যাপক সুমন প্রতিহার তাঁর দলবল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সে দলে রয়েছেন নিলয় মন্ডল, রাকেশ ঘোষের ব্যক্তিরা। যাঁরা মেদিনীপুরের বন্যপ্রাণ নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন। এবারে দলে নতুন উৎসাহী সদস্য স্কুল ছাত্র অভিরূপ মুখার্জি। ক্লাস নাইনের অভিরূপের বন্যপ্রাণ এবং পাখি নিয়ে বিস্তর আগ্রহ দেখে অধ্যাপক তাকে পরিযায়ী পাখি সর্বেক্ষণের সদস্য করেছেন।

ছট পূজার দ্বিতীয় দিনে ভোর সাড়ে পাঁচটায় কাজ শুরু হয় বাঁধি অঞ্চলে। গবেষকরা জানালেন, বিস্তর কসরত করে পৌঁছানোর পরে দেখা মিলল বেশ কয়েক রকমের পরিযায়ী পাখির। লিটিল রিং প্লোভার, কমন স্যান্ডপাইপার, উড স্যান্ড পাইপার, গ্রীন স্যান্ড পাইপার, হোয়াইট ব্রড ওয়াগটেল, হোয়াইট ওয়াগটেল প্রভৃতি।

স্থানীয় বিভিন্ন বয়সের চিল, বিভিন্ন প্রজাতির বক এবং ব্রোঞ্জ উইং জাকানা, বড় ঠোঁট মাছরাঙ্গা, ঘুঘু, সাদা রংয়ের চিল বা কাপাসি, ধান ক্ষেতে সবুজে মিশে থাকা বাঁশ পাতি, ইতি-উতি ঘুরে বেড়ানো মুনিয়া তো রয়েছেই।

এত প্রজাতির স্থানীয় পরিযায়ী পাখি দেখা সত্বেও কিছু যেন অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছিল। বাঁধি অতিক্রম করে কঙ্কাবতী অঞ্চলের কাঁসাই এর বালিয়াড়িতে হঠাৎ অভিরূপের চোখ আটকে গেল সাদা রঙের একটা পাখিতে। নিলয়, রাকেশ তড়িঘড়ি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন পাখিটি কি তা চিনবার জন্য। অধ্যাপক সুমন তার সহ-গবেষকদের নিয়ে এই সিদ্ধান্তে এলেন পাখিটি আসলে রিভার ল্যাপউইং।

উৎসাহ ও আগ্রহ বাড়ে আরও অনেকটা। কারণ, মেদিনীপুরের কাঁসাই অঞ্চলে রিভার ল্যাপ উইং এর আগে দেখা মেলেনি। অন্তত এই গবেষকদলের চোখে। নিলয় বিস্তর ফটোগ্রাফির সঙ্গে ভিডিওগ্রাফি করে নেন। দলের নতুন এবং কনিষ্ঠ সদস্যের চোখমুখেও বিস্ময়। পাখিটির রূপে বাকি তিনজনের সঙ্গে মোহিত নবমের ছাত্রটি।

সুমনবাবুর মতে, মেদিনীপুরে ইয়োলো ওয়াটলেট ল্যাপ উইং, রেড ল্যাপ উইং এর দেখা আগেও মিলেছে। এবার দেখা মিললো রিভার ল্যাপ উইং। এই নিয়ে মেদিনীপুরে ল্যাপ উইং পরিবারের সদস্য বেড়ে হলো তিন।

Mailing List