প্রদীপ কুমার দাসের গুচ্ছ কবিতা

প্রদীপ কুমার দাসের গুচ্ছ কবিতা
30 Jan 2022, 01:00 PM

প্রদীপ কুমার দাসের গুচ্ছ কবিতা

 

 

মোম

 

তুমি আর আমি আসলে একটাই সুতো

                                                     বোঝোনি !

অভিযোগের আগুনে দুজনেই

                                        পুড়েছি

সুতোর দু দিকে আগুন

                                জ্বেলেছে

মোম অশ্রু হয়ে

                    গলেছে

তবে কি

           প্রেম

ছিল

      না।

........

 

ভালোবাসা মানে

 

ভালোবাসা মানে

               একটা হৃদয়ে জবরদখল

               একটা হৃদয়ে ঘূর্ণিঝড়।

ভালোবাসা মানে

               তুমি ছুঁয়ে দিলে

               থার্মোমিটার মাপে জ্বর।

--------

 

লক্ষ্মীর পদ চিহ্ন

 

তোমার বাড়ির চৌকাঠে আমি

এঁকে রেখে দিলাম লক্ষ্মীর পদচিহ্ন।

অভাব যাতে তোমায় কোনদিন স্পর্শ না করে।

 

বিত্তের সুখে তুমি ছারখার হয়ে যেও।

............

 

বড়দিন

 

সারাদিন আমাকে জড়িয়ে

ধরেছে শীতের সকালের

উত্তুরে হাওয়া

 

বড়দিন মানে পার্ক স্ট্রিট না

তোমাকে জড়িয়ে ধরে

চুমু খাওয়া।

______

 

অ পে ক্ষা . . . .

 

কোন দিকে যাব যখন বুঝতে পারিনা তখন নিশ্চুপ ও স্থির হয়ে দাঁড়াই। মনে মনে উবু দশ কুড়ি গুনি। তারপর যাত্রা শুরু করি। দিনের শেষে মনে হয়, এদিকে না এলেই বুঝি ভালো হতো। কিন্তু তখন আর ফেরার কোন উপায় থাকেনা। অপেক্ষা করতে থাকি রাত্রি শেষের। নতুন সূর্যোদয় যদি আমায় সঠিক রাস্তা বলে দেয়,সেই আশায় রাত্রির প্রহর গুনি।

.......

 

ভূগোল পরীক্ষা

 

আজ ভূগোল পরীক্ষা। দেশ কাল পাহাড় নদী গুলিয়ে একসা। আমার পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে দু'বার দুগ্গা দুগ্গা বলে মা কপালে হাত ঠেকালেন। মনের ভেতর ভয় হলে বরাবর আমার একটু শীত শীত করে। পরীক্ষার হলে সময়ের আগেই ঢুকে পড়লাম। শেষ মুহূর্তে বইয়ের পাতায় চোখ বোলাচ্ছি। দেশের মধ্যে দেশ তার মধ্যে রাজ্য। আল পথ, বেড়ার ঘর, মায়ের করুণ মুখ ভূগোল বইয়ের সমস্ত পাতা জুড়ে।

 

নির্দিষ্ট সময়ে খাতাও প্রশ্নপত্র পেলাম। ভাগ্যটা ভালো। সিটটা জানালার দিকে। প্রশ্নপত্র নেড়ে- চেড়ে খাতায় দুটো আচড় দিতেই একদল মেঘ জানালা দিয়ে আমার সাদা পাতায় হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল। খাতার উপরের অংশ জুড়ে জাকিয়ে বসল। আমার চোখের সামনে গত মাসে গল্প বইয়ে পড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘের মাঝে উঁকি দিল। একটু পরেই ঈশান কোণে লাল সূর্যোদয়। ক্যানভাস একটা নদীর খামতি, তা কি হয় কখন হয়! কখন যে এক দামাল নদী পাহাড় বেয়ে নেমে এসেছে বুঝতেই পারিনি! টলটলে নীল স্বচ্ছ জল। উঁচু-নিচু ঢেউ খেলানো পাথুরে জমি। চারিদিকে সবুজের হাতছানি।

 

কখন যে ঘণ্টা পড়ে গেল বুঝতেই পারিনি! মায়ের মুখটা মনে পড়তেই আমার দু'চোখ বেয়ে ঝরনা গড়িয়ে পড়ল।

------------‐------

 

থেকে গেল

 

একটা চুম্বন বাকি

থেকে গেল।

তোর আর আমার

আমার আর তোর।

 

একটা নুড়ি জগদ্দল

পাথর হয়ে গেল

 

শুধু আলগা একটা টোকা

দেওয়া হল না বলে।

............

অ ম ল কা ন্তি

 

বর্তমান কাগজের মাঝের পাতায় খুব ছোট করে একটা খবর।

কোলকাতার শেষ ছাপাখানাটা বন্ধ হয়ে গেল।অমল কান্তির গোটা যৌবনটাই কেটেছে ওই ছাপাখানার আঁধারে।

চোখে মোটা কাচের চশমা। তাও খবরের কাগজ পড়তে ম্যাগনিফাইং গ্লাসটা লাগে।

নিজের অজান্তে কয়েক ফোঁটা জল খবরের কাগজটাকে ভিজিয়ে দিল।

ছাপাখানার ঘরটা থেকে অবসর নিয়ে শেষ পর্যন্ত চিলেকোঠার ঘরটাতে নিজের ঠাঁই হয়েছিল।

রোদ্দুর তাঁর একদমই সহ্য হয় না।চোখে ঝাপসা দেখে।

 

বুকের বাঁদিকে পিন ফোটানোর মত ব্যাথা অনুভব করল অমল কান্তি।শীতের সকালেও ঘামে বিছানার চাদর ভিজে উঠল।হাত টা জলের গ্লাস পর্যন্ত আর পৌঁছালো না।ছয় ফুট বাই ছয় ফুট ঘরে খাটের পাশ থেকে হাত টা ঝুলে পড়ল।

 

চিলেকোঠার জানলার ফাঁক দিয়ে এক চিলতে রোদ্দুর অন্ধকারকে তখন ধুয়ে দিচ্ছে।

 

অমল কান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।

   ****

Mailing List