দামোদর বাঁধ থেকে ছাড়া হল  ১ লাখ কিউসেক জল, হাওড়া এবং হুগলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

দামোদর বাঁধ থেকে ছাড়া হল  ১ লাখ কিউসেক জল, হাওড়া এবং হুগলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
31 Jul 2021, 12:54 PM

দামোদর বাঁধ থেকে ছাড়া হল  ১ লাখ কিউসেক জল, হাওড়া এবং হুগলি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন :  পশ্চিমবঙ্গ  ছেড়ে এখন নিম্নচাপ অবস্থান করছে ঝাড়খন্ড রাজ্যের ওপরে। ফলে এখন ওই এলাকাতে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এই জেরে জল বাড়ছে রাজ্যের দামোদর, কংসবাতী সহ বিভিন্ন নদীতে।

বিভিন্ন জায়গার বৃষ্টিতে দামোদরের জলাধারের জল বেড়ে যাওয়ায় দুর্গাপুরের দামোদর ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়েছে। শনিবার ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৫ কিউসেক জল ছাড়া হয় এই দামোদর  ব্যারাজ থেকে। শুক্রবার জল ছাড়ার পরিমান ছিল ৪৭ হাজার ৬০০ কিউসেক। মাইথন, পাঞ্চেত ড্যাম থেকে আরও বিপুল পরিমাণ জলরাশি ঢোকার কথা দুর্গাপুর ব্যারেজে। ফলে এই জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে।

এমনিতেই গত তিন দিনের বৃষ্টিতে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়ার বেশ কিছু অঞ্চল জলমগ্ন হয়েছে। দামোদরের জল ছাড়ার পরিমান বাড়লে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্লাবিত হতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা।

দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে। এর মধ্যে হাওড়ার আমতা এবং উদয়নারায়ণপুর সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত শুক্রবার রেকর্ডভাঙা বর্ষণে এমনিতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যের হুগলি,  হাওড়ার একাধিক জায়গা। শুধুমাত্র বৃষ্টির জলেই বহু জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো ইতিমধ্যেই নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ায় নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ওই সব এলাকায়।

তবে, শুধু দামোদর নয়, ক্রমশ বাড়ছে মুকুটমনিপুর জলাধারে জলের স্তরও। জলাধারের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার রাত ৯ টা থেকে কংসাবতী নদীপথে জল ছাড়া শুরু করে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ। শুরুতে ৭ হাজার ৩০০ কিউসেক জল ছাড়া হলেও ধীরে ধীরে সেই মাত্রা বাড়িয়ে ১০ হাজার কিউসেক করা হয়েছে। গতকাল রাত্রে জলাধারে জলের লেবেল ছিল ৪৩২ ফুট। ব্যাপক হারে জলাশয়ে জল ঢুকে সেই লেবেল পৌছেছে ৪৩৫ ফুটে। জলাধারে প্রচুর পরিমানে জল প্রবেশ করছে তাই ধীরে ধীরে জল ছাড়ার মাত্রা বাড়ানোর কথা ভাবছে কংসাবতী কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে বুধবার রাত থেকেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয় রাজ্যে। টানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয় কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলা। বিভিন্ন নদী প্লাবিত হয়ে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু গ্রাম, চাষের জমি তলিয়ে গেছে জলের তলায়। ফলে, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শুধু দামোদর কিংবা কংসাবতীই নয়, রাজ্যজুড়ে অনেক জায়গাতেই বেড়েছে জলস্তর। কোথাও বা নদ-নদীর জলস্তর বিপদসীমার মধ্য দিয়ে বইছে। এর ফলে জলাধার কিংবা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়তে হচ্ছে।

শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে ভেসেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দুই নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই ব্লকের বসনছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আকতকোলা ও যদুপুরে  শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙে ফলে প্রায় ৫০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কেশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকাও জলমগ্ন। বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  ধসে গিয়েছে মাটির বাড়ি  গ্রামের মানুষকে উদ্ধার করার জন্য এনডিআরএফের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। বীরভূমেও অনেক জায়গায় জলমগ্ন। 

ads

Mailing List