একটি পূরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা  ‘আমিই সে’ / সপ্তম পর্ব

একটি পূরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা  ‘আমিই সে’ / সপ্তম পর্ব
04 Jul 2021, 01:22 PM

আমিই সে’

(একটি পূরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা)

 

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

সপ্তম পর্ব

 

তবে কি শিব আর ব্রহ্মা পৃথক!!

 

নাকি এগুলো সব কথার কথা, সর্বত্র ঐশ্বরিক মহিমা প্রচার করার উদ্দেশ্যে সদাসর্বদা এক বিভ্রান্তিকর তথ্য দিনের পর দিন আমাদের মন - মতির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে!!!

 

আসলে অতি অতি প্রাচীন কাল থেকেই সব ধর্ম পুস্তকে, তথা বেদ-এ সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু আমাদের চঞ্চল মন বহুতে --- বহু দেবতার রূপ-কল্প ভালোবাসে; দেব-দেবতাদের মধ্যে এক পারিবারিক সম্পর্ক-স্থাপন করে ওই আদর্শে নিজেদের জীবনের গতি স্থির করতে চায়।

 

কিন্তু সবই অলীক, বাস্তব-ভিত্তিহীন;

 

এটি ভুললে চলবে না যে, যিনি জগতের সৃষ্টি-কারী, তিনি এতগুলো দৈব সত্ত্বা নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরি করবেন কেন? তিনি করেন-ও নি; তাই তো রুদ্রোহৃদয়োপনিষদ বলছেন,

"যো রুদ্রঃ পঃবঙ্গ স্বয়ং ব্রহ্মা যো ব্রহ্মা স হুতাশনঃ।"

অর্থাৎ, 'যিনি রুদ্র তিনিই ব্রহ্মা, যিনি ব্রহ্মা--- তিনিই অগ্নিদেব।

আবার ওদিকে স্কন্দোপনিষৎ বলছেন:

"ওঁ নমঃ শিবায় বিষ্ণুরূপায় শিবরূপায় বিষ্ণবে।

শিবস্য হৃদয়ং বিষ্ণুঃ বিষ্ণুশ্চ হৃদয়ং শিবঃ।।"

 

যার অর্থ হলো: বিষ্ণু-রূপ-ধারী শিব ও শিব-রূপধারণকারী বিষ্ণুকে নমস্কার, শিবের হৃদয়ে বিষ্ণু, বিষ্ণুর হৃদয়ে শিব। একজনেরই দুই রূপ, বা দুয়ে মিলে এক রূপ।

 

একমাত্র অদ্বিতীয় সত্য-সনাতন ব্রহ্ম-ই জগতে বিদ্যমান। এই সংসারে নামরূপের কোনো পারমার্থিক সত্ত্বা নেই, এক রুদ্র-ই সমগ্র জগৎ-সংসারে অদ্বিতীয় পরম পদার্থ, বাকি সব অ-পদার্থ,  জড়, নন্বর ও ক্ষণস্থায়ী।

 

তাই অবলীলাক্রমে বলা চলে,

"একো রুদ্রো ন দ্বিতীয়োহবেতস্থে তস্মাদেকং ত্বাং প্রপদ্যে মহেশম্।"

খুবই অদ্ভুত ও কাকতালীয় ভাবে হরিহরব্রম্ভস্ত্রোত্রে বলা হয়েছে,

" জীবঃ শিবঃ শিবো জীবঃ স জীবঃ কেবলঃ শিবঃ।

তুষেন বদ্ধো ব্রীহিঃ স্যাৎ তৃষাভাবেন তন্ডুলঃ।।"

 

অর্থাৎ, 'জীবই শিব; শিবই জীব; সেই জীব-ই অদ্বিতীয় শিব। তূষের দ্বারা আবৃত থাকলে সে হয় ধান ; আর তুঁষ থেকে বার করে নিলে, তখন তা হয়ে উঠে ধান'

 

তবে শিব- ই পরম সত্য, অবিনাশচন্দ্র, স্বয়ম্ভূ।

শিব ভিন্ন শক্তি থাকতে পারে না, আর শক্তি ছাড়া শিব-ও থাকেন না। শিব তাই একত্রে অর্ধনারীশ্বর, ------- উমাশঙ্কর------- পুরুষ ও প্রকৃতির যুগলমিলন।

 

সুতসংহিতা তাই বলেছেন:

"ন শিবেন বিনা শক্তি র্ন শক্তিরহিতঃ শিবঃ।

উমাশঙ্করয়োরৈক্যং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি।। "

 

এই জগৎ তাই পুরুষ ও প্রকৃতির যুগলমিলন ফলস্বরূপ। স্ত্রী-রূপ ও পুরুষ-রূপের যৌথ প্রচেষ্টায় এই জগৎ আজ সমৃদ্ধ, আধুনিক ও অগ্রবর্তী।

(চলবে)

ads

Mailing List